ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হোয়াইট হাউস যখন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তখন একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনও বাড়াচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হলে এই সামরিক প্রস্তুতি একটি ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হানতে কাজে লাগতে পারে।
এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩১তম ও ১১তম অভিযাত্রী ইউনিটের নৌবাহিনীর উভচর জাহাজে করে হাজার হাজার মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২০০০ প্যারাট্রুপারও মোতায়েন করা হচ্ছে, যারা ১৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের যেকোনো স্থানে গিয়ে আক্রমণ চালাতে সক্ষম, বিশেষ করে সুরক্ষিত বিমানঘাঁটিতে প্যারাশুট হামলা চালিয়ে পরবর্তী স্থল অভিযানের পথ তৈরি করতে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থলবাহিনী নামানো ছাড়াই’ তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে মনে করে। তবে আগামী সপ্তাহে মেরিনরা পুরোপুরি অবস্থান নিলে, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে চাপ তৈরি করা বা ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।
তবে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী সাঁজোয়া ইউনিট, লজিস্টিক সহায়তা ও অন্যান্য সক্ষমতার অভাব যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বড় ধরনের স্থলযুদ্ধে জড়ানো কঠিন করে তুলছে। এতে করে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় পড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হতে পারে।
সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খার্গ দ্বীপ। ইরানের উপকূলের এই ছোট দ্বীপের মাধ্যমে দেশটির প্রায় ৯০% অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এই দ্বীপ দখল করতে পারলে তা তেহরানের জন্য বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত আঘাত হবে। ট্রাম্প বহু আগে থেকেই এই দ্বীপে হামলার কথা বলেছেন।
তবে এ ধরনের অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ। মার্কিন বাহিনীর সেখানে পৌঁছাতে একদিনের বেশি সময় লাগবে, যার মধ্যে ইরান আশপাশের এলাকায় মাইন বসাতে পারে। এছাড়া ড্রোন, রকেট ও আর্টিলারি হামলার মুখে এমন অবতরণ অভিযান অত্যন্ত কঠিন হবে।
এছাড়া কেশম দ্বীপ ও লারাক দ্বীপের মতো জায়গাগুলোও সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে, কারণ এগুলো ইরানের নৌ ও ড্রোন কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। তবে কেশম দ্বীপ আকারে বড় হওয়ায় তা দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হতে পারে।
আরেকটি সম্ভাব্য মিশন হলো ইরানের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম খুঁজে বের করা। এ জন্য বিশেষ বাহিনী ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের চিন্তাভাবনা চলছে। তবে এই ধরনের অভিযান দীর্ঘ, জটিল এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশ্লেষক ম্যাক্স বুট বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো মার্কিন সেনাদের হতাহতের আশঙ্কা। তাই বড় পরিসরে স্থলবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনা খুবই কম।
বর্তমানে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের মতো বড় পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন এবং আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সরাসরি স্থলযুদ্ধে নামার চেয়ে দূরপাল্লার হামলা ও চাপ বাড়ানোর কৌশলই বেশি সম্ভাব্য বলে মনে করা হচ্ছে।