Image description

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের প্রোফাইল প্রস্তুত: টার্গেটে ওরা ১১৩ জন’। খবরে বলা হয়, ওয়ান ইলেভেনের নামে রাজনৈতিক নেতা ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের নেপথ্যে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ নির্দেশনা পেয়েছে পুলিশ। ২০০৭ সালে দেশে সেনাসমর্থিত সরকার আনার পেছনে যেসব কারিগর বা কুশীলবের ইন্ধন ছিল তাদেরও শনাক্তের কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশের প্রায় সবকটি ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দেশ-বিদেশ থেকে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। ইতিমধ্যে ১১৩ জনের প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক সেনা কর্মকর্তা, আমলা, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, কতিপয় বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। যারা দেশের বাইরে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করে আত্মগোপনে আছেন তাদের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হচ্ছে বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পুলিশের ওই সূত্রটি জানায়, সপ্তাহখানেক আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ইন্টারপোল সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যক্তির তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদসহ আরও কিছু ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশে অবস্থান করছেন। তারা বাংলাদেশে অবস্থানকালে নানা অপকর্ম করেছেন। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের বিষয়ে নানা তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। রিমান্ডে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা ওয়ান ইলেভেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, দেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় ‘ওয়ান ইলেভেন’-এর (২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি) ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দীর্ঘ নীরবতার পর এই ইস্যুটি নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনার পেছনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (কুশীলব) কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাদের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুশীলবদের মধ্যে যারা বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন, তাদের চলাফেরা এবং যোগাযোগের ওপর দিনরাত নজরদারি চলছে। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত এলাকাগুলোয় ইতিমধ্যে নামের তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওইসব কুশীলব পর্দার আড়ালে থেকে ঘটনার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দিতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে ধরা পড়া প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদের বিষয়টি এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। তাদের ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং গোপন আস্তানায় পাওয়া ‘টর্চার সেল’ বা নির্যাতন কক্ষের ভয়াবহতার তথ্য পেয়ে শিউরে উঠছেন তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। ডিজিটাল ফরেনসিক এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বের হয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যেখানে ওয়ান ইলেভেনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের নির্যাতনের বিষয়টি স্পট হয়ে উঠেছে।

ওয়ান ইলেভেনের ঘটনার মোড় ভিন্ন দিকে: শুরুতে ঘটনাটিকে সাধারণ প্রশাসনিক রদবদল বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার চেষ্টা করা হলেও, বর্তমান তদন্তে এর মোড় সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে ঘুরে গেছে। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, এটি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিত একটি ‘সিস্টেমিক ম্যানিপুলেশন’ ছিল। প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ বলছে, ওয়ান ইলেভেনের সময় যে অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছিল, তার প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের নির্দিষ্ট কিছু খাতের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর পেছনে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন জড়িত রয়েছে। আগে যে বিষয়গুলোকে ‘জাতীয় স্বার্থ’ বলে প্রচার করা হয়েছিল, বর্তমান নথিপত্রে সেগুলোর পেছনে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের প্রমাণ মিলছে।

এই বিষয়ে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ ও মামুনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে গেছেন তারা। সেনাশাসিত সরকারের সময় রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের বিষয়েও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মাসখানেক ধরেই মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও মামুন খালেদের সব কর্মকা- নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। পরে সরকারের হাই কমান্ড থেকে সিগন্যাল আসার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, আমলা, কয়েকজন ব্যবসায়ী, আওয়ামী লীগ নেতাসহ একাধিক পেশার লোকজনকেও এখন নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে।

দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ!: পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওয়ান ইলেভেনের আড়ালে যারা দেশকে অশান্ত করেছেন তাদের বিষয়ে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। পুলিশের সবকটি ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। ইতিমধ্যে একশর বেশি ব্যক্তির প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারও ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মাথায় ওয়ান ইলেভেনের কুশীলব হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদকে ধরা হয়েছে। এরপর থেকেই আতঙ্কে আছেন ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা। যারা এখনো দেশে অবস্থান করছেন তারা আছেন গ্রেপ্তার আতঙ্কে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দেশ ছাড়ারও চেষ্টা করছেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। এই জন্য আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।

ইন্টারপোলের দ্বারস্থ পুলিশ: ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের মধ্যে যারা দেশের বাইরে আছেন তাদের বিষয়ে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। ইতিমধ্যে একটি চিঠি দিয়ে ইন্টারপোলকে অবহিত করা হয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের পর অনেক কুশীলব আইনি জটিলতা এড়াতে সুকৌশলে দেশত্যাগ করেছেন। এই পলাতক আসামিরা বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে তারা আছেন বলে ধারণা করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আইনের হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না। যারা বিদেশে আছেন, তাদের ফিরিয়ে আনতে আমরা ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি।’ খুবই প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিস’ জারিও করা হতে পারে।

