Image description

মিনার রশীদ

ঢাকার মিরপুরের এক কৃতী সন্তান। দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থাতেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছিলেন! এরপর সেই গুণধর ছাত্রটির লেখাপড়া আর এগোয়নি। তবে রাজনীতির হাত ধরে এলাকার প্রভাবশালী নেতা হতে খুব বেশিদিন লাগেনি। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সেই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বনে যান। তার যে শিক্ষক তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন, সভাপতি হয়ে তিনি প্রথমেই সেই প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার করেন।

সারা দেশে এ রকম উদাহরণের হয়তোবা অভাব নেই। এগুলো দেখেই সম্ভবত দেশের শিক্ষকসমাজসহ সুশীল সমাজ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এ রকম পিটুনি বা ন্যূনতম বকা যদি খেতেই হয়, তবে মিনিমাম একজন গ্র্যাজুয়েটের হাত থেকেই খাওয়া উত্তম! ফলে একটি দাবি উঠেছে যে, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে ন্যূনতম ডিগ্রি পাস হতে হবে!

 

কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির একটি সনদ কি আমাদের প্রধান শিক্ষকদের ইজ্জতের গ্যারান্টি হতে পারে? কারণ দেশের সম্পদ ও পাবলিক মানি যারা লুটপাট করে খেয়েছেন, তারা কেউ অশিক্ষিত নন। বরং বড় চোরেরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রিধারী! আমরা বাহ্যিক কারণ খুঁজে ফিরলেও রুট কজ অ্যানালাইসিস করি না। ফলে আমাদের কারেক্টিভ অ্যাকশনও সঠিক হয় না!

স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা ও না-করা নিয়ে সারা দেশ হুমড়ি খেয়ে পড়ল। সুশীল বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ এ ব্যাপারে অত্যন্ত মারমুখী ভাব ধারণ করেছিলেন এবং স্বল্পশিক্ষিত (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট) কারো কাছ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুদান নেওয়া আইন করে বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। সুপ্রিয় পাঠক, এই অধমকে আবার ভুল বুঝবেন না। আপনারা যে ইতর শ্রেণিকে সভাপতি হওয়া থেকে বিরত রাখতে চাচ্ছেন, আমি তাদের পক্ষে দাঁড়াচ্ছি না; বরং শুধু সবিনয়ে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি—মহামান্য গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যেও এই ইতরদের সংখ্যা নগণ্য নয়!

আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মানুষ বানানোর ফ্যাক্টরি না হয়ে (অধিকাংশ প্রোডাক্ট বিবেচনায়) কিছু চতুর ইতর সৃষ্টির ফ্যাক্টরি হয়ে পড়েছে! এই সব প্রতিষ্ঠান থেকে ডাক্তার বের হয়, ইঞ্জিনিয়ার বের হয়, প্রশাসক বের হয়—রাজনীতিবিদও বের হয়; কিন্তু মানুষ বের হয় না।

মানুষ বানানোর ফ্যাক্টরি—কেন এর পক্ষে কথা বলছি

আমার এই গল্প থেকে আরো অনেকেই উৎসাহিত হবেন—এ কারণেই এই গল্পটি বর্ণনা করছি। আমার টার্গেট নৈতিক শিক্ষার এই আন্দোলনটিকে আরো এগিয়ে নেওয়া!

ছোট দুই ভাই ও দুই বোনকে রেখে মারণব্যাধি টাইফয়েডে মা মারা যান! ছোট বোনটির বয়স ছিল মাত্র কয়েক মাস। মায়ের মৃত্যুর কিছুদিন পর এই ছোট বোনটিও মারা যায়। আমার মা যখন মারা যান তখন তার বয়স ত্রিশও হয়নি! সেই প্রত্যন্ত গ্রামে বসেও তিনি স্বপ্ন দেখতেন, তার ছেলে একজন বড় মাপের মানুষ হবে! আমাকে শার্ট-প্যান্ট পরিয়ে এবং ছোট ভাইকে পাঞ্জাবি পরিয়ে মুরুব্বিদের কাছে গিয়ে এই স্বপ্নের কথা বলতেন! মায়ের সেই স্বপ্নের কথাগুলো বাড়ির মুরুব্বিরা এতবার বলেছেন যে, তা নিয়ে মনের মাঝে একধরনের আবেগমিশ্রিত প্রতিজ্ঞা জন্ম নিয়েছিল! মায়ের প্রতি এ রকম একটা আবেগ থেকেই কিছু করার চিন্তা করছিলাম নিজের সামর্থ্যের মধ্যে।

আমার হিসাবটি ছিল এরকম যে, মা বেঁচে থাকলে যা খরচ করতাম তারই একটা অংশ দিয়ে এমন কিছু করতে চাই, যা তার কাজে লাগবে! বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে ভেবেছি। তার মধ্যে একটা ছিল একটি মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা!

