যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের দেওয়া ১০ দফার প্রস্তাবের তিনটি আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
এর মধ্যে গালিবাফ একটি সমঝোতার কথা উল্লেখ করেন তিনি—যা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও ব্যক্ত করেছিলেন—যুদ্ধবিরতির আওতা লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
গালিবাফ বলেন, একটি ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে, যা আকাশসীমা লঙ্ঘন না করার শর্তটির ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’। এছাড়া ১০ দফার পরিকল্পনায় ইরানের ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার’ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তিনি বলেন, আলোচনার জন্য যে ‘কার্যকর ভিত্তির’ কথা বলা হয়েছিল, তা আলোচনা শুরুর আগেই প্রকাশ্য ও স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা অযৌক্তিক।
এদিকে, হোয়াইট হাউস বলছে, ইরানকে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে– ট্রাম্পের এ দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত শর্ত হিসেবে বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি লেভিটের একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেছেন।
ভিডিওর ক্যাপশনে বাঘাই লিখেছেন, ‘এটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সময়ের আগেই শর্ত ভঙ্গের ঘটনা না হয়, তবে এটি কী?’
বাঘাই এক্সে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের দেওয়া একটি পোস্টও শেয়ার করেন। যেখানে বলা হয়েছিল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ‘লেবাননসহ সব জায়গায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে’।
শান্তি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার জন্য ইসরায়েলকে দুষছে তুরস্ক
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নেতানিয়াহু সরকার ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাগুলোকে নস্যাৎ করা অব্যাহত রেখেছে’।
মন্ত্রণালয় লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলারও নিন্দা জানিয়েছে, যা দেশটির ‘মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে’।
লেবাননে ইসরায়েলের ‘দখলদারিত্বের’ অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ইসরায়েল লেবাননের ১৪ শতাংশ এলাকায় সতর্কতা ও বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার হুমকি জারি করেছে এবং ইসরায়েলি সীমান্তের কাছে লেবাননের গ্রামগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে।
জীবন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি নেতানিয়াহুর অবজ্ঞা অসহনীয়: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী
লেবাননে দফায় দফায় চালানো হামলার পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘জীবন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা’ প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন।
এক্সে সানচেজ লিখেছেন, ‘ঠিক আজকেই নেতানিয়াহু লেবাননের ওপর এই অভিযান শুরুর পর থেকে তার সবচেয়ে কঠোরতম হামলাটি চালালেন। জীবন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তার এই অবজ্ঞা একেবারেই অসহনীয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন স্পষ্টভাবে কথা বলার সময় এসেছে, লেবাননকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
সানচেজ আরও দাবি করেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের এই নতুন লঙ্ঘনের নিন্দা জানাতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অবশ্যই ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করতে হবে। এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য কাউকে যেন বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দেওয়া না হয়।’
২০০০ সালের জুন মাসে স্বাক্ষরিত ইইউ-ইসরায়েল সহযোগিতা চুক্তি হলো ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের আইনি ভিত্তি। এটি এই জোট ও ইসরায়েলের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করে।