জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের রায় রক্ষাসহ ৩ দাবিতে আমরণ অনশনে বসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪ -২৫ সেশনের সাকিবুর রহমান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন শাহীন আমরণ অনশনের অর্ধশত ঘণ্টা পার হলেও দাবি পূরণের ব্যাপারে এখনো কোনো আশ্বাস মেলেনি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের অনশনের ৫০ ঘণ্টা পার হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিধ্বস্ত শরীর নিয়ে শুয়ে আছেন অনশনকারীরা। তাদের আশেপাশে বেশ কয়েকজন পাখা হাতে বাতাস করছেন। তাদের সাথে সংহতি জানাতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসছেন।
এদিকে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ ও ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা।
শহিদ পরিবার ও রাজনৈতিক নেতবৃন্দের সংহতি
এদিকে ঢাবি শিক্ষার্থীদের এই অনশনে সংহতি জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও জুলাইয়ের শহিদ পরিবারের সদস্যরা। বুধবার রাতে রাজু ভাস্কর্যে উপস্থিত হয়ে ডাকসুর পক্ষ থেকে অনশনকারীদের সাথে সংহতির ঘোষণা দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
পরদিন দুপুরে রাজু ভাস্কর্যে উপস্থিত হয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক। একই দিন রাত দশটায় সংহতির ঘোষণা দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।
এ সময় তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় নিয়ে মতপার্থক্যের কোনো অবকাশ নাই। বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে, সেখানে যদি কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য সংস্কারকে পাশ কাটানো হয়, সেটা বাংলাদেশের মানুষ মানবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বারবার বলার চেষ্টা করেছি, আমাদের যে সাংবিধানিক কাঠামো—এই কাঠামোটা হলো ফ্যাসিস্ট কাঠামো। এখন আপনি তারেক জিয়াকে বসান, শেখ হাসিনাকে বসান, যাকে ইচ্ছা তাকে বসান না কেন, সেই ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবে। এজন্য আমাদের সিস্টেমটা পরিবর্তন করতে হবে। এই সিস্টেম পরিবর্তনের জন্যই যারা শহীদ হয়েছে, তারা রাজপথে নেমেছিল।’
একইদিন রাত ১২টায় সেখানে উপস্থিত হয়ে সংহতি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে পাবনা-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান।
এছাড়াও, শুক্রবার বিকেলে অনশনে সংহতি জানিয়ে শহিদী সমাবেশ পালন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।
অনশনরত শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি
অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো–
১. গণভোট নিয়ে নাটকীয়তা বন্ধ করে গণভোটে উল্লিখিত বিষয়গুলো সংসদে উত্থাপন ও জনরায়কে বাস্তবায়ন করা।
২. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা।
৩. গণভোটে উল্লিখিত বিষয়গুলোর বাইরে জুলাই সনদে উল্লিখিত অপরাপর বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রকাশ করা।