Image description

দেশে হাম নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু আতঙ্ক কখনোই ভালো ফল বয়ে আনে না; বরং সঠিক তথ্য জানা ও সচেতন হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। 

 
 

হাম কী?

হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ড্রপলেটের মাধ্যমে এটি দ্রুত অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত করতে পারে। এমনকি ভাইরাসটি বাতাস বা কোনো বস্তুর ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। সাধারণত ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০–১৪ দিন পর লক্ষণ দেখা দেয়।

লক্ষণ ও ঝুঁকি

হামের প্রাথমিক লক্ষণকে 3C দিয়ে মনে রাখা যায়।  যার ব্যাখ্যায় দাড়ায়- কফ, কোরাইজা বা সর্দি, কনজাংকটিভাইটিস বা চোখ লাল হওয়া। এর সঙ্গে তীব্র জ্বর, মুখের ভেতরে কপ্লিক স্পট এবং কয়েকদিন পর শরীরে র্যাশ দেখা দেয়, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

৫ বছরের কম বয়সি শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এর বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অপুষ্ট শিশুর ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক হতে পারে। হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানে সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কারা পাবে হামের টিকা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগামী রোববার থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে একটা ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন আমরা শুরু করতে যাচ্ছি। 

এর আগে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদেরই কেবল হামের টিকা দেওয়া হত। তবে দেশের আপদকালীন সময়ে টিকাদানের ক্ষেত্রে বয়সসীমায় পরির্তন এসেছে। 

বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত শিশু-কিশোররা এখন টিকা নিতে পারবে।  যেসব এলাকায় বেশি সংক্রমণ ঘটেছে, সেসব এলাকায় আগে টিকাদান শুরু হবে বলেও জানান তিনি। 

প্রতিরোধ ও প্রতিকার

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। এমআর (মিসেলস-রুবেলা) বা এমএমআর (মিসেলস-মাম্পস-রুবেলা) টিকা নিরাপদ এবং অত্যন্ত কার্যকর। সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ দেওয়া হয়, যা শিশুকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়।

আক্রান্ত শিশুর যত্নে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

হামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হাম প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও অপরিহার্য। একটি সমাজে প্রায় ৯৫% মানুষ টিকা নিলে রোগটির বিস্তার বন্ধ করা সম্ভব। তাই নিজের শিশুর পাশাপাশি আশপাশের সব শিশুর টিকাও নিশ্চিত করতে হবে।