কমিশন গঠন করার পরিকল্পনা: সেনাসমর্থিত সরকারের নেপথ্যে ও সামনে যারা ছিলেন তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার একটি কমিশন গঠন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্রিমিনাল অপরাধ কখনো তামাদি হয় না। কেউ যদি অভিযোগ করেন সেক্ষেত্রে অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত এবং বিচার হতে পারে। ওয়ান ইলেভেনের সময় কি কি অন্যায় অবিচার হয়েছিল তা নিরূপণে সরকার একটি কমিশনও গঠন করবে বলে আমরা জেনেছি। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে গঠিত হয় ‘ওয়ান-ইলেভেন’ সরকার। ওই সময় গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়েছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ। তবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ। সব ঝামেলা এড়াতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমেরিকায় নির্বাসিত জীবন বেছে নেন ফখরুদ্দীন আহমদ ও মইন ইউ আহমেদ। তাদের মতো একাধিক ব্যক্তি আছেন দেশের বাইরে। একাধিক কুশীলব দেশে থাকলেও তারা আছেন আতঙ্কে।

বিচার হবে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে: ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সময় পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ যারা করেছেন তাদের সবাইকে তদন্তসাপেক্ষে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদ এবং মাসুদ উদ্দিনের অতীতের কর্মকান্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, এক এগারো থেকে শুরু করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের এই দুই দোসর, অনেক মানবতাবিরোধী অপরাধ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যারা এই দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন বিনষ্ট করার জন্যে এবং আয়নাঘরসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অমানবিক কর্মকান্ড করেছেন। সেইফ হাউজের মতো জায়গা সৃষ্টি করে মানুষকে নির্যাতন করেছেন। তারা গুম, খুন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে এ রকম অসংখ্য অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে সব অভিযোগ প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে, তাদের আমরা এই ট্রাইব্যুনালের আওতাধীন আনার চেষ্টা করছি। দুষ্কৃতকারীদের এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। যাতে ভবিষ্যতে সরকারি দায়িত্বে থেকে কোনো কর্মকর্তা মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ করার সাহস না পায়।

তিনি বলেন, ‘তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদেরই বিচারের সম্মুখীন করা হবে। সেই যেই হোক, যত বড় শক্তিশালী মানুষই হোক।’

কুশীলবদের দায়মুক্তি তবে ফৌজদারিতে বাধা নেই: আওয়ামী লীগ সরকার ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের দায়মুক্তি দিলেও তাদের ফৌজদারি অপরাদের বিচারে বাধা নেই বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ও পুলিশ কর্তারা। দুই আইনজীবী ও পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সরকার সেনাসমর্থিত। সংবিধানে সেনাসমর্থিত সরকার বলতে কিছু নেই। কিন্তু ওই সরকারের সব কর্মকাণ্ড পরে সংসদে বৈধতা দেওয়া হয়। কিন্তু দায়িত্ব পালনে কেউ যদি প্রচলিত আইন ভঙ্গ করে নির্যাতন করেন তাহলে সুনির্দিষ্টভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা যেতে পারে। এতে ফৌজদারি আইনে কোনো ধরনের বাধা নেই।

প্রথম আলো

হামসহ ১০ রোগের টিকার সংকট’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে টিকার সংকট চলছে। কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি রোগের টিকার মজুত শূন্যে নেমেছে। এদিকে চলতি মাসে হামে দেশে ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ও সরকারি হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা কেনার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেওয়ায় মজুত শূন্যে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে টিকার স্বল্পতা ও জনবলঘাটতির কারণে শিশু ও মায়েরা ঠিকমতো টিকা পাচ্ছে না। ফলে শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। শিশুদের মধ্যে অন্য রোগও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ টিকা কর্মসূচিতে সফল দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নিয়মিত টিকাদান এবং বিভিন্ন ধরনের টিকা কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশ পোলিও এবং ধনুষ্টংকার নির্মূলে সফল হয়েছে। হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। হামও অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত ছিল। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হাম শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল; কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, গাফিলতির কারণে একটি সফল কর্মসূচি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

