Image description

বিএনপি জুলাই গণ‌অভ্যুত্থানের আয়নায় নিজেদের ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।

 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত সংস্কার আলাপে এ মন্তব্য করেন তিনি। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে ‘সংবিধান ও সংস্কার: নতুন বাংলাদেশ নাকি পুরোনো ফ্যাসিবাদ’ শিরোনামে সংস্কার আলাপ হয়।

 

বিএনপির বিচ্যুতিতে তাদের চেয়ে জনগণই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘বিএনপির ভুল সিদ্ধান্তের সাফার বিএনপির চেয়ে আমাদের বেশি করতে হয়। বিএনপি যখন ৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বুঝে না, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসমান থেকে পড়েছে’—এই জাতীয় কথাবার্তা বলত, তখন আমরা দেখছিলাম, বিএনপি পতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিএনপিকে সে বিষয়টি তেমন কষ্ট দেয়নি, আমাদের যেমন দিয়েছে।’

 

৮০ থেকে ৯০ শতাংশ প্রবাসী বিএনপির প্রতি প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ বলে জানান মামুনুল হক। তিনি বলেন, বিএনপির বড় একটি শক্তির জায়গা ছিল সারা পৃথিবীর প্রবাসীরা। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অংশীজন প্রবাসীদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এখন বিএনপির প্রতি প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ।

 

তার মতে, টোটাল জেনজি প্রজন্ম—৩৫ বছরের নিচে যাদের বয়স—প্রায় সবাই বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

 

গণভোটের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণভোটকে অসাংবিধানিক বলছেন এখন। জুলাই সনদ পাস হ‌ওয়ার পর ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদকে আনচ্যালেঞ্জেবল একটা জায়গায় সংবিধানে স্থান দেওয়ার জন্য যখন আলোচনা চলছিল, তখন তো সুস্পষ্টভাবেই সালাহউদ্দিন আহমদ গণভোটকে শুধু সমর্থন জানাননি, বরং এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তখন তো মনে হয়নি, এটা আনকনস্ট্রিউশনাল! এখন এসে কেন মনে হলো?’

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বিএনপি চব্বিশের আয়নায় নিজেদের ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না। এ দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে তারা বিপ্লবের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। বিএনপির দিকে তাকিয়ে ছিল যে, বিএনপির নেতারা এই বিপ্লবের জন্য জনগণকে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু বারবার এই নেতৃত্বের কাছ থেকে কাপুরুষতাসূলভ আচরণ পেয়েছে। তারা বলত, ‘ঈদের পর আন্দোলন হবে। সেই ঈদের চাঁদ উঠেনি। আন্দোলনও হয়নি।’ তখন ছাত্র-জনতা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছে। তাদের নেতৃত্বে অভূতপূর্ব সেই জুলাই বিপ্লব হয়েছে।’

 

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, ‘২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশের আগের দিন আমরা কারাগারে রোজা রেখে দোয়া করেছি। আমরা ভেবেছিলাম, ২৮ অক্টোবর ভালো কিছু দেখব। এরপর যখন মিডিয়ায় বিএনপির কাপুরুষতার সর্বশেষ প্রদর্শনী দেখলাম, তখন দুঃখে হৃদয় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।’