দীর্ঘ দেড়যুগ প্রতীক্ষার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই সময়ে কখনো বিরোধী দল, কখনো সংসদের বাইরে কেটেছে দলটির। চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও এই সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম, দলীয় কর্মসূচি আর জেল-জুলুম, হামলা-মামলার মধ্য দিয়ে পার করেছেন নেতাকর্মীরা। তবে ক্ষমতার মাত্র দেড় মাসেই দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। একসময়ের উৎসবমুখর নয়াপল্টন কার্যালয় এখন খাঁ খাঁ করছে, আর মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাঝে দানা বাঁধছে গভীর হতাশা। দলের হাইকমান্ড ও সিনিয়র নেতারা সরকারে ব্যস্ত থাকায় কর্মী বিচ্ছিন্ন থাকা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সময় না দেওয়ায় মাঠ পর্যায়ের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতাও।
বিএনপির অধিকাংশ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান কমিটিগুলো ইতোমধ্যে তাদের নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করেছে অথবা মেয়াদের একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, এসব সংগঠনের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির (সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির) দুই বছর মেয়াদি সময়কাল চলতি বছরের ১ মার্চ শেষ হয়েছে। বর্তমানে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ও আলোচনা চলছে।
বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামল থেকেই রাকিব-নাছির নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের এই কমিটির সাংগঠনিক ব্যর্থতা প্রকট আকার ধারণ করে। বর্তমানে সাংগঠনিক স্থবির বিএনপির অন্যতম প্রধান এই সহযোগী সংগঠনের নতুন নেতৃত্বের দাবি উঠেছে খোদ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে। মেয়াদ উত্তীর্ণ এই কমিটির নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা প্রতিদিন নিজ নিজ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছাত্রদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ও ছাত্রদলের ইমেজ পূণর্ঠনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী ছাত্র রাজনীতির প্রতি দেশবাসীর যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি সংগঠনটি। কেননা, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা। তাদের নেতৃত্বেই দেশের আপামর জনসাধারণ আন্দোলনে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে পেরেছিল। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল বেশকিছু ইতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও ছাত্রদলের কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর ছাত্রদলের কার্যক্রম আরও মন্থর হয়েছে বলে জানা যায়। এ অবস্থায় গত বছরের ১৯ অক্টোবর থেকে কমিটি আরও বর্ধিত করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছেন পদবঞ্চিতরা। তারা জানান, প্রথমদিকে বলা হয়েছিল যে, ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি খুবই ছোট আকারের হবে। এখন দুই বছর তাদের অসংখ্যবার আশ্বস্ত করেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়নি। পদ না পেয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন তারা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে জেল-জুলুম হামলা-মামলার শিকার হলেও এখন দলীয় পরিচয়হীনতায় ভুগছেন তারা।
বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সাধারণত এই কমিটির মেয়াদ তিন বছর, যা ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা; তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়া এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটি পুনর্গঠনের আলোচনা রয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোলা-৪ আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হয়েছেন। নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের জন্য বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন।
২০২১ সালে হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি ও শহিদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির স্বাভাবিক মেয়াদ ২০২৪ সালেই শেষ হয়েছে, ফলে বর্তমানে এটি মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তুহিন পাবনা-৩ আসন থেকে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জামায়াত প্রার্থীর কাছে হেরেছেন। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল ফরিদপুর-৪ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে এসেছেন। এই সংগঠনের সাধারণ নেতাকর্মীরা দ্রুত যুবদলের নতুন নেতৃত্বের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন।
এসএম জিলানীকে সভাপতি ও রাজিব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কমিটি গঠন করা হয় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়েছে। জিলানী গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিাপাড়া-কোটালিপাড়া) আসন থেকে ও রাজিব বরিশাল-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়েই রাজিব নতুন সরকারের নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়েছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংসদ ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সংগঠনের পেছনে ন্যূনতম সময় দিতে অপারগ তারা। ফলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সংগঠনে গতি ফেরাতে দ্রুত নতুন নেতৃত্বের দাবি জানিয়েছেন।
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের দশা অত্যন্ত ‘করুণ’। সংগঠনটির সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এবং সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের নেতৃত্বের যাত্রা মূলত ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের মাধ্যমে শুরু হয়। ২০১৩ মুক্তিযোদ্ধা দলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শফিউজ্জামান খোকন দলের 'এক ব্যক্তির এক পদ' নীতির কারণে পরবর্তীতে পদত্যাগ করেন।
