ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপ লাইনে সরাসরি ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছেছে দিনাজপুরের পাবর্তীপুরের রেলহেড ডিপোতে ।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাইপলাইনে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসে পৌঁছে। শুক্রবার ডিপোর সহকারী ইনচার্জ মো. জীবন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিপোর সহকারী ইনচার্জ মো. জীবন জানান, ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপ লাইনে সরাসরি দিনাজপুরের পাবর্তীপুরের রেলহেড ডিপোতে ডিজেল পৌঁছাতে সময় লেগেছে ৬০ ঘন্টা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের মধ্যেই পাইপ লাইনে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসে পৌঁছে।
এসব ডিজেল পদ্মা, মেঘনা ও যমুনায় শুক্রবার সকাল ৮ টার সময় ডিপো করা হয়েছে। পদ্মা ডিপোতে সাড়ে ১৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেওয়া হয়েছে ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষিনির্ভর উত্তরের ৮ জেলায় চাষাবাদে সেচের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি ডিজেলনির্ভর যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ নিতে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ১৫ বছর মেয়াদি ভারতের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চলতি বছর পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসবে এই পাইপলাইনে।
রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রেলপথ এবং যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি এড়াতে ভারতের আসামের শিলিগুড়ির নূমালীগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে দিনাজপুরের পাবর্তীপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়।
চুক্তি অনুসারে ২০২৬ সালে মোট এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করতে পারবে বাংলাদেশ। সেই চুক্তি অনুযায়ী ফেবব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসি।
গত ১১ মার্চ ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছিল। শুক্রবার এসে পৌঁছেছে ৫ হাজার মেট্রিক টন এবং আগামী সপ্তাহে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাইপ লাইনে আসার কথা রয়েছে।
এছাড়াও আগামী ৪ মাসের মধ্যে ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আরো ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসি।
উল্লেখ্য, এর আগে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭শ’ ১৮ মেট্রিক টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২শ’ ৪ মেট্রিক টন, ২০২৫ সালে এক লাখ ২৪ হাজার ২শ’ ১৬ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করেছে।