Image description

সচিবালয়স্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি থামিয়ে পদোন্নতিবঞ্চিত বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর প্রায় ৩টার দিকে সচিবালয় থেকে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় গাড়ি থেকে নেমে পদোন্নতিবঞ্চিত বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে।

দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে নিজ কার্যালয় থেকে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে যাত্রা শুরুর পর ৫ নম্বর ফটকের সামনে হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা একদল চিকিৎসকের দিকে এগিয়ে যান। গাড়ি থেকে নেমে তিনি সরাসরি পদোন্নতিবঞ্চিত বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রতিনিধিদের দিকে যান এবং তাদের বক্তব্য শোনেন।

চিকিৎসকদের পক্ষে ডা. বর্ণালী দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বঞ্চনা, এসবি (SB) রিপোর্টের জটিলতা এবং কর্মজীবনে স্থবিরতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

 

সবকিছু শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আমার পক্ষ থেকে কিছু করার থাকলে দেখবেন।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ এক হাজার ৮২১ জন চিকিৎসক তাদের দাবি তুলে ধরতে এদিন সচিবালয়ে জড়ো হন।

সকালে তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও যোগাযোগ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তার বের হওয়ার পথে অবস্থান নেন।

 

পদোন্নতিবঞ্চিত ২৮তম বিসিএসের ডা. মো. মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, সব ধরনের যোগ্যতা ও চাকরির বয়স পূর্ণ হওয়ার পরও নানা অজুহাতে আমরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। অনেক জুনিয়র পদোন্নতি পেলেও আমরা পাইনি, যা আমাদের জন্য বিব্রতকর এবং পেশাগতভাবে ক্ষতিকর।

প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে আমরা আশাবাদী যে সমস্যার সমাধান হবে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখওয়াত হোসেনকে দেওয়া লিখিত আবেদনে চিকিৎসকরা জানান, তাদের অনেকের চাকরির বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং স্নাতকোত্তরসহ প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফিটলিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও প্রজ্ঞাপনে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলেও অভিযোগ করেন।

এছাড়া এসবি রিপোর্ট সময়মতো মন্ত্রণালয়ে না পৌঁছানো এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণেও পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলে দাবি চিকিৎসকদের। 

তাদের মতে, দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় পেশাগত মনোবল ভেঙে পড়ছে, যা পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যসেবার মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।