ময়মনসিংহের ভালুকায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলি ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছেলের গুলিতে বাবা খোকা মিয়া গুলিবিদ্ধসহ ২ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জামিরদিয়া নারিশের গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত খোকা মিয়া উপজেলার জমিরদিয়া মাস্টার বাড়ি এলাকার আব্দুল মিয়ার ছেলে। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। খোকা মিয়ার ছেলের নাম তোফায়েল আহমেদ রানা, তিনি উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়ন যুবদল নেতা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খোকা মিয়া ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর সমর্থক ছিলেন। আর খোকা মিয়ার ছেলে তোফায়েল আহমেদ রানা ছিলেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র হরিণ প্রতীকের প্রার্থী মো. মোর্শেদ আলমের সমর্থক। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে নির্বাচনের পর থেকে বন্ধ থাকা নারিশের মোড়ের রাজনৈতিক কার্যালয় খুলে বসেন ছেলে তোফায়েল আহমেদ রানা। বিষয়টি বাবা দেখতে পেয়ে কার্যালয় বন্ধ করতে বলেন। এ নিযে বাবা-ছেলের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছেলে রানা বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন এবং রানার সঙ্গীরা খোকা মিয়ার সঙ্গে আসা লোকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন। এ সময় দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা চেয়ার টেবিল ভাঙচুরও করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় ২ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে গুলিবিদ্ধ খোকা মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনি দ্বন্দ্বে আহত অবস্থায় খোকা নিয়া নামে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। খোকা মিয়ার শরীরে কোপ ও গুলির চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাবা-ছেলের সংঘর্ষের ঘটনায় ২ জন আহত হয়েছে। তাদের মাঝে খোকা মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।