Image description

সারা দেশে নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুতকৃত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে শেরপুরে আবাসিক ভবন থেকে ১৮ হাজার লিটার তেল, চট্টগ্রামে পানির ট্যাংকে ৬ হাজার লিটার ডিজেল, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯ হাজার ৭৮৩ লিটার জ্বালানি এবং শ্রীমঙ্গলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করা হয়। তেল মজুতের দায়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা হয়। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-

শেরপুর সংবাদদাতা জানান, শহরের একটি আবাসিক ভবনে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। তেল মজুত রাখার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মজুতকৃত তেল সরিয়ে নেয়া এবং ওই ভবনে তেল বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের গোয়ালপট্টি এলাকার মেসার্স শিমলা ট্রেডার্সে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসান। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের মালিক তাপস নন্দীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জানা যায়, তাপস নন্দী ও শফিকুল ইসলাম হেলালের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে প্রান্তিক কৃষক ও দোকানদারদের কাছে ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি করে আসছিল। তাদের খুচরা তেল বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে। তবে নিয়ম লঙ্ঘন করে আবাসিক ভবনের নিচতলায় প্রায় ২৭ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি বড় ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। অভিযানকালে সেখানে প্রায় ১৮ হাজার লিটার ডিজেল মজুত পাওয়া যায়। এ ছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও তারা প্রদর্শন করতে পারেননি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুতের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ কারণে জরিমানা করা হয়েছে এবং নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে জ্বালানি তেল থাকার পরেও বিক্রি বন্ধ করে দেয়ায় একটি পেট্রোল পাম্পকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকার মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনকে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনে ‘পাম্পে তেল নেই’- ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়ে জ্বালানি তেল বিক্রয় বন্ধ করে দেয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই পাম্পে যান এবং তেলের মজুত যাচাই করেন। এ সময় দেখা যায়, সেখানে ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি না করার অপরাধে ওই পেট্রোল পাম্পকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবৈধ তেল মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ৩০টি ড্রামে মজুত করে রাখা প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে পতেঙ্গা কমিশনার ঘাটায় অবৈধ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসব তেল জব্দ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার। সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকটকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে ওই ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ডিজেল মজুত করে আসছিলেন। গোপনে সংগ্রহ করা এসব জ্বালানি মজুত করেছিলেন পানির দু’টি ট্যাংকে। খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল তার। তবে ওই ব্যবসায়ীর নাম জানা যায়নি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে অবৈধ ডিজেলের পাশাপাশি তেল স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জামাদিও জব্দ করা হয়। 

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় গোপনে জ্বালানি তেল মজুতকে কেন্দ্র করে সক্রিয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সন্ধান মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই চক্র ডিজেল ও পেট্রোল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রুস্তমপুর এলাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মহিবুল্লাহ আকন ও র‌্যাব ,পুলিশের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, তেল ডিপোর অসাধু কর্মচারী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে এই সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। তারা বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প থেকে নিয়মিত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে শহরের বাইরে ও নির্জন স্থানে থাকা গুদামে মজুত করতো। পরে সংকট তৈরি হলে দ্বিগুণ দামে সেই তেল বিক্রি করা হতো। অভিযানকালে রুস্তমপুর এলাকায় সুবোধ বাবুর গ্যাস সিলিন্ডার গোডাউন ও মেসার্স শান্ত এন্টারপ্রাইজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে অনুমোদনহীনভাবে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পাওয়া হয়। একইসঙ্গে গোডাউনে ৩০ হাজার কেজি এলপিজি সিলিন্ডার মজুত পাওয়া যায়। এসময় দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলেই সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক সত্যজিৎ সরকার ও শান্ত সরকারকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। কিছু ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।