টিকার সংগ্রহ ও বিতরণের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্যাভি বাংলাদেশকে টিকা কেনায় আর্থিক সহায়তা দেয়। গ্যাভির স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ার নিজাম উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, জনবলঘাটতি, টিকার সরবরাহ ও লজিস্টিক সংকটের পাশাপাশি নিয়মিত টিকা কর্মসূচিতে নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। শহরাঞ্চলে সব জায়গায় টিকা সমানভাবে দেওয়া হয় না। এ ছাড়া কোভিড–পরবর্তী সময়ে ড্রপ আউটের কারণে অনেক শিশু প্রথম ডোজ টিকা পেলেও দ্বিতীয় ডোজ পায়নি। এসব কারণে টিকা না পাওয়া মোট শিশু সংখ্যায় অনেক হয়েছে। এরাই হামে আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত কিছু ঝুঁকি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

দেশে হামের সংক্রমণ বেড়েছে স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, আট বছর আগে হামের টিকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর আর দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। যথাসময়ে টিকা সংগ্রহ করে তা দেওয়া শুরু করব।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের হামের চিকিৎসার জন্য সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মানিকগঞ্জ এবং উত্তরাঞ্চলে শিশুদের হাম মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

১০ রোগের ৬ টিকার সংকট

দেশে দুইভাবে টিকা দেওয়া হয়। একটি হচ্ছে নিয়মিত টিকা কর্মসূচি। এটি সারা বছর ধরে চলে। এই টিকা দেওয়া হয় মাঠপর্যায়ে। টিকা দেন মাঠকর্মী বা স্বাস্থ্যকর্মীরা। কোন বয়সে কোন টিকা দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করা আছে।

এই নিয়মিত টিকার পাশাপাশি টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়। একটি নির্দিষ্ট বয়সী দেশের সব শিশুকে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে টিকার আওতায় আনা হয়। এই ক্যাম্পেইনের আগে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার–প্রচারণা চালানো হয়। এর পাশাপাশি জাতীয়ভাবে ভিটামিন এ–এর ক্যাম্পেইনও করা হয়। এসব ক্যাম্পেইনে দাতা সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলো যুক্ত হয়। নিয়মিত টিকাদানের সময় বাদ পড়া শিশুরা ক্যাম্পেইনের সময় টিকা নেয়।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইপিআইয়ের মাধ্যমে দেশে ১২টি রোগ প্রতিরোধে ৯টি টিকা দেওয়া হয়। বিভিন্ন বয়সী শিশুদের দেওয়া হয় সাতটি টিকা। বিসিজি টিকা দেওয়া হয় যক্ষ্মা প্রতিরোধে; পেন্টা টিকা দেওয়া হয় ডিপথেরিয়া, পার্টুসিস, ধনুষ্টংকার, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ–বি ও হেপাটাইটিস–বি প্রতিরোধে; ওপিভি টিকা দেওয়া হয় পোলিও প্রতিরোধে; আইপিভি দেওয়া হয় পোলিও প্রতিরোধে; নিউমোনিয়া প্রতিরোধে দেওয়া হয় পিসিভি টিকা; হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে এমআর টিকা এবং টিসিভি টিকা দেওয়া হয় টাইফয়েড প্রতিরোধে।

দুটি টিকা দেওয়া হয় নারীদের। এর মধ্যে ১০ বছরের বেশি বয়সী কিশোরীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া হয় জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এবং প্রজননক্ষম ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের ধনুষ্টংকার ও ডিপথেরিয়া প্রতিরোধে দেওয়া হয় টিডি নামের টিকা।


ইপিআই কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় গুদামে বিসিজি, পেন্টা, বিওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি—এই ছয়টি টিকার মজুত শূন্য। আইপিভি ও টিসিভি চলবে জুন পর্যন্ত এবং এইচপিভির মজুত আছে ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে মাঠপর্যায়ে কোনো কোনো টিকার ঘাটতি আছে বলে ইপিআই এবং দাতা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘আদালতে ভুয়া ওয়ারেন্ট চক্রের ভয়ংকর দৌরাত্ম্য’। প্রতিবেদনে বলা হয়, খোদ আদালতেই চলছে বিচারকের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতির মহোৎসব। ভুয়া কাস্টডি ওয়ারেন্ট তৈরি করে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে এনে দেওয়া হচ্ছে ‘বিশেষ সুবিধা’; এমনকি সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে পালিয়ে যাওয়ারও! শুধু তাই নয়, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ মানুষের নামে পাঠানো হচ্ছে ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা। কতিপয় পুলিশ ও আইনজীবী এবং আদালত ও কারাগারের অসাধু কর্মচারীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এমনই এক সংঘবদ্ধ চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যুগান্তরের কয়েক মাসব্যাপী অনুসন্ধানে। সিসিটিভি ফুটেজ ও নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, টাকার বিনিময়ে আদালতের হাজতখানা থেকে শুরু করে প্রসিকিউশন বিভাগ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এই চক্রের বিষাক্ত জাল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি প্রথমে বিচারকের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে আসামিদের নামে ভুয়া কাস্টডি ওয়ারেন্ট তৈরি করে। পরিকল্পিতভাবে নিজেদের সুবিধামতো তারিখ বসিয়ে ওই ভুয়া ওয়ারেন্ট কারাগারে পাঠায়। পরে কারাগারে থাকা চক্রের সহযোগীরা সেটিকে ওয়ারেন্ট তালিকায় এন্ট্রি করে। ফলে নথি অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু আদালত কক্ষে হাজির করার পরিবর্তে চক্রের সদস্যরা তাকে আদালত ভবনের অন্যত্র নিয়ে যায়। এরপর সুবিধামতো কোনো কক্ষ বা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আসামিকে নানা ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠক, খাওয়াদাওয়া, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা-এমনকি গোপনে বৈঠক করার সুযোগও দেওয়া হয়।

