Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান আগ্রাসনের ২৭তম দিন পার হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হাজার বছরের সভ্যতার অধিকারী দেশটিতে বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে আগ্রাসী ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। এর বিপরীতে দৃঢ়ভাবে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে তেহরান। ইসরাইলের সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে প্রচণ্ড আঘাত হানে ইরানের সামরিক বাহিনী। এর জেরে যুদ্ধ প্রলম্বিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বের অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এরই মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওই পোস্টে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষ অবসানে শান্তি আলোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় জল্পনা চলছে। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা ইরানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, মধ্যস্থতার এ প্রক্রিয়ায় তুরস্ক ও মিসরও যুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ তুরস্ক ও মিসর আরো অন্য অনেক দেশের মতোই এ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে।’

এদিকে গত বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবের খসড়া তেহরান পেয়েছে। তবে ইরানের সরকার এ প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ বন্ধে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি শর্ত দিয়েছে তেহরান। এর মধ্যে রয়েছে, আগ্রাসন ও হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ বন্ধ, যুদ্ধ আবার শুরু না হওয়ার স্থায়ী ব্যবস্থাপনা গ্রহণ, যুদ্ধের ক্ষতিপূর্ণ দেওয়া, সব প্রতিরোধ সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে নেওয়া।

ইরানি জেনারেলকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

নতুন করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ এক জেনারেলকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এক ভিডিও বিবৃতিতে এ দাবি করেন।

কাটজ জানান, বুধবার রাতে হামলা চালিয়ে আইআরজিসির নৌশাখার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা তাঙ্গসিরিকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ তদারকের দায়িত্বে ছিলেন।

তবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ইরান জেনারেল তাঙ্গসিরির হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৩৭

ইরানে চলমান মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৯৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল আলজাজিরাকে এ তথ্য জানান ইরানের স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী আলি জাফরিয়ান। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে ২৪০ জন নারী ও ২১২ শিশু রয়েছে।

তিনি আরো জানান, আগ্রাসনে পুরো দেশে অন্তত ২৪ হাজার আটশ লোক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চার হাজার নারী ও এক হাজার ৬২১ শিশু রয়েছে।

নেতানিয়াহুকে ত্যাগ করছেন ট্