গত এক যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। জাতীয় সংসদে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, এসব অনিয়ম খতিয়ে দেখতে শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
রোববার সংসদে সরকারি দলের সদস্য মোশাররফ হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের পর থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। সেগুলো যাচাই করতেই এই তদন্তের উদ্যোগ।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে দলীয় বিবেচনায় অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে তা জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিসিবির সম্পদ ব্যবহার নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বোর্ডের আর্থিক ও মানবসম্পদ অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে—এমন অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসবে।
এ সময় বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন জানতে চান, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিসিবির সম্পদের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে কি না। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার আমলে নিয়োগে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ও অযোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে ক্রীড়া খাত রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেটি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে এবং ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিসিবির কিছু কর্মকর্তার সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে জানান তিনি। বিষয়টি যাচাই করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছ থেকে চলমান তদন্তের তথ্য নেওয়া হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা যায়।