এ ধরনের ঘটনার তথ্যপ্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ যুগান্তরের হাতে এসেছে। এক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আসামিকে আদালতে হাজিরার কথা বলে হাজতখানা থেকে বের করে আদালত ভবনের ১০ তলার রেকর্ড রুমে নিয়ে ওইসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একই আসামিকে টানা চারদিন একই কৌশলে আদালতে এনে একই কক্ষে নেওয়া হয়েছে। অথচ ওই চার দিনের কোনোদিনই আসামির আদালতে হাজিরার নির্ধারিত তারিখ ছিল না। অর্থাৎ সম্পূর্ণ ভুয়া ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই তাকে কারাগার থেকে বের করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে চক্রটি আসামি বা তাদের স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে। মামলার ধরন, আসামির প্রভাব ও সুবিধার মাত্রা অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

কেস স্টাডি ১: রাজধানীর গুলশান, পল্টন, উত্তরা পূর্ব ও মুগদা থানার চার মামলার আসামি রুবেল আহম্মেদ। ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে তাকে আদালতের দশ তলায় রেকর্ড রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে তার হাতকড়া খুলে দেওয়া, চলাফেরা, মোবাইল ফোন ব্যবহার, আইনজীবী ও আত্মীয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং খাবারের সুবিধা দেওয়া হয়। এ সুযোগে আসামি গোপনে বৈঠকও করে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫, ১৬, ১৯, ২০, ২১ অক্টোবর আদালতে আসামির হাজিরার তারিখ না থাকলেও তাকে রেকর্ড রুমে নিয়ে ওইসব সুবিধা দেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে ২২ অক্টোবর। সেইদিন আসামি রেকর্ড রুম থেকে কৌশলে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে। এরপর বিচারকদের লিফট ব্যবহার করে পালিয়ে যায়।

জানা যায়, এসব ঘটনায় কনস্টেবল মো. মাহফিজুল ইসলাম, হাজতখানার ইনচার্জ এসআই জাহিদুল ইসলাম, এএসআই মাজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল তহিদুল ইসলাম, বেলাল উদ্দিন, মাহাবুব রহমান, সিএমএম কোর্টের রেকর্ড কিপার আব্দুর রহমান আজাদ ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নায়েক কামরুল এর সঙ্গে জড়িত।

কালের কণ্ঠ

টিকা অব্যবস্থাপনার বলি শিশুরা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এক বছরের কম বয়সী শিশুরা এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা, টিকাদান কর্মসূচিতে ছেদ পড়া এবং সেবার সীমাবদ্ধতার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে আসা প্রায় দুই কোটি এমআর (মিজেলস-রুবেলা) টিকা সরকারের হাতে জমা থাকলেও লোকবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে তা শিশুদের মধ্যে প্রয়োগ করা যাচ্ছে না।

এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্বাস্থ্য খাতের সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই বছরের ডিসেম্বরে রাজস্ব খাত থেকে অর্থ নিয়ে এমআর টিকা কেনা হয়, যা ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সরবরাহ ছিল। এরপর দীর্ঘ সময় টিকার সরবরাহ বন্ধ থাকে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৯ মাস ধরে শিশুরা নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী অনেক শিশু হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা পায়নি। এমনকি দেড় বছর বয়সী অনেক শিশুর টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। দেশে সরকারি পর্যায়ে ১৯৮৮ সালে শুরু হয় এমআর টিকাদান কার্যক্রম। এরপর ধারাবাহিকভাবে শিশুদের এ টিকাদান কার্যক্রম চলে আসছে।

