Image description

ইসরায়েলে পরমাণু হামলা করতে চেয়েছিল পাকিস্তান ও চীন। দুই বিশ্লেষক ভিক্টর ঝিকাই গাও ও সেনক উইগার এ দাবি করেছেন। তারা জানিয়েছেন, যদি ইরানে ইসরায়েলি সেনারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা করত, তবে এটার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হতো মারাত্মক। কারণ, তখন পাকিস্তান ও চীন ওই জায়নবাদী দেশটিতে পরমাণু হামলা করত।

 

বুধবার (৮ এপ্রিল) দ্য ইকোনমিক টাইমের বিশ্লেষণে এসব বিষয় জানা গেছে।

 

ভারতীয় গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পর আজ ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এই সংঘাতকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে। এই টানা লড়াই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। যুদ্ধের চরম মুহূর্তে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাই-প্রোফাইল দুই ব্যক্তির মন্তব্য এক অস্বাভাবিক আলোচনার জন্ম দেয়: এই সংঘাত কি পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে? বিশেষ করে উত্তেজনা বাড়লে চীন এবং পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

 

বিশ্বের দুই প্রান্ত থেকে আসা দুটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওগুলোতে একটি সাধারণ সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল: এই সংঘাতের কোনো পর্যায়ে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হলে তার ফলাফল যুদ্ধক্ষেত্রের সীমানা ছাড়িয়ে যাবে। বেইজিংয়ের ভিক্টর ঝিকাই গাও এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনক উইগার-এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে কথা বললেও তারা একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

 

 

ভিক্টর গাও-এর সতর্কবাণী: পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার হবে ভূ-রাজনৈতিক আত্মহনন

 

বেইজিংভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক 'সেন্টার ফর চায়না অ্যান্ড গ্লোবালাইজেশন'-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ভিক্টর গাও তার ভিডিওতে বিষয়টিকে সামরিক হিসাবের চেয়ে ভূরাজনৈতিক বাঁক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইসরায়েল যদি কোনো দেশের বিরুদ্ধে, এমনকি ইরানের বিরুদ্ধেও একটি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে সেটি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের পতন ডেকে আনবে।’ গাও-এর মতে, পারমাণবিক অস্ত্রের প্রথম ব্যবহার ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক অবস্থান, মিত্রতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এমনভাবে বদলে দেবে, যা দেশটির অস্তিত্বের জন্যই হুমকিস্বরূপ হবে।

 

সেনক উইগারের ভাষ্য: ধারাবাহিক হামলার আশঙ্কা

 

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক 'দ্য ইয়াং টার্কস'-এর প্রতিষ্ঠাতা সেনক উইগার একটি ধারাবাহিক উত্তেজনা/ হামলার আশঙ্কার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, চীন এবং পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছে যে ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে তারাও একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। উইগার মার্কিন এবং ইসরায়েলি নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘চীন এবং পাকিস্তান স্পষ্ট করেছে যে ইসরায়েল যদি ইরানকে পারমাণবিক আক্রমণ করে, তবে তারা ইসরায়েলকে আক্রমণ করবে। আমরা এখন একটি পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।’

 

কারা এই ভাষ্যকার?

 

ভিক্টর ঝিকাই গাও: তিনি একজন স্বনামধন্য আইনজীবী এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞ। যদিও তিনি সরকারের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র নন, তবে তার মতামতাকে প্রায়ই চীনা নীতিনির্ধারকদের প্রভাবশালী চিন্তাধারার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।
সেনক উইগার: যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রগতিশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত।

 

এই দুই ব্যক্তির মন্তব্য বিশ্বজুড়ে মনোযোগ কেড়েছে। কারণ, এমন এক সময়ে এগুলো সামনে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতায় তেলের বাজার টালমাটাল ছিল। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এই যুদ্ধবিরতি আপাতত স্থিতিশীলতা আনলেও পারমাণবিক সংঘাতের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে থাকবে।