মনের এই ইচ্ছাটি শেয়ার করি আমাদের এলাকার সর্বজনশ্রদ্ধেয় ডা. আবুল হোসেন সাহেবের সঙ্গে! তিনি বলেন, খুবই চমৎকার আপনার এই ভাবনাটি। তবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন, যেখান থেকে ছেলেমেয়েরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সত্যিকার ভালো মানুষও হবে! মানবসম্পদের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানবতার উন্নয়ন—এর চেয়ে বড় সদকায়ে জারিয়া আর কিছু হতে পারে না! আইডিয়াটি খুবই মনে ধরে এবং সেভাবেই কাজ শুরু করি!

মায়ের প্রতি এই আবেগটি কাজ না করলে আমি হয়তোবা এই মহৎ কাজটি শুরু করতাম না! আজ এই প্রতিষ্ঠানটি এই উপজেলার অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে! আমার মতো একজন সাধারণ মানুষ নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এক লাখ টাকা দিয়ে স্কুলের জন্য যে জমিটা কিনে দিয়েছিলাম, তার বর্তমান বাজারমূল্য সাত কোটি টাকা। কিন্ডারগার্টেন হিসেবে শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটির প্রথম দিকে খরচের বেশিরভাগও আমি বহন করেছি! মায়ের প্রতি আবেগ এবং ধর্মের প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাস না থাকলে আমি কখনোই এই কাজটি করতে পারতাম না। যুবক বয়সে যে সব কাজের সাহস করা যায় পরবর্তী সময়ে তা সম্ভব হয় না! এই নগণ্যকে দিয়ে পরম করুণাময় এ রকম একটি কাজ করিয়েছেন, সেজন্য তার দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া জানাচ্ছি!

তবে এটি আমার মায়ের নামে নামকরণ না করে ‘ইসলামি একাডেমি ত্রিশাল’ নামে নামকরণ করেছিলাম। বাবা-মায়ের নামে প্রতিষ্ঠান করে পরে জনসেবায় নামার যে সংস্কৃতি এ দেশে চালু রয়েছে—সেসব দুর্বলতা থেকে এই প্রতিষ্ঠানটিকে দূরে রাখতে চেয়েছিলাম!

কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ না হওয়ায় আমার সঙ্গে আরো যারা জড়িত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মান উন্নত করতে, সবাই তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন! ফলে অতিদ্রুত এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা এবং এসএসসির ফলাফলে দীর্ঘ সময়ে উপজেলায় এটি টপ অবস্থান বজায় রেখেছে!

মায়ের নামে স্কুলের নামকরণ না করে একদিক সামাল দিলাম। অন্যদিকে অন্য ঝামেলা শুরু হলো। ইসলামের প্রতি অ্যালার্জিক অংশ ‘ইসলাম’ শব্দটি দেখলেই জামায়াতের গন্ধ পায়! ফলে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে না জড়ালেও সেই ট্যাগ জুটে গেল! আমার স্পষ্ট কথা ছিল—নৈতিক শিক্ষা শুধু জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামি ঘরানার মানুষের জন্যই দরকার হয়, তা নয়; বিএনপি-আওয়ামী লীগসহ সবারই এই নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতোই সরকারি সিলেবাস অনুসরণ করে। শুধু ছেলেমেয়েদের নামাজ-কালামসহ নৈতিক কিছু শিক্ষা দেওয়া হয়। যারা নৈতিক শিক্ষা প্রচার ও প্রসারের কাজে নিয়োজিত, তারা কোনো একটি বিশেষ দল করলে একটা বৃহৎসংখ্যক মানুষকে ইসলামের আশীর্বাদ থেকে দূরে রাখা হবে। আর এ কারণেই কোনো ইসলামি রাজনৈতিক দল থেকেই সচেতনভাবে দূরে থাকি; অন্য কোনো গোপন অভিলাষের কারণে নয়!

