Image description

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী-লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার চার্জ নামে ভ্যাটের বোঝার দেশের জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়েছিলো। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিদুৎতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিল করা হয়েছে। সেই নির্দেশনা বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষের অবসান ঘটিয়ে প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া (মিটার চার্জ) প্রত্যাহার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তা দ্রুত কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অস্বস্তি ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল। বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। একটি গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্যেই আমরা এ মিটার চার্জ পুরোপুরি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী প্রত্যেক গ্রাহককে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ‘মিটার ভাড়া’ হিসেবে দিতে হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল, মিটারের নির্ধারিত দাম পরিশোধ হয়ে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর ধরে এ চার্জ কেন নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে চার্জ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন ও দাবি জানিয়ে আসছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও সরকারের নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা হলেও কমবে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের ক্ষেত্রে প্রতিমাসের প্রথম রিচার্জে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কাটা হয়। তবে কোনো মাসে রিচার্জ করা না হলে পরবর্তী রিচার্জে তা সমন্বয় করা হয়। প্রিপেইড মিটার এবং পোস্ট পেইড মিটার উভয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ও খরচ সমান। প্রিপেইড মিটারে ব্যবহার করা বিদ্যুতের বিপরীতে রিচার্জকৃত এনার্জির ওপর সরকার কর্তৃক প্রণোদনা হিসেবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট (ছাড়) দেওয়া হয়। প্রিপেইড মিটার সংযোগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাবদ কোনো জামানত লাগে না। পোস্ট পেইড মিটারের মতো প্রিপেইড মিটারের অনুমোদিত লোডের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ কিলোওয়াট প্রতি মাসে ৪২ টাকা হারে (আবাসিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে) ও ভ্যাট ৫ শতাংশ নিয়ম অনুসারে কাটা হয়। এ ছাড়া বিতরণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহ করা মিটারের ক্ষেত্রে প্রতিমাসে সিংগেল ফেজ ৪০ টাকা ও থ্রি ফেজ ২৫০ টাকা হারে মিটার ভাড়া কাটা হয়। প্রাকৃতিক ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মিটার নষ্ট হলে বিতরণ সংস্থা কর্তৃক বিনামূল্যে মিটার বদলে দেওয়া হয়। গ্রাহক কর্তৃক সরবরাহ করা মিটারের ক্ষেত্রে মিটার ভাড়া প্রযোজ্য নয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জন-সংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক মো. শামীম হাসান ইনকিলাবকে জানান, প্রি-পেইড সিংগেল ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা, থ্রি ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ২৫০ টাকা। উভয়ক্ষেত্রেই যদি গ্রাহক মিটার কিনে দেয়, তাহলে কোনো চার্জ দেয়া লাগে না। অর্থাৎ সিংগেল ফেজ প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা নেয়া না হলে গ্রাহকদের বছরে ৪৮০ টাকা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি থ্রি ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ২৫০ টাকা না নেয়া হলে গ্রাহকদের বছরে তিন হাজার টাকা সাশ্রয় হবে। প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া প্রত্যাহার প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, অনেক দেরিতে হলেও সরকার এই বিষয়ে নজর দিয়েছে, এটা একটা ইতিবাচক এবং উৎসাহব্যঞ্জক বিষয়। তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম বিতরণ কোম্পানিগুলোর যে মোট ব্যয় হয়, তার বিপরীতে ভোক্তারা ইউনিট চার্জ দেয়। মিটার কেনা বাবদ যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়, সেই টাকা তাদের মোট রেভিনিউ রিকোয়ারমেন্ট সাথে যোগ করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ভাগ করে দিলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ইউনিট প্রতি হয়তো আর দুই/চার পয়সা বাড়তো। এতে কারও যদি ২০০ ইউনিট ব্যয় হতো, তাহলে সে ২০০ ইউনিটের জন্য চার পয়সা করে দিত। আবার কেউ যদি ৫০ বা ২০ ইউনিট ব্যবহার করতো, তাহলে সে অনুযায়ী চার পয়সা করে চার্জ দিত। ফলে প্রান্তিক গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার ভাড়া যা নেয়া হতো, তার থেকে যারা এক থেকে দুই হাজার ইউনিট বা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতো, তারা মিটার ভাড়া বেশি দিত। কিন্তু দিনের পর দিন অসমতা তৈরি করে প্রান্তিক গ্রাহকদের লুণ্ঠন করা হয়েছে। এটা করতে পারলে সমতাভিত্তিক একটা সমাধান হতো।