নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুরের তানভীর ফিলিং স্টেশনে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সরদারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করেছে চালক। নাহিদ সরদার নড়াইল সদর উপজেলার পেড়লী গ্রামের আকরম সরদারের ছেলে। তানভীর ফিলিং স্টেশনের অপর এক কর্মচারী জানান, শনিবার রাত ২টার দিকে ঘাতক ট্রাকচালক সুজাত এ ঘটনা ঘটায়। সুজাত একই গ্রামের তহিদুরের ছেলে। ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় নাহিদের সঙ্গে থাকা তার সঙ্গী জিহাদুল মারাত্মক আহত হন। আহত জিহাদুল ইসলাম তুলারামপুর গ্রামের জহুরুল মোল্যার ছেলে। ওদিকে গতকাল বেলা ৪টায় যশোরের বাঘারপাড়া থেকে ঘাতক চালক সুজাতকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
পেট্রোল পাম্পের ক্যাশিয়ার মো. জসিম উদ্দীন বলেন, ট্রাকচালক সুজাত পাম্পে তেল নিতে আসে। কিন্তু তেল না থাকায় তাকে আমরা তেল দিতে পারিনি। এ নিয়ে পাম্পের ম্যানেজার নাহিদের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সে রেগে গিয়ে বলে ‘তোদের পাম্পে তেল আছে। তুই দিচ্ছিস না তোকে আজকে ট্রাকের তলে চাপা দিবো’। পাম্পের আরেক কর্মচারী সোহান ইসলাম বলেন, নাহিদের সঙ্গে ওই ট্রাকচালকের তেল নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। সে নাহিদকে ট্রাকচাপার হুমকি দিয়ে পাম্পেই অবস্থান করছিল। পরে নাহিদ পাম্পের কাজ সেরে রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটের দিকে তার ভাইয়ের বন্ধু জিহাদুল ইসলামকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। এ সময় সুজাত ট্রাক ঘুরিয়ে তার পেছনে রওনা দেয়।
এ নিয়ে আমাদের সন্দেহ হলে আমি আর ক্যাশিয়ার জসিম উদ্দীন ভাই আমাদের মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রাকের পেছনে পেছনে যাই। গিয়ে দেখি সুজাত নাহিদকে চাপা দিয়ে ট্রাক নিয়ে চলে যাচ্ছে। নাহিদ ঘটনাস্থলে নিহত হয় এবং জিহাদুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিহাদুলকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন।
নিহত নাহিদ সর্দারের চাচাতো ভাই মঞ্জুর সর্দার বলেন, ট্রাক ড্রাইভার সুজাত পরিকল্পিতভাবে হুমকি দিয়ে আমার ভাইকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।