শেরপুর-৩ আসনে আজ ভোটগ্রহণ করা হবে। একই দিন বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনি প্রচারে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে ভোটগ্রহণের সময়ে কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এ আশঙ্কা করেছে দুটি গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় রাজনীতিকরা। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ আসনের পূর্ববর্তী উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় কিছু এলাকায় চাপা অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেইড কনটেন্ট ছড়িয়ে জনমত দলের পক্ষে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অবশ্য বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ভোটগ্রহণ বিষয়ে পালটাপালটি অভিযোগ করেছেন।
বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, নির্বাচনি এলাকা অনেকটা শান্ত। তবে ভোটগ্রহণ নিয়ে মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের মতো ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ নেই। ইসি জানিয়েছে, এ নির্বাচনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৮-৯ জন অস্ত্রধারী পুলিশ ও আনসার সদস্য পাহারায় থাকবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ সংসদীয় আসন। এর মধ্যে শ্রীবরদী উপজেলা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদুর রহমানের বাড়ি এ উপজেলায়। এ আসনের ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭২টি এ উপজেলায় অবস্থিত। এর মধ্যে ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ। চার লাখ ১০ হাজার ভোটারের দুই লাখ ৫২ হাজার ভোটার এ উপজেলায়। তারা বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করা হতে পারে-এমন আগাম খবরের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান টহল রয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনও বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে নির্বিঘ্নে হয়েছে, তারচেয়ে এ নির্বাচন আরও ভালো হবে বলে আমরা আশা করছি। মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশঙ্কা থাকতেই পারে। তবে সেই আশঙ্কা যাতে বাস্তব রূপ না দেয়, সেজন্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বগুড়া-৬ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন। এ আসনে বিএনপি প্রার্থীর জয় অনুমান করা যাচ্ছে। এ কারণে ওই আসনে ভোট নিয়ে তেমন শঙ্কা নেই। অপরদিকে শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে কঠিন লড়াই হওয়ার আভাস রয়েছে। এছাড়া এ আসনে নির্বাচনি সহিংসতায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব বিবেচনায় শেরপুর-৩ আসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিতর্ক হোক-ইসি তা চায় না।
বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনের প্রধান দুই প্রার্থী বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান একে অপরের বিরুদ্ধে পালটাপালটি অভিযোগ করেছেন। বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামায়াতের কিছু সমর্থক উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছে। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ, বিএনপি নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করছে। তবে দুই প্রার্থী সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ী হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, প্রশাসন থেকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তাতে আমি সন্তুষ্ট। আমি সরকারদলীয় প্রার্থী, তাই সরকারের গায়ে যেন কোনো কালি লেপন না হয় সেজন্য সতর্ক আছি। তবে জামায়াতের প্রার্থী এবং তার কিছু সমর্থক উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছেন এবং উগ্র কথাবার্তা বলছেন যেন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। অপরদিকে মাসুদুর রহমান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করবে বলে শোনা যাচ্ছে। আমি প্রশাসনকে আমার আশঙ্কার কথা জানিয়েছি। প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আমাকে আশ্বস্ত করেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ভোটের আগে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান (বাদল) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার আগে শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে এ উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিম মারা যান। আইন অনুযায়ী বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি এ আসনে ভোটগ্রহণ হয়নি। আজ এ আসনে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে।