২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ঘরের আসবাবসহ সবকিছুই হারিয়েছিলেন হাফিজুর রহমান। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে গত দুই বছর দিনরাত এক করে পরিশ্রম করেছেন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন নতুন একটি ঘর। ইচ্ছা ছিল কয়েক দিন পরেই পরিবার নিয়ে নতুন ভিটায় উঠবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দিল কালবৈশাখী।
মঙ্গলবার গভীর রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঝড়ে গাছ পড়ে হাফিজুর রহমানের নবনির্মিত ঘরটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।
হাফিজুর রহমান স্থানীয় ওয়ার্ড কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। এক বছর আগে বাবাকে হারিয়েছেন। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে তার টানাপোড়েনের সংসার। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবাই আলাদা থাকলেও হাফিজুর বৃদ্ধ মায়ের দায়িত্ব আগলে রেখেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত হাফিজুর রহমান জানান, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সোনালী ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা এবং ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প থেকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নতুন ঘরটি নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে তারা পুরোনো একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন।
তিনি বলেন, ফজরের নামাজের পর হাঁটতে বেরিয়ে দেখি নতুন ঘরের ওপর গাছ পড়ে সেটি মাটির সঙ্গে মিশে আছে। যে বেতন পাই, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। এখন ঋণের কিস্তি দেব নাকি নতুন করে ঘর তুলব।
প্রতিবেশী মোহাম্মদ শরীফ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে ঘরটি তৈরি করছিলেন হাফিজুর। তার সহায়-সম্বল বলতে এই বসতভিটাটুকুই। চোখের সামনে তিলে তিলে গড়া ঘরটি ধ্বংস হতে দেখে মানুষটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী আবেদন করলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। সরকারি বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।