Image description

দিল থেকে বড়ত্ব এবং আমিত্ব ভাব বের করে দিয়ে আল্লাহর কুদরতি পায়ে নিজেকে বিলীন করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিন দিনব্যাপী চরমোনাইর ফাল্গুনের মাহফিলের উদ্বোধনী বয়ানে এ পরামর্শ দেন তিনি।

 

বুধবার (১ এপ্রিল) জোহরের পর উদ্বোধনী বয়ানে চরমোনাই পীর বলেন, চরমোনাই মাহফিল দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে নয় বরং পথভোলা মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই এই মাহফিল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সুতরাং এখানে দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আসার প্রয়োজন নেই। যদি এমন কেউ এসে থাকেন, তবে নিয়ত পরিবর্তন করে আত্মশুদ্ধির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

 

চরমোনাই মাদ্রাসার মূল মাঠসহ চারটি মাঠে আয়োজিত বার্ষিক এই মাহফিলে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, যারা চরমোনাইতে নতুন এসেছেন, তারা দুনিয়ার ধ্যান-খেয়াল বিদায় করে দিয়ে আখেরাতের ধ্যান-খেয়ালকে অন্তরে জায়গা দেন। দিল থেকে বড়ত্ব এবং আমিত্ব ভাব বের করে দিয়ে আল্লাহর কুদরতি পায়ে নিজেকে বিলীন করে দিতে হবে। সদা-সর্বদা আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে দিলকে তরতাজা রেখে আল্লাহর অলি হয়ে চরমোনাই থেকে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।

 

চরমোনাই পীরের উদ্বোধনী বয়ান শেষে মাহফিলের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা করা হয়। এদিকে সকাল ৮টা থেকে মাহফিলে আসা মুসল্লিদের কয়েক হাজার হালকায় বিভক্ত করে হাতে-কলমে সালাত ও ইসলামের বুনিয়াদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

 

 

আয়োজকরা জানান, মাহফিলে আসা মুসল্লিদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মাহফিল হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। এতে ১৩ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে আরও ৪০ চিকিৎসকের সমন্বয়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হচ্ছে। ১০টি অ্যাম্বুল্যান্স ও ২টি নৌ অ্যাম্বুলেন্স মাহফিল হাসপাতালের কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে। মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের তাৎক্ষণিক মাহফিল হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য নিযুক্ত রয়েছে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।

 

চারটি মাঠে মাহফিলের শৃঙ্খলা রক্ষায় নিযুক্ত করা হয়েছে বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর স্পেশাল টিম। হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি বা বস্তু খুঁজে পাওয়ার জন্য প্রত্যেক মাঠেই রয়েছে হারানো ক্যাম্প। কেউ কিছু কুড়িয়ে পেলে এখানে জমা দিয়ে দেন, আবার কেউ কিছু হারিয়ে ফেললে এখানে খোঁজ নেন।

 

সারা দেশ থেকে আসা মুসল্লিদের খাবারের জন্য সব মাঠের চারদিকে সুপেয় পানির ব্যবস্থাসহ রয়েছে সহস্রাধিক মানসম্মত টয়লেট, অজু এবং গোসলের ব্যবস্থা।

 

তিন দিনব্যাপী এ মাহফিলের প্রথম দিন তথা আজ বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে প্রতিনিধি সম্মেলন হয়। এ ছাড়া মাহফিলে আসা যুবক, শ্রমিকদের নিয়ে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ এবং ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজন করে বিশেষ মতবিনিময় সভা।

 

ঐতিহাসিক চরমোনাই বার্ষিক মাহফিলে সাতটি মূল বয়ানের মধ্যে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পাঁচটি এবং মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম দুটি বয়ান করবেন। এ ছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় দরবারসমূহের পীর এবং শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কিরামরা মূল্যবান বয়ান পেশ করবেন।

 

আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় চরমোনাই পীরের আখেরি বয়ানের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ মাহফিল সমাপ্ত হবে।