তারপরও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও বিরোধিতার মধ্য দিয়ে আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি অগ্রসর হয়েছে। বিশেষ করে কলেজ শাখার শিক্ষকরা সব প্রয়োজনীয় শর্ত ও রিকোয়ারমেন্ট পূরণ করা সত্ত্বেও আট-নয় বছর ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে যাচ্ছেন, যা সত্যিই অমানবিক ঠেকছে! সংগত কারণেই আশা করছি, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে এই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সুবিচার করা হবে এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখার শিক্ষকদের বেতন চালু করার অবশিষ্ট প্রক্রিয়াটি অতি শিগগিরই সম্পন্ন করা হবে।

শিক্ষায় নৈতিকতার পাঠ আজ কেন অপরিহার্য, তা বুঝতে অনুরোধ থাকবে। সবাই নিচের কয়েকটি অনুচ্ছেদ একটু মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। এটি শুধু পাঠ্যক্রমের বিষয় নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

নৈতিকতার রক্ষাব্যূহ ভেঙে গেলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়

প্রত্যেকটা সমাজে জনগণকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখার জন্য কিছু স্বাভাবিক উপায়-উপকরণ থাকে। সব সমাজ একভাবে চলে না, সব জাতির সামাজিক রসায়নও এক নয়; কোনো সমাজে রাষ্ট্রের আইন বড় নিয়ন্ত্রক, কোথাও পারিবারিক কাঠামো, কোথাও সামাজিক রীতি-নীতি।

আমাদের সমাজে সেই নিয়ামক শক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম ছিল ধর্ম, বিশেষ করে ইসলাম। এটি শুধু নামাজ-রোজা বা কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

আমাদের সমাজে নৈতিকতার ভাষা, আত্মসংযমের শিক্ষা, পরিবার রক্ষার কাঠামো, ভালো-মন্দের সীমারেখা এবং জবাবদিহিতার চেতনা হিসেবে কাজ করেছে ধর্ম। একজন মানুষ কেন অন্যায় করবে না, কেন পাপ থেকে বিরত থাকবে, কেন বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল হবে, কেন লোভ-লালসাকে নিয়ন্ত্রণ করবে—এসবের জন্য লাগে অন্তরের পুলিশ। আর সেই অন্তরের পুলিশ হিসেবেই যুগ যুগ ধরে কাজ করেছে ধর্মীয় মূল্যবোধ।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের সমাজে এমন একটি প্রভাবশালী অংশ তৈরি হয়েছে, যারা ইসলামকে সমাজের স্বাভাবিক নিয়ামক শক্তি হিসেবে বিকশিত হতে দিতে চায়নি। তারা ধর্মকে ভয় পেয়েছে, ধর্মীয় ভাষাকে অপছন্দ করেছে, ধর্মীয় অনুশাসনকে পিছিয়ে পড়া মানসিকতা বলে তুচ্ছ করেছে। তাদের চোখে ধর্ম যেন উন্নয়নের শত্রু, অথচ বাস্তবতা হলো—ধর্মহীনতা ও নৈতিকতাহীনতাই সমাজকে ধ্বংস করে।

আজ আমরা সেই ধ্বংসের চিত্র চারদিকে দেখতে পাচ্ছি

আমাদের নিজেদের উপজেলাতেই এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, যা কেবল একটি অপরাধ নয়—এটি পুরো সমাজের নৈতিক ভাঙনের এক বিভীষিকাময় প্রতীক। এক ছেলে অনলাইন জুয়ার টাকা না দেওয়ায় নিজের বাবা-মাকে হত্যা করে বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখে।

এই একটি ঘটনাই যথেষ্ট বোঝার জন্য যে, আমরা কত গভীর খাদে নেমে গেছি। একজন ছেলে কোথায় গিয়ে পৌঁছালে সে নিজের জন্মদাতা মা-বাবাকে টাকার জন্য হত্যা করতে পারে? এখানে শুধু একজন খুনি তৈরি হয়নি—এখানে একটি প্রজন্মের ভেতর থেকে লজ্জাবোধ, বিবেক, পাপবোধ, পারিবারিক পবিত্রতা এবং আল্লাহভীতি একসঙ্গে ক্ষয়ে গেছে।