২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাদেক আহমেদ খানকে মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করেন। এর আগে তিনি এই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরপর ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর একটি সম্মেলনের মাধ্যমে এই কমিটিকে পুনরায় অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে এই কমিটি তার স্বাভাবিক মেয়াদ (২ বছর) অতিক্রম করে মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দল: আফরোজা আব্বাস ও সুলতানা আহমেদের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কমিটির অনুমোদন দেন। ২০১৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মেয়াদ উত্তীর্ণ ৩ বছর মেয়াদি এই কমিটি টানা দায়িত্ব পালন করছে প্রায় ১০ বছর ধরে। ফলে নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।
অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের মতো আবুল কালাম আজাদ ও সদস্য সচিব হলেন হাজী মো. মজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের বর্তমান কমিটিও তাদের নির্ধারিত মেয়াদ পার করেছে। গত ২০১৯ সালে আজাদ ও মজিব নেতৃত্বাধীন তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ২০২২ সালেই মেয়াদ শেষ হলেও দীর্ঘদিন নতুন কমিটি না হওয়ায় মূল দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিথিলতা এবং নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যেও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক হলেন চিত্রনায়ক হেলাল খান এবং সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন। হেলাল ও রোকনের নেতৃত্বে গত ৬ নভেম্বর ২০২১ তারিখে ত বছর মেয়াদি এই কমিটি বিএনপি অনুমোদন দেয়। এক সময়ে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়া জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে নিজেদের ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে বলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের লোকজনের মধ্যে তার প্রভাব প্রায় শূন্যের কোঠায়। দাবি উঠেছে যোগ্যদের হাতে জাসাসের নেতৃত্বদানের।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দূরীকরণে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ঈদুল আজহার পর অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে দলের জাতীয় কাউন্সিলের আগে এই সব মেয়াদোত্তীর্ণ বেহাল কমিটিগুলো ভেঙে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডের।
দলটি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরালো করার।
এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকান্ড আরও বিস্তৃত, জোরালো করে ভবিষ্যতে কিভাবে দলকে দ্রুত কাউন্সিলের দিকে নিয়ে যেতে পারি সেই বিষয়গুলো নিয়ে দলে আলোচনা হয়েছে। আমরা মনে করি যে, খুব দ্রুতই আমরা চেষ্টা করব দলকে কাউন্সিলের দিকে যাওয়ার জন্য।
কবে নাগাদ কাউন্সিল কবে নাগাদ হতে পারে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটার জন্য আমাদের মিনিমাম কয়েকমাস সময় লাগবে। এরপর ঠিক করতে হবে কাউন্সিলের সময়। বিএনপির সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ।
শীর্ষ নেতাদের ব্যস্ততা ও শূন্যতা
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী নেতাদের প্রায় সবাই এখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্বে। সচিবালয় সামলাতে গিয়ে তারা দলীয় কার্যালয়ে সময় দিতে পারছেন না। ফলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত যে নিয়মিত সমন্বয় প্রয়োজন, তাতে বড় ধরনের ছেদ পড়েছে। অনেক জেলা ও উপজেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে আছে।
নয়াপল্টনের সেই চেনা রূপ নেই
বিগত বছরগুলোতে রাজপথের আন্দোলনে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল নেতাকর্মীদের মিলনমেলা। এখন সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন কর্মচারী ছাড়া আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ কর্মীরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে নেতাদের দেখা না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তৃণমূলের এক কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আন্দোলনের সময় নেতারা আমাদের সঙ্গে থাকতেন, আর এখন তারা এসি রুমে বন্দি। আমাদের সমস্যার কথা শোনার কেউ নেই।‘
বিপর্যস্ত তৃণমূল ও বহিষ্কারের ক্ষত
নির্বাচনের আগে ও পরে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কয়েক হাজার (৭ হাজারেও বেশি) নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সরকার গঠনের পর সেই ক্ষতগুলো কাটিয়ে ওঠার বদলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকট হয়েছে। অনেক এলাকায় ত্যাগী কর্মীরা অভিযোগ করছেন, হাইব্রিড ও নব্য সুবিধাবাদীরা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের চারপাশে ভিড় করছে, ফলে প্রকৃত কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।
সাংগঠনিক এই স্থবিরতা কাটাতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাসখানেক পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে বাইরে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এসব বিষয়ে বলেন, সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রীয় নানা ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে সংসদীয় কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার পর আমাদের অগ্রাধিকার হবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন। শিগগিরই সেদিকে নজর দেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা চলছে দলটিতে। ঈদুল আজহার পর প্রতিটি অঙ্গ-সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় শাসন আর দলীয় সংগঠন-এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে বিএনপিকে বড় ধরনের সাংগঠনিক বিপর্যয়ে পড়তে হতে পারে। তৃণমূলের ক্ষোভ প্রশমন এবং দলীয় চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনাই এখন দলটির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।