Image description

অনৈতিক কাজের টাকা কম দেয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে শেরপুরের শ্রীবরদীর এক নারীকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পিবিআই জামালপুর ইউনিট এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত।

তিনি বলেন, নিহত ডলি আক্তার নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর গ্রামের বাসিন্দা। ১৫-১৬ বছর আগে কাজিম উদ্দিনের সাথে তার বিয়ে হয় এবং তাদের আকলিমা (১৩) নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর তিন বছর আগে বিল্লাল হোসেনের সাথে ডলির দ্বিতীয় বিয়ে হয়। ডলি ও তার দুই ভাই ময়মনসিংহের ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি সোয়েটার কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গত ৩০ মার্চ থেকে ডলির মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। 

মামলার এজাহার ও আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা সূত্র দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ৩০ মার্চ রাতে স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে অনৈতিক কাজের জন্য ডলি আক্তারকে অর্থের বিনিময়ে নিয়ামুর নাহিদ তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরে টাকা কম দেয়ায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে ডলি আক্তার উত্তেজিত হয়ে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে নিয়ামুর নাহিদ তাকে মুখ চেপে ধরেন। এরপরও ডলি শান্ত না হলে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে নাহিদ তার স্ত্রী রিক্তাকে কারখানা থেকে নিয়ে আসার পথে হত্যার বিষয়টি জানান। পরে তারা দুজনে মিলে লাশ গুমের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নাহিদ একটি বড় প্লেইনশিটের ট্রাংক কিনে আনেন। ডলির হাত-পা বেঁধে তোশক দিয়ে পেঁচিয়ে সেই ট্রাংকে ভরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। ১ এপ্রিল ভোরে অন্য একটি পরিবারের সাংসারিক মালামাল পিকআপভ্যানে শেরপুরের শ্রীবরদী আনার কথা জানতে পারেন এক ট্রাক দালালের কাছে। পরে ওই দালালের মাধ্যমে পিকআপভ্যানে একটি বড় ট্রাঙ্ক শ্রীবরদীতে আনার জন্য অনুরোধ করলে চালক ট্রাঙ্কসহ নাহিদকে নিয়ে শেরপুরের শ্রীবরদী যান। পিকআপভ্যানটি শ্রীবরদী সরকারি কলেজের পাশ দিয়ে কর্ণজোড়া যাওয়ার সড়কের নয়াপাড়া ঢালীবাড়ী তিন রাস্তার মোড়ে এলে সেখানে ট্রাঙ্কটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা।

পরে ৩ এপ্রিল শুক্রবার নীল রঙের পিকআপভ্যান শনাক্ত এবং শেরপুরের শ্রীবরদীর ভেলুয়া ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

পিকআপভ্যান চালক মো. আশরাফ আলীকে আটক করলে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে (২৬) শুক্রবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক দম্পতি ডলি আক্তারকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে শনিবার (৪ এপ্রিল) তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই একাধিক চৌকস টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়। ডিজিটাল ফরেনসিক ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিবিড় তদারকি এবং সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নিজেই এই অভিযান টিমের নেতৃত্ব প্রদান করেন। 

গ্রেপ্তারকৃত আসামী নিয়ামুর নাহিদ ও রিক্তা মনিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে তারা স্বেচ্ছায় নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আদালত তাদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।