Image description

নওমুসলিম কলেজ ছাত্রীকে ধর্মান্তরের দায়ে উঠিয়ে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নির্যাতনের ঘটনার তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত তার কোন হদিস মিলেনি‌। এতে নিরুপায় হয়ে গত ৬ এপ্রিল ভিকটিমের উদ্ধার চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন কলেজের একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম। যার মিচ মামলা নং ৪০/২০২৬ (ঈদগাঁও)।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কক্সবাজার অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঈদগাঁও থানা পুলিশকে এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার আদেশ দিলেও বিগত এক সপ্তাহ যাবত এ নিয়ে কোন অগ্রগতি না থাকায় ছাত্রীটির সহপাঠী ও শিক্ষকদের চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঈদগাঁও থানা পুলিশের এসআই আচিন্ত কুমার দে জানান, বিবাদীর বসতঘরে গেলেও ভিকটিম, বিবাদি পিতা- মাতা কারো হদিস পাননি। এক ছেলেকে পেলেও সে মা-বাবা এবং বোনের ঘরে না থাকার বিষয়ে কোন সুদুত্তর দিতে পারেননি। তার ধারণা হয়তো মা-বাবা ভিকটিমকে নিয়ে সরে গেছেন। এখনো রিপোর্ট দেননি, ভিকটিমের জবানবন্দি নেওয়ার চেষ্টায় আছেন জানান।

হতভাগী এ ভিকটিম নওমুসলিম তরুণী হচ্ছে চট্টগ্রাম হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের দর্শন বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী পূর্ব ধর্মনুযায়ী তন্নী দে রিপন্না (২২), বর্তমান ইসলামী নাম আয়েশা সিদ্দিকা জারা।

সে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড হিন্দু পাড়ার সঞ্জিত কুমার দে ও তাপসী দে দম্পতির কন্যা। তার পিতা সঞ্জিত কুমার দে ঈদগাঁও বাজারের মিয়াজী ফার্মেসী সম্মুখস্থ মোবাইল শপ ঘরের স্বত্বাধিকারী। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ঠিকানা হচ্ছে পার্বত্য আলি কদম উপজেলা সদরের ২৮৮ নং মৌজা হিন্দু পাড়া।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বী তন্নী দে রিপন্না (২২) কলেজে পড়ার সুবাদে মুসলিম সহপাঠীদের চাল চলন ও ইসলামী বিধিবিধানে আকৃষ্ট হয়ে সনাতনী হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে বিগত এক বছর পূর্বে পরিবারের অজান্তে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ইসলামী নাম আয়েশা সিদ্দিকা জারা ধারণ করে যথারীতি চট্টগ্রাম শহরে থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিল। নও মুসলিম তরুণী হওয়ার কারণে তার দেখাশোনা করত তারই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম। পরে কন্যার আচার ব্যবহারে পিতা মাতার সন্দেহ জাগে।

ইত্যবসরে গত ১ মার্চ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চট্টগ্রামে হাজির হয়ে আইনানুগভাবে এফিডেভিট মূলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। যার নম্বর ৯৬/২০২৬। ধর্মান্তরের সংবাদ পিতা-মাতা ও স্বজনরা জেনে গেলে তারা তার উপর ক্ষীপ্ত হয়। কৌশলে তাকে তাদের আয়ত্তে নেয়ার পাঁয়তারা করে।

এরই মধ্যে গত ২৮ মার্চ নও মুসলিম আয়েশা সিদ্দিকা জারা (তন্নী দে বিপন্না) চট্টগ্রাম থেকে ঈদগাঁওতে এসে বান্ধবীদের সাথে ৩/৪ দিন অবস্থান করে। এ সংবাদ পেয়ে ওৎপেতে থাকে তার হিন্দু পিতা-মাতা ও স্বজনরা।

সে যখন পরে চট্টগ্রাম ফিরে যেতে রাস্তায় বের হয় তারা তাকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যায়। বন্দী দশা থেকে সে ধর্মান্তর এর জেরে তাকে মা-বাবা ও স্বজন কর্তৃক তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনা বর্ণনা করে তাকে উদ্ধারে মেসেজ পাঠান বাদীর নিকট। এছাড়া পরে তার সাথে একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আইনের আশ্রয় নিতে বলেন।

পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে প্রাপ্ত বয়স্ক এ নওমুসলিম তরুণীর উপর অব্যাহত নির্যাতন, জীবনহানি ও পাচারের আশঙ্কা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধারে বাদী শহিদুল ইসলাম আদালতের আশ্রয় নেন বলে মামলার আর্জিতে উল্লেখ করেন।

শীর্ষনিউজ