শিশুদের সাধারণত ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ এমআর টিকা দিতে হয়। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, “টিকার জন্য গঠিত বৈশ্বিক জোট ‘গ্যাভি’ গত মাসে বাংলাদেশে দুই কোটি ডোজ এমআর টিকা পাঠিয়েছে। কিন্তু টিকা দেওয়ার জন্য জনবল নিয়োগ, তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক (যেমন—সিরিঞ্জ) এবং প্রয়োজনীয় ফান্ডের অভাব রয়েছে। যে কারণে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এ বিষয়ে ‘গ্যাভি’ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘সাগরে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু: পাচার চক্রের মূল দুই সদস্য শনাক্ত, মামলার প্রস্তুতি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমধ্যসাগরের নোনাজল থেকে স্বজন হারানোর শোক ও কান্না ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে। লিবিয়া থেকে ইউরোপে ১৮ বাংলাদেশির স্বপ্নযাত্রা হারিয়ে গেছে সাগরে। রাবারের নৌকায় করে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসের দিকে নেওয়া হচ্ছিল তাদের। মৃত ব্যক্তিদের দুদিন নৌকায় রেখে পরে তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। জীবিত উদ্ধার ২১ বাংলাদেশিসহ ২৬ জনকে রাখা হয়েছে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে। তাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অসুস্থ।

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে যাদের ইউরোপে অবৈধ পথে নেওয়ার জন্য লিবিয়ায় জড়ো করা হয়েছিল, এতে ভূমিকা রাখা দুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের একজন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ঈদগাঁও এলাকার আজিজ মিয়া। আরেকজন ছাতক উপজেলার দুলাল মিয়া। দালালদের মাধ্যমে জনপ্রতি ১২ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে আজিজ ও দুলাল। সূত্র জানায়, তারা দুজন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শনিবার বেঁচে ফেরা একই নৌকার ২১ বাংলাদেশি গ্রিসের কোস্টগার্ডকে জানান, ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন। ১৮ বাংলাদেশি ছাড়া বাকি চারজন বিভিন্ন দেশের নাগরিক। নৌকাটি পথ হারিয়ে সাগরে ছয় দিন ভাসছিল। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়।

বাংলাদেশ মিশন ইতোমধ্যে গ্রিসের কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহযোগিতা এবং নিহতদের মরদেহের সন্ধান পেলে ফিরিয়ে আনার উপায় খোঁজা হচ্ছে।

সিআইডির তথ্য অনুয়ায়ী, মানব পাচারের ৩১৬টি মামলা তদন্তাধীন। এর মধ্যে লিবিয়া-সংক্রান্ত মানব পাচার মামলা ৩১টি। গত এক বছরে ১২৩টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সারাদেশে মানব পাচার-সংক্রান্ত মামলা হয়েছে চার হাজার ৪২৭টি। এর মধ্যে ৯০৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব মামলায় আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিভিন্ন মেয়াদে এক হাজার ৭৭৬ আসামির সাজা দেন আদালত। যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে ১০০ আসামির।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একেকটি ঘটনার পর মামলা ও গ্রেপ্তারের পরও বন্ধ হচ্ছে না মানব পাচার। বিদেশে বসেই দালালরা তাদের নির্ধারিত লোকের মাধ্যমে ইউরোপ যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে। ভালো চাকরির লোভ দেখানো হয়। আবার অনেক পরিবারে নিজেরাই দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বজনের অবৈধভাবে বিদেশে পাঠান।

সিআইডির মানব পাচার প্রতিরোধ ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লা সমকালকে বলেন, গ্রিসে যাওয়ার পথে ১৮ বাংলাদেশি মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দূতাবাস। যেসব দালাল তাদের নিয়েছে তাদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।

ভূমধ্যসাগরে নিহতদের মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুরের পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজারের একজন রয়েছেন। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের বাসিন্দাও রয়েছেন।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া মাঝপাড়া গ্রামের দুলন মিয়ার তিন সন্তানের মধ্যে নাঈম আহমেদ (২৪) সবার ছোট। গ্রামে বাবার চায়ের দোকানে সহযোগিতা করতেন তিনি। তবে এলাকার আরও কয়েকজনের সঙ্গে গ্রিসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৭ ডিসেম্বর ঢাকা ছাড়েন এই তরুণ।

