সরকারি সেবা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১১টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রোববার (৩০ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল দপ্তর, সংস্থা এবং বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে। ইতোপূর্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এর বিচ্যুতি বা ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। জনসেবা নিশ্চিত করতে এই সময়ে কর্মকর্তাদের ডেস্কে থাকা অপরিহার্য।
এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে অধিকতর সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অফিস কক্ষের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কর্মপরিবেশ সুন্দর রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কাজের শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থে এই ১১টি নির্দেশনা প্রতিপালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই আদেশ কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো–
১. প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান করতে হবে। দাপ্তরিক কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও উক্ত সময়সীমা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
২. দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।
৩. অফিস চলাকালীন শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।
৪. এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে।
৫. অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে।
৬. অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৭. অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি) বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
৮. সরকারি নির্দেশনা ব্যতিরেকে আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।
৯. জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।
১০. অফিস কক্ষ, করিডোর, টয়লেট, সিঁড়ি, সিঁড়ির হাতল ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
১১. উক্ত নির্দেশনা প্রতিপালন/মনিটরিংয়ের জন্য সকল দপ্তর/সংস্থা/কার্যালয়কে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করতে হবে।