Image description

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ফলাফল শিটে আগাম স্বাক্ষর নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাতলি নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে এই অনিয়ম ধরা পড়ে।

জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন যে, ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফল শিট অর্থাৎ ফরম ১৬-তে আগাম স্বাক্ষর গ্রহণ করছিলেন। নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনার ভিত্তিতে এই ফরম পূরণ করে স্বাক্ষর নেয়ার কথা থাকলেও তা সকালেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা নূর ইসলাম, যিনি পেশায় সরকারি আজিজুল হক কলেজের রসায়ন বিভাগের একজন শিক্ষক। শুরুতে তিনি দাবি করেন যে, কাজের চাপ কমাতে এবং সময় সাশ্রয় করতে আগেভাগে স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিলেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট ও সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি মেনে নেন যে, ফলাফল নির্ধারণের আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী।

এই ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত হন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক। তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে ফরম-১৬ জব্দ করেন এবং উপস্থিত সকলের সামনে সেগুলো ছিঁড়ে ফেলেন। ম্যাজিস্ট্রেট স্পষ্টভাবে জানান যে, আগাম স্বাক্ষর নেয়ার এই ঘটনাটি একটি গুরুতর প্রশাসনিক বিচ্যুতি। তিনি ওই প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন।

তবে সদর নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা জায়েদ ইবনে আবুল ফজল বলেন, ‘তিনি কোনো অপরাধ করেননি। এটি একটি ভুল মাত্র।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোট হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দু’টি আসনে নির্বাচিত হন। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসন তিনি ছেড়ে দেয়ায় এখন সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে।

এ আসনে প্রার্থী তিনজন। তারা হলেন–বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি-বিডিপির মো. আল-আমিন তালুকদার।