চুক্তি অমান্য করে লেবাননে ভয়াবহ হামলার প্রতিক্রিয়ায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, নেতানিয়াহুর মানুষের জীবন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা অসহনীয়।
ইসরায়েলি এই হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৬৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সামজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স বার্তায় সানচেজ লিখেছেন, ঠিক আজকেই নেতানিয়াহু লেবাননের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে নিন্দনীয় হামলা চালিয়েছেন। মানুষের জীবন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তার অবজ্ঞা অসহনীয়।
তিনি আরও বলেন, স্পষ্টভাবে কথা বলার সময় এসেছে: লেবাননকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আন্তর্জাতিক আইনের এই লঙ্ঘনের নিন্দা জানাতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) অবশ্যই ইসরায়েলের সঙ্গে তার ‘অ্যাসোসিয়েশন এগ্রিমেন্ট’ স্থগিত করতে হবে এবং এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের জুনে স্বাক্ষরিত ‘ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন এগ্রিমেন্ট’ হলো ইসরায়েলের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের আইনি ভিত্তি। এটি উভয় পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি আইনি কাঠামো প্রদান করে।
লেবাননে শোক দিবস ঘোষণা
ইরানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলা দুই শতাধিক নিহতের ঘটনায় লেবানন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শোক দিবস ঘোষণা করেছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সালামের কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে লেবাননের সকল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পদ সচল করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শোক দিবস উপলক্ষে সকল সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকবে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, তারা লেবাননের জনবহুল এলাকায় বিধ্বংসী হামলায় মৃত্যু এবং ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় ক্ষুব্ধ।
তবে তাদের বিবৃতিতে এই হামলার জন্য কে দায়ী তা উল্লেখ করা হয়নি। আইসিআরসি বলেছে, লেবানিজ চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে হতাহতদের সহায়তা দিতে স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।
লেবাননে আইসিআরসির প্রতিনিধি দলের প্রধান অ্যাগনেস ধুর বলেন, লেবানবাসী একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু প্রাণঘাতী হামলার ঢেউ দেশটিকে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিমজ্জিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, অনেকে ঘরে ফেরার কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন, তারা এখন প্রিয়জনদের খোঁজে অথবা নিরাপত্তার আশায় রাস্তা ও হাসপাতালে ছুটছেন।