প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপ এবং এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। দুই আসরেই অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার। এশিয়ার বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং শেখার দিকগুলো নিয়ে তিনি কথা বলেছেন সময় সংবাদকে।
আফঈদা জানান, সাফের তুলনায় এশিয়ান পর্যায়ের ফুটবল সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা। তার ভাষায়, “আমরা সাফে অনেকদিন খেলেছি, কিন্তু এশিয়ান মঞ্চে এসে বুঝেছি দলগুলোর ট্যাকটিকস, টেকনিকস একেবারেই আলাদা।”
তিনি বিশেষভাবে চীন, উত্তর কোরিয়া, উজবেকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব দল থেকে বাংলাদেশ অনেক কিছু শিখতে পেরেছে।
চীনের খেলা নিয়ে আফঈদা বলেন, “ওরা খুব পরিকল্পনা করে খেলে। ম্যাচে একেক সময় একেক ফরমেশন ব্যবহার করে, খেলার ধরণ বদলায়—এটা আমাদের জন্য বড় শিক্ষা।”
তবে মাঠে নামার পর বড় প্রতিপক্ষের নাম বা অর্জন মাথায় থাকে না বলেও জানান এই ডিফেন্ডার। তিনি বলেন, “জাতীয় সংগীত বাজলে তখন আর প্রতিপক্ষ মনে থাকে না। তখন শুধু দেশের জন্য ভালো কিছু করার চিন্তা থাকে।”
এশিয়ান কাপে দুই আসর মিলিয়ে ছয়টি ম্যাচ খেললেও এখনো জয় পায়নি বাংলাদেশ। তবে অনূর্ধ্ব-২০ আসরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় জয় ছুঁয়ে ফেলেছিল লাল-সবুজরা। ৬৮ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের ভুলে ৩-২ গোলে হারতে হয় দলটিকে।
এই অভিজ্ঞতা নিয়ে আফঈদা বলেন, “সাফে আমরা লিড নিলে ম্যাচ শেষ করতে পারি, কিন্তু এশিয়ান পর্যায়ে সেকেন্ডের মধ্যে খেলা বদলে যায়।”
তার মতে, এ পর্যায়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো মনোযোগ ধরে রাখা। “একটা ভুলেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই মানসিকভাবে আরও শক্ত হতে হবে,” বলেন তিনি।
আফঈদা খন্দকার মনে করেন, এশিয়ান মঞ্চের এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নারী ফুটবলের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
শীর্ষনিউজ