Image description

রাজধানীতে একের পর এক তরুণীকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল করা ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ রাশেদুল ইসলাম রাব্বিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টানা দুই দিনের চেষ্টার পর রিকশাচালকের ছদ্মবেশে সোমবার রাতে দনিয়া কলেজের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃত রাশেদুলের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার পুরান কামারগাঁও এলাকায়। বর্তমানে সে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিল।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত রাশেদুল মিরপুর এলাকার ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের টার্গেট করত। সে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে তাদের মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিত। পরে সেই ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভুক্তভোগীদের পরিচয়ে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। এমনকি মেয়েলি কণ্ঠে কথা বলে নতুন ভিকটিমদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করত। একপর্যায়ে উপহার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ সংলগ্ন বিভিন্ন বাসায় নেওয়া হতো। সেখানে ভিকটিমদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখত।

পরবর্তীতে ভিকটিমদের সাথে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিত। ধারণকৃত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল বা পর্ন সাইটে আপলোড করার হুমকি দিয়ে ভিকটিমদের পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করত এবং নিয়মিত টাকা আদায় করত।

শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে ওই ডিভাইস ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নতুন টার্গেট নির্বাচন করে একই কৌশলে অপরাধ চালিয়ে যেত। এভাবে একের পর এক ভুক্তভোগীকে ফাঁদে ফেলে অপরাধের জাল বিস্তার করছিল অভিযুক্ত রাশেদুল।

পুলিশ আরও জানায়, এখন পর্যন্ত দুইটি বাসার সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের নিয়ে যাওয়া হতো। পুরো ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ এসব ঘটনার প্রথম অভিযোগ পাওয়া যায় এবং সবশেষ ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এ ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং চারটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে।

ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, অভিযুক্তের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার কাছ থেকে আরও তথ্য পেতে রিমান্ড আবেদন করা হবে। মিরপুর মডেল থানায় এ ধরনের আরও একাধিক জিডি রয়েছে, যেগুলো তদন্তাধীন।