ইত্তেফাক

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে জ্বালানি উত্স খুঁজছে সরকার’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশও জ্বালানি সংস্থান-আমদানি নিয়ে সংকটে পড়েছে। সেই সংকট মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশগুলো থেকেও জ্বালানি তেল আমদানির চেষ্টা করছে বিএনপি সরকার। সরবরাহে ধাক্কা, বাজারে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা—এই তিনের চাপের কারণে শিগিগরই তথা আগামী এপ্রিল-মে-জুন মাসে সরবরাহ নিশ্চয়তা চায় সরকার। কিন্তু বিকল্প উত্সগুলো বাংলাদেশে রপ্তানির ব্যপারে আগ্রহী হলেও শিগিগরই সরবরাহের নিশ্চয়তা তেমন দিচ্ছে না। এলএনজি ও এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দেশে তেল-গ্যাস আমদানিতে মধ্যপ্রাচ্য-নির্ভরতা অপেক্ষাকৃত বেশি। অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজির প্রায় ৮০ ভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর এলপিজি আমদানির অর্ধেকের বেশিও একই এলাকা থেকে। যুদ্ধ শুরুর পর ঐ অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে জ্বালানি আমদানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ইরান বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও জ্বালানি স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কোনো নিশ্চিত সময়সীমা নেই। বিভিন্ন উন্নত দেশও মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের বিকল্পগুলো ঝুঁকে যাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে।

জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বিপিসি। সংস্থাটি ইতিমধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেছে। প্রায় সব প্রতিষ্ঠান আগ্রহ জানালেও শিগিগরই সরবরাহ প্রতিশ্রুতি দিতে পারেনি অধিকাংশই। এখন পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিশ্চিত সরবরাহের অনুমোদন মিলেছে। এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) থেকে ২ লাখ টন ডিজেল আমদানি করা হবে। প্রথমটি প্রতি ব্যারেলে তিন ডলার এবং দ্বিতীয়টি প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪০ ডলার ছাড় দেবে। তবে অন্য প্রস্তাবগুলো এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ অ্যান্ড এ এনার্জি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কাজাখস্তান থেকে ২ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিলেও চালান নিশ্চিত হয়নি। একইভাবে পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল, বিজেএন গ্রুপ, আইএল টেক ভেনচারস এবং ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দিয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরবরাহ সূচি অনির্দিষ্ট।

বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও বাংলাদেশ একই ধরনের বিকল্প উত্স খুঁজেছিল। ২০২২ সালের মতো এবারও রাশিয়া থেকে তেল আমদানির আলোচনা ওঠে। কিন্তু দেশে সেই তেল পরিশোধনের সক্ষমতা থাকায় সে আলোচনা আর এগোয়নি। তখন বহু প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই অভিজ্ঞতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। তবে এবার ব্যাপক পরিসরে আলোচনা চলায় দুই-তিনটি বিকল্প উত্স থেকে চাহিদার কিছুটা হলেও সরবরাহ পাওয়ার আভাস মিলছে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নোটিশে উত্তপ্ত সংসদ’। খবরে বলা হয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর অধিবেশন আহ্বানকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মুলতবি অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ, হট্টগোল এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগে কার্যত অচলাবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। গতকাল রোববার মাগরিবের বিরতির পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমানের উত্থাপিত একটি মুলতবি নোটিশকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। নোটিশে তিনি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা চেয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কথা বলার ফ্লোর নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় সংসদ অধিবেশনে।

এ সময় স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান ও সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে একটি নোটিশ উপস্থাপন করেন। তারপর আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বক্তব্য রাখেন। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করার জন্য বক্তব্য রাখেন। সেদিন সংবিধান, জুলাই সনদসহ প্রয়োজনীয় বই উপস্থিত রাখার জন্য বলেন। তারপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন। তিনি বিরোধী দলের নেতার নোটিশটি সংশোধনের পরামর্শ দেন। এরই মধ্যে স্পিকার আগামীকাল মঙ্গলবারের কার্যক্রমের শেষ দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ব্যাপক হট্টগোল দেখা যায়। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জোটের একাধিক এমপিও এ সময় কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে যান। সরকারদলীয় চিফ হুইপও ফ্লোরের দাবি জানান।

ডেপুটি স্পিকার চিফ হুইপকে ফ্লোর দিলে অধিবেশন কক্ষে হযবরল অবস্থা তৈরি হয়। হট্টগোলের মধ্যে বিরোধী জোটের এমপিরা সরকারি দলের মন্ত্রী ও এমপিদের উদ্দেশে নানা তির্যক মন্তব্য করতে থাকেন। পাশাপাশি ডেপুটি স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিরোধী জোটের একাধিক এমপি মাইক ছাড়াই বলতে থাকেন-এই সংসদ গায়ের জোরে চালানো হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। সরকারি দলের পক্ষ থেকে কর্তত্ব দেখানো হচ্ছে। এসময় স্বরাষ্ট্র্র ও আইনমন্ত্রীকে ব্যর্থ বলে চিৎকার করতে থাকেন তারা। জোটের এমপিরা আরো বলেন-গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে কোন ধরনের টালবাহানা চলবে না। সরকারি দলকে কেবল মাইক দেয়া হচ্ছে। বিরোধী দলকে মাইক দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। তারা বিরোধীদলীয় চিপ হুইপকে কথা বলার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান। এসময় সরকারি দলের কয়েক এমপিও কথা বলার সুযোগ চান। পাশাপাশি বিরোধী জোটের বক্তব্যর প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

