Image description

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান ঘিরে স্থবিরতা কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ছন্দে ফিরেছে পর্যটন শহর কক্সবাজার। ঈদুল ফিতরের টানা ৭ দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকতে। পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গত ১৯ মার্চ ঈদের ছুটির শুরু থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত অন্তত ৫ লাখ ৮০ হাজার পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। এই এক সপ্তাহেই পর্যটন খাতে প্রায় ৫৮০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২৮ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাণিজ্যের পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সরেজমিনে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সব বয়সের পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ সমুদ্রে গোসল করছেন, কেউবা বালুচরে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করছেন।

এদিকে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনে হোটেল-মোটেল জোন ও আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দূরপাল্লার বাসগুলো টার্মিনালে রাখা হলেও ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাঝারি মানের যানবাহন শহরে প্রবেশ করায় ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে কলাতলী মোড়, বাইপাস সড়ক ও ডলফিন মোড়ে দিনভর যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ করা গেছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল শুক্কুর জানান, প্রায় এক মাসের বেশি সময় পর পর্যটন খাতে বড় ধরনের গতি ফিরেছে। ইতিমধ্যে হওয়া ৫৮০ কোটি টাকার লেনদেন আবাসন, পরিবহন, খাদ্য, বিনোদন ও খুচরা ব্যবসাসহ সব খাতকে চাঙ্গা করেছে। তিনি আরও বলেন, “উন্নত সেবা, সহজ যাতায়াত এবং বিমান ভাড়া কমানো গেলে এই খাত আরও টেকসই হবে।”

সৈকতের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ‘সি-সেইফ লাইফ গার্ড’ কর্মী জয়নাল আবেদীন ভুট্টো বলেন, “সমুদ্রের প্রতিটি পয়েন্টেই পর্যটকের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।” জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ জানান, পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের অধিকাংশ কক্ষ এক সপ্তাহ আগেই বুকিং হয়ে গিয়েছিল। পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্পটগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, বাড়তি পর্যটকের চাপ সামাল দিতে সমুদ্রসৈকতে নারী পুলিশসহ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, “পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করাই জেলা প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।” এছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মাঠে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।