Image description

ভারতে আবারও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলে পাকিস্তানকে নজিরবিহীন পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে বলে কয়েক দিন আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার এই হুঁশিয়ারির কয়েক দিন পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারতের যেকোনও ‘দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের’ জবাবে কলকাতায় হামলা চালাবে পাকিস্তান।

জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের প্রাণহানির বার্ষিকীর আগে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশীর মাঝে ওই হুমকি-পাল্টা হুমকির ঘটনা ঘটেছে। খাজা আসিফ বলেন, ভারত যদি এবার কোনও ‌‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা এটিকে কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাব।’’

খাজা আসিফের এমন হুমকির বিষয়ে ভারত এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারত ‘নিজেদের লোক অথবা বন্দি পাকিস্তানিদের’ জড়িয়ে একটি সম্ভাব্য ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন পরিচালনা করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, মরদেহ ফেলে রেখে সেটিকে সন্ত্রাসবাদের দায় দেওয়া হতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ দেননি তিনি।

 
 

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেও ভারতকে ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের হুমকি দিয়ে খাজা আসিফ বলেছিলেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের অবকাশ আছে, এমনটা ভাবা অকল্পনীয়। তিনি ভারতের যেকোনও ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ‘দ্রুত’ ও ‘পরিমিত’ জবাব দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করে দেন।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন, ‘‘কোনও অস্পষ্টতা থাকতে দেবেন না। পাকিস্তান শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্প নিরঙ্কুশ, প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ এবং এর প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত, পরিমিত ও চূড়ান্ত।’’

• পাকিস্তানকে ভারতের হুঁশিয়ারি

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী রাজ্য কেরালায় এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় রাজনাথ সিং সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যেকোনও ‘দুঃসাহসিকতা’ নজিরবিহীন ও চূড়ান্ত পদক্ষেপের দিকে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারত। তিনি বলেন, পেহেলগাম হামলার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতীয় বাহিনী ২২ মিনিটের মধ্যে পাকিস্তানকে নতজানু করে ফেলেছিল এবং এটি ছিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের বৃহত্তম অভিযান।

রাজনাথ বলেন, আমি আপনাদের বলতে চাই অভিযানটি এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যদি এমন হীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সমুচিত জবাব দেবে; যা তারা কখনও ভুলবে না। এবার যা ঘটবে তা হবে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের ভেতরে অন্তত ৯টি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস এবং দেশটির কয়েকটি প্রধান সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছিল। এর মধ্যে কিছু অবকাঠামো এখনও সংস্কারাধীন রয়েছে। গত বছরের ১০ মে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানানোর পর শত্রুতা বন্ধ হয় এবং উভয় দেশ ধারাবাহিক কিছু প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়।

রাজনাথ সিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী হয়েছে এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও কাজের ধরন বদলে গেছে। তিনি বলেন, উরি হামলার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হোক কিংবা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে পুলওয়ামা বোমা হামলার জবাবে বিমান হামলা অথবা পেহেলগাম ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে অপারেশন সিঁদুর; আমরা সন্ত্রাসবাদের ওপর শক্তিশালী আঘাত হেনেছি।

 সূত্র: এনডিটিভি।