Image description

জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আশরাফুল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচের পর আদালত থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় হুড়োহুড়িতে পড়ে যান শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ সময় ব্যথায় চিৎকার করে ওঠেন তিনি। তার সাথে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও পড়ে যান।

 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিঁড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য দ্রুত টেনে তোলেন।

 

আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

 

এদিন দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহসীন উদ্দীন তার দুই দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

 

বেলা ১ টা ৫৫ মিনিটের দিকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। রিমান্ড শুনানিকালে বিকেল ৩ টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়। এজলাস কক্ষ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

 

কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান শিরীন শারমিন। এসময় কয়েকজন আইনজীবী তাকে সালাম দেন। হাত উঁচিয়ে সালামের উত্তর দেন শিরীন শারমিন। এর মিনিটখানেক পর বিচারক জুয়েল রানা এজলাসে ওঠেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই আসামি ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী। তিনি বিনা ভোটে নির্বাচিত এমপি ছিলেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন উপকারভোগী। এ মামলায় তিনি এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি। এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ মামলার ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া এই ঘটনার সাথে আর কারা জড়িত ও আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ জন্য তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।

 

শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষে অ্যাডভোকেট ইবনুল কাওসার এবং এ বি এম হামিদুল মেজবাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

 

ইবনুল কাওসার বলেন, এ মামলায় ১৩০ জন আসামি যার মধ্যে শিরীন শারমিন ৩ নম্বর আসামি। মামলায় শুধু তার নামটাই রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। ঘটনার ১০ মাস পর এ মামলা করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, শিরীন শারমিন চৌধুরী সরাসরি পদত্যাগপত্র জমা দেন। আর কাউকে কিন্তু এমনটা করতে দেখা যায়নি। বাদীর গুলি লেগেছে। তার জন্য আমাদের সহানুভূতি আছে। কিন্তু তিনি তো সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি রানিং স্পিকার। তার যেতে হলে তো প্রোটোকল নিয়ে যেতে হবে। এ ধরনের মামলা ছাড়া তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।

 

অসুস্থ, বয়স্ক লোক উল্লেখ করে এ আইনজীবী বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকলে শরীরের যা হয়। তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।

 

আসামি পক্ষের আরেক আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মেজবাহ বলেন, যখন কেউ স্পিকার হিসেবে শপথ নেন, তখন আর দলীয় কোনো পদ থাকে না। তিনি নিউট্রাল হয়ে যান। ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শুনানি নিয়ে আদালত তার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

 

বিকেল ৩ টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে আবার সিএমএম আদালতে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় আওয়ামীপন্থি কয়েকজন আইনজীবী জয় বাংলা স্লোগানসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তাকে একটু তাড়াহুড়ো করে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নেওয়ার পথে তাড়াহুড়োতে সিঁড়িতে পড়ে যান তিনি। ব্যথায় চিৎকার দিয়ে ওঠেন। কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও তার সাথে পড়ে যান। পরে তাকে টেনে তোলা হয়। সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

 

এদিকে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও নিজেরা আলাপ করে বিষয়টির সমাধান করেন।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে লালবাগের আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী আন্দোলন করছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

 

এ ঘটনায় গত বছরের ১৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১১৫ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন আশরাফুল।