মন্ত্রী হওয়ার কারণে আব্দুল আউয়াল মিন্টু ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছিলেন। তবে, তার ছেলে তাবিথ আউয়াল আবারও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিনি অংশ নেন। এর আগে গত ৩১ মার্চ তার পরিচালক পদে নিয়োগে অনাপত্তি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই দিন ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তা নাজনীন আহমেদ।
ব্যাংকটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, তাবিথ আউয়াল বর্তমানে মাল্টিমোড গ্রুপের উপপ্রধান নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি। অন্যদিকে, নাজনীন আহমেদ ডাই অ্যাফিন লিমিটেড ও অফিসিনা বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান।
এর আগে, ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাবিথ আউয়াল।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ন্যাশনাল ব্যাংকে আবারও প্রভাবশালী ভূমিকা নিতে শুরু করেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে তাকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মন্ত্রী হওয়ার কারণে লাভজনক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ছাড়ার বাধ্যবাধকতায় তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর গত ২ মার্চ স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এর আগে, সিকদার পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৈয়দ ফারহাত আনোয়ারকে চেয়ারম্যান করা হয়। তার সময়ে ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকের সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংক একীভূত করার আলোচনা শুরু হলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তা আর এগোয়নি।
ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মে জর্জরিত ন্যাশনাল ব্যাংক গত কয়েক বছরে তারল্য সংকটে পড়ে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতার পালাবদলের পর বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। তখন ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণে ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ।
পরবর্তীতে একই বছরের আগস্টে ২১ বছর পর চেয়ারম্যান হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংকে ফিরে আসেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই দশক তিনি ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক ছিলেন এবং ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উত্তরাধিকার সূত্রে তাবিথ আউয়ালও অতীতে ব্যাংকটির পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন এবং ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।