এসময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদীয় বিধি অনুযায়ী সবাইকে কথা বলার অনুরোধ জানালেও তা ব্যর্থ হয়। বিরোধী জোটের একাধিক এমপি কথা বলতে বারবার উঠে দাঁড়ান। বিরোধীদলীয় নেতা কথা বলার জন্য দাঁড়ালে তাকে ফ্লোর দেয়া হয় কয়েকবার। নিয়ম অনুযায়ী- বিরোধীদলীয় নেতা কথা বলার জন্য দাঁড়ালে জোটের অন্য কেউ দাঁড়ান না। কিন্তু গতকাল সংসদ অধিবেশনে এ চিত্রের ব্যতিক্রম দেখা যায়। বিরোধীদলীয় নেতা তার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ (আদেশ নং ০১, ২০২৫) এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান শিরোনামের মুলতবি নোটিশে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী- সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হবে অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের বিধান থাকলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি।

জাতির প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি করা কখনো কাম্য নয়। এমতাবস্থায় জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয় হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন সংক্রান্ত আলোচনার জন্য স্পিকারের প্রতি সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান করছি। এরপর ফ্লোর নিয়ে নোটিশটাই তো বৈধ হয় নাই বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। ৬২ বিধিতে এই নোটিশ গ্রহণ করা হলে তা সংশোধিত আকারে গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি জানান।

বণিক বার্তা

জ্বালানি কিনতে জুনের মধ্যে প্রয়োজন হবে বাড়তি ৩ বিলিয়ন ডলার’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ আর এলএনজির প্রায় ৮৩ শতাংশ। জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধের আগের ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ১০০ ডলারে উঠেছে।

আর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১০-১২ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০-২২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি ও জ্বালানি তেল কিনতে বাংলাদেশকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি না করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জুন পর্যন্ত সরকারের প্রয়োজন হবে বাড়তি ৩ বিলিয়ন ডলার। এ অর্থ জোগাড় করতে সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যানুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার টন পরিশোধিত এবং ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রাক্কলন রয়েছে। এ পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানিতে সংস্থাটির ব্যয় হবে ৯১ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। পেট্রোবাংলার তথ্যানুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দীর্ঘমেয়াদি ও স্পট মার্কেট থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিমাণ কার্গো আমদানিতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এরই মধ্যে দ্বিগুণ দামে কয়েক কার্গো এলএনজি কিনতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে কী পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছে অর্থ বিভাগ। এক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে অর্থাৎ আগামী জুন পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলারের মতো অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়ে গেছে। অপ্রতুল রাজস্ব আয়ের কারণে সরকারের পক্ষে বাড়তি অর্থ ব্যয় করার সুযোগ সীমিত। তাছাড়া জ্বালানি কেনার অর্থ পরিশোধ করতে হয় বৈদেশিক মুদ্রায়। সবদিক বিবেচনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। কেননা নিজেদের অর্থে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় মেটাতে গেলে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে। এ কারণে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাড়তি এ অর্থের সংস্থান করতে চাইছে। এক্ষেত্রে আইএমএফের কাছ থেকে দেড় বিলিয়ন ডলারের মতো সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার। তাছাড়া এডিবির কাছ থেকে বাড়তি ২৫ কোটি ডলার এরই মধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে চাওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির কাছেও বাজেট সহায়তা চাওয়া হবে। সামনের মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন অধিবেশনে এ বিষয়ে সংস্থা দুটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে (বিওপি) সমর্থন দিতে ২০০ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার চেষ্টা করছে সরকার। আইএমএফ এবং অন্য কয়েকটি উৎস থেকে এ ঋণ নেয়ার প্রাথমিক আলোচনা চলছে। গতকাল অর্থনীতিবিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ‘আমরা ২ বিলিয়ন ডলারের একটা বিওপি সাপোর্ট চেষ্টা করব’ উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে। অ্যাডিশনাল এ পরিমাণ ব্যালান্স অব পেমেন্টের জন্য। যাদের সঙ্গেই আলোচনা হয় তারাও দেখতে চায় যে কী হয়।’

সাপোর্টের উৎস প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘মূলত আইএমএফকেও বলেছি। ইআরডি আরো চেষ্টা করছে কয়েকটা সোর্স থেকে অ্যাডিশনাল কিছু পাওয়া যায় কিনা।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘গণভোটের অধ্যাদেশ উঠছে না সংসদে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিল সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। তবে গণভোটের অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে উল্লেখ করে তা বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

