কেউ যাতে অবৈধভাবে তেলের কারবার করতে না পারে সেজন্য প্রতিটি জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এসব তদারকি দল গঠন করে প্রশাসন নজরদারি জোরদার করেছে বলে শুক্রবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এদিকে অবৈধ মজুতদারি ও কালোবাজারির তথ্য দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও আসছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করছে প্রশাসন। শেরপুরে একটি আবাসিক ভবনে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল মজুতের দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। একই ভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘তেল নেই’ নোটিশ ঝুলিয়ে বিক্রি বন্ধ রেখে প্রায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানি মজুত রাখার প্রমাণ পেয়ে একটি পাম্পকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় পৃথক অভিযানে ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ডিপো ও জাহাজ থেকে তেল সরবরাহের পথে একটি চক্র অবৈধভাবে তেল সরিয়ে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বিশেষ অভিযানে ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধারের তথ্য দিয়ে ভিজিলেন্স টিমগুলোর কার্যক্রমের কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কালোবাজারি ও অবৈধ মজুতের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। সরবরাহে ঘাটতি নেই, কিন্তু অসাধু চক্র তেল মজুত করে বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজ থেকে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে-আশা পাম্প মালিক সমিতির : পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, শনিবার থেকে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। শুক্রবার এক জরুরি বিবৃতিতে এ আশার কথা জানায় অ্যাসোসিয়েশন। বিবৃতিতে সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, বর্তমানে পেট্রোলপাম্পগুলোতে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য যে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা অনভিপ্রেত। এ অবস্থা সামলাতে সাধারণ গ্রাহকদের অবশ্যই সংযত হতে হবে।
জ্বালানি সংকট ব্যাখ্যা করে বিবৃতিতে জানানো হয়, মার্চ মাসে অধিক মাত্রায় সরকারি ছুটি থাকায় জ্বালানি তেলের ধারাবাহিক সরবরাহ প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দেশের বেশকিছু জায়গায় পাম্প সাময়িকভাবে তেলশূন্য হয়ে পড়েছিল। তবে এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়, আজ থেকে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পুনরায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।