বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। এবার সেই অপরাধে ফাঁদে পড়েছেন বিএনপি নেতা।
রাজশাহীর ওই বিএনপি নেতা মামলায় অভিযোগ করেছেন, ভোটকেন্দ্রে হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। তবে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, যে দিন তিনি ভোটকেন্দ্রে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন, সেদিন তিনি ছিলেন কারাগারে।
মিথ্যা মামলার দায়ে বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে জরিমানা পরিশোধ না করলে এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলায় কারাভোগ করা দুই আসামিকে দেওয়া হবে জরিমানার অর্থ।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক মো. সাদ্দাম হোসেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সাজ্জাদ হোসেনের (৪৬) বাড়ি পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজশাহী মেট্রোপলিটন (আরএমপি) পুলিশের দামকুড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সাজ্জাদ হোসেন।
এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হন। হুমকি পান প্রাণনাশের। মামলায় আসামি করা হয়, হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলে রেজভী আল হাসান মুঞ্জিলসহ আওয়ামী লীগের ১৩ জন নেতা-কর্মী।
মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। আদালতে প্রমাণিত হয়, ঘটনার দিন সাজ্জাদ হোসেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। ফলে তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক আব্দুর রফিক জানান, মিথ্যা মামলা দায়েরের কারণে আদালত সাজ্জাদ হোসেনকে জরিমানা করেছেন ১ লাখ টাকা। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করা দুই আসামি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার অর্থ পাবেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সাজ্জাদ হোসেনকে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে ৭ দিনের মধ্যে। এ সময়ে জরিমানার ব্যাংক চালানের কপি জমা দিতে হবে আদালতে। অন্যথায় তার এক মাসের কারাদণ্ড।
এ বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, তিনি জরিমানার রায় পেয়েছেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে সময় বেঁধে দিয়েছেন আদালত।
মামলাটি মিথ্যা কি না জানতে চাইলে স্বীকার করেন তিনি।