Image description
 

Ali Ahmad Mabrur (আলী আহমদ মাবরুর)


 
জামায়াতের বিরুদ্ধে দুমুখী ক্যাম্পেইন চলছে বলেই আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে। একটি হচ্ছে মাঠের বাস্তবতা আরেকটা হচ্ছে পাবলিক ইমপ্রেসন তৈরি করা। মাঠে এবার বিএনপি থেকে যারা নির্বাচন করেছেন তারা জামায়াতের যন্ত্রণা বেশ ভালোভাবেই সহ্য করেছেন। জামায়াত তাদেরকে একটি ভালো ফাইট দিয়েছে। পার্লামেন্টে কুমিলার প্রবীণ পার্লামেন্টিরিয়ান মনিরুল হক চৌধুরি তার ভাষণে সরলভাবে এটি স্বীকার করেছেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনে তার কতটা কষ্ট করতে হয়েছে।
 
মির্জা ফখরুল সাহেবও ঠাকুরগাঁওতে ঘরোয়া একাধিক বৈঠকেও স্বীকার করেছেন যে, এবার তাকে যে পরিমাণ সময় মাঠে দিতে হয়েছে তার জীবনে এমনটা কখনো হয়নি। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ না থাকলেও জামায়াতের প্রার্থীই তার নির্বাচনকে অনেক বেশি কঠিন করে দিয়েছিল। একইরকম কথা বলে ফেলেছেন আশরাফি পাপিয়া। তার ভাষায় জামায়াত হলো জঘন্য বিরোধী দল।
 
এটা হলো ভেতরকার অবস্থা। কিন্তু বাইরে ইমপ্রেশন তৈরি করা হচ্ছে আরেকরকম। এই ধারার মূল চেষ্টা হলো জামায়াতকে অযোগ্য প্রমাণ করা। বিএনপির অন্যায়গুলো চেপে যাওয়া এবং জামায়াতের ছোট বড়ো সব দোষ বের করা। তারা প্রমাণ করতে চাইছেন যে, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত অযোগ্য। তারা যথাযথ বিরোধিতা করতে পারছে না। জামায়াতের ভুল নেই বা তারা কোনো ভুল করছেন না তা বলছি না। তবে ইনটেনশনালী শুধু নেগেটিভ বিষয়াবলী প্রচার করাও উদ্দেশ্যমূলক।
 
মাঠে জামায়াতের শক্তিমত্তা নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন আর এর বিপরীতে জামায়াতকে অযোগ্য হিসেবে যারা পাবলিক ইমপ্রেশন তৈরি করছেন- এ দুধারার বেসিক টার্গেট কিন্তু এক। তারা চাইছেন জামায়াত যেন বিরোধী দল হিসেবে ভবিষ্যতে না থাকে। আমার ধারনা এই ক্যাম্পেইন সামনে অনেকদিন চলবে। এর মধ্যে অলটারনেটিভ বিরোধী দল তৈরি করার চেষ্টা হবে। যদি তেমনটা করা যায় এবং আওয়ামী লীগের অবস্থান একটু অনুকূল করা যায় তাহলে এই বিএনপি, নব্য বিরোধী দল আর উপরোক্ত দু ধারা- সবাই মিলেই জামায়াতকে চুড়ান্ত আঘাতটি করবে। নানা পক্ষ ও কাজের ধরন ভিন্ন হলেও উপরোক্ত সবার মূল উদ্দেশ্য একটিই- আর তাহলো জামায়াতকে আগামী নির্বাচনে কোনোভাবেই বিরোধী দল বা এরকম কোনো শক্ত অবস্থানে না আসতে দেয়া।