এ ধরনের মানুষ এক দিনে তৈরি হয় না; এরা তৈরি হয় দীর্ঘদিনের নৈতিক শূন্যতা, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, ডিজিটাল আসক্তি, ভোগবাদী সংস্কৃতি, ধর্মীয় শৈথিল্য ও আত্মিক অনাহার থেকে। আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবন সহজ করেছে, তেমনি নিয়ন্ত্রণহীন হলে সেটিই মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অনলাইন জুয়া, পর্নোগ্রাফি, মাদক, ভার্চুয়াল আসক্তি, অর্থহীন বিনোদন—এসব শুধু ব্যক্তিকে নয়, সমাজের নৈতিক স্নায়ুতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আর যখন সমাজের ভেতরে শক্তিশালী কোনো নৈতিক রক্ষাব্যূহ থাকে না, তখন এই পচন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আমাদের সমাজে যারা একসময় বোহেমিয়ান জীবন, সীমাহীন স্বাধীনতা, দায়হীন সম্পর্ক এবং ‘আমি আমার মতো’ ধরনের এক ধরনের আত্মকেন্দ্রিক জীবনযাপনকে আধুনিকতা মনে করেছিলেন, তাদের অনেকের জীবন শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে নিঃসঙ্গতা, একাকিত্ব ও গভীর শূন্যতায়। যৌবনে মানুষ অনেক কিছুই রোমাঞ্চকর মনে করে—রাতজাগা আড্ডা, উচ্ছৃঙ্খলতা, দায়িত্বহীনতা, সম্পর্কের খেলাধুলা। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বুঝতে শেখে—জীবন কেবল উপভোগের বিষয় নয়; জীবন আশ্রয়েরও বিষয়, সম্পর্কেরও বিষয়, আত্মারও বিষয়।

আমাদের বন্ধুবান্ধব ও জুনিয়র-সিনিয়রদের অনেকেই নিজের জীবন গুছিয়ে নিয়েছে! সবাই কমবেশি ধর্ম ও পরিবার অনুরাগী! এদের মধ্যে দু-একজন বোহেমিয়ান জীবনযাপন করেছেন। এদের মধ্যে একজন দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ মাসেই বিদায় নিয়েছেন। সবাই যেখানে নিজ নিজ পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছেন, সেখানে তিনি ছিলেন একাকী। দ্বিতীয় স্ত্রী থাকলেও তার সঙ্গে ছিলেন না। একাকী নিঃসঙ্গ অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তারই আরেক বন্ধু, একই পথের পথিক অস্ট্রেলিয়ায় একই অবস্থায় পৌঁছে গেছেন! তাদেরই আরেক বন্ধু ঢাকাতেই এক বাসায় মরে পড়েছিলেন। লাশের গন্ধ শুরু হলে পাশের বাসার মানুষ তা টের পান! আগে এসব খবর শুধু বিদেশিদের নিয়ে শুনতাম। এখন তা আমাদের কাছাকাছি চলে এসেছে! আমাদের বিনোদন জগতে এরকম উদাহরণ ভূরি ভূরি। দুদিন আগেও এক অভিনেতার এ রকম ট্র্যাজেডির গল্প শোনা যাচ্ছে। এগুলো নিয়ে আমাদের সমাজবিজ্ঞানীরা এখনো চুপ করে রয়েছেন। কারণ তাদের কাছে কোনো সমাধান নেই! এগুলো কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এগুলো আমাদের সময়ের সামাজিক ব্যর্থতার দলিল।

আইন অপরাধীকে শাস্তি দিতে পারে, কিন্তু অপরাধ জন্ম নেওয়ার আগের আত্মিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। সেটা গড়ে তোলে পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি ধর্মীয় নৈতিকতা।

তাই এখন সবচেয়ে জরুরি হলো, আমাদের সমাজে নৈতিক শিক্ষাকে একটি স্বাভাবিক, মানবিক ও সামাজিক শক্তি হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এটিকে ভয় পাওয়ার বা সংকুচিত করার কিছু নেই; বরং এটিই হতে পারে আমাদের সামাজিক পুনর্গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

 

লেখক : কলামিস্ট