এদিকে যেসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হচ্ছে, এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়সহ কয়েকটি অধ্যাদেশের সংশোধনীসহ উত্থাপনের সুপারিশ করেছে সরকারি দল। এর বিরোধিতা করেছেন কমিটিতে থাকা বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। এমন ১৫ অধ্যাদেশের বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। রাতে সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে বৈঠকটি চলে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী। তৃতীয় দিনের বৈঠকে শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষ করে কমিটি। ২ এপ্রিল কমিটি সংসদে প্রতিবেদন পেশ করবে।

সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা না রাখা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে বিশেষ কমিটির সদস্য ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণভোটের সাথে গোটা জাতি জড়িত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ “হ্যাঁ” জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে—এটাই আমাদের মূল দাবি।’

তবে গণভোটের অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। যে কারণে প্রণয়ন করা হয়েছিল, এটার অধীনে সামনে আর কোনো গণভোট হবে না। এটাকে বিল আকারে এনে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই। এটা রেটিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। এতে অংশ নেন কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম অংশ নেন বৈঠকে। বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, কিছু মৌলিক বিষয়ে তাঁরা আগে থেকে একমত ছিলেন না। আজও একমত হতে পারেননি। সরকারি দল কিছুটা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস করার চেষ্টা করেছে। যার মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণের লাইনে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি, যেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে আনা হয়েছিল, সেগুলো তারা রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্ব করার বিষয়েও আমরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছি।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংসদ আবারও উত্তপ্ত’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কথা বলার ফ্লোর নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় সংসদ অধিবেশনে। সরকারি ও বিরোধীদলীয় এমপিরা সংসদীয় বিধি উপক্ষো করে কথা বলার সুযোগ চাইলে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। গতকাল সংসদ অধিবেশনের মাগরিবের বিরতির পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের উত্থাপিত নোটিসকে ঘিরে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান ও সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে একটি নোটিস উপস্থাপন করেন। তার পর আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বক্তব্য রাখেন। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করার জন্য বক্তব্য রাখেন। সেদিন সংবিধান, জুলাই সনদসহ প্রয়োজনীয় বই রাখার জন্য বলেন।

তার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন। তিনি বিরোধী দলের নেতার নোটিসটি সংশোধনের পরামর্শ দেন। এরই মধ্যে স্পিকার আগামীকালের কার্যক্রমের শেষ দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করেন। এর পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ব্যাপক হট্টগোল দেখা যায়। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জোটের একাধিক এমপিও এ সময় কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে যান। সরকারদলীয় চিফ হুইপও ফ্লোরের দাবি জানান। ডেপুটি স্পিকার চিফ হুইপকে ফ্লোর দিলে অধিবেশন কক্ষে হযবরল অবস্থা তৈরি হয়।

হট্টগোলের মধ্যে বিরোধী জোটের এমপিরা সরকারি দলের মন্ত্রী ও এমপিদের উদ্দেশে নানা তীর্যক মন্তব্য করতে থাকেন। পাশাপাশি ডেপুটি স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিরোধী জোটের একাধিক এমপি মাইক ছাড়াই বলতে থাকেন- এ সংসদ গায়ের জোরে চালানো হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। সরকারি দলের পক্ষ থেকে কর্তৃত্ব দেখানো হচ্ছে। এ সময় স্বরাষ্ট্র্র ও আইনমন্ত্রীকে ব্যর্থ বলে চিৎকার করতে থাকেন তারা। জোটের এমপিরা আরও বলেন, গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা চলবে না। সরকারি দলকে কেবল মাইক দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলকে মাইক দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। তারা বিরোধীদলীয় চিপ হুইপকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় সরকারি দলের কয়েকজন এমপিও কথা বলার সুযোগ চান। পাশাপাশি বিরোধী জোটের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদীয় বিধি অনুযায়ী সবাইকে কথা বলার অনুরোধ জানালেও তা ব্যর্থ হয়। বিরোধী জোটের একাধিক এমপি কথা বলতে বারবার উঠে দাঁড়ান। বিরোধীদলীয় নেতা কথা বলার জন্য দাঁড়ালে তাঁকে ফ্লোর দেওয়া হয় কয়েকবার। নিয়ম অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা কথা বলার জন্য দাঁড়ালে জোটের অন্য কেউ দাঁড়ান না। কিন্তু গতকাল সংসদ অধিবেশনে এ চিত্রের ব্যতিক্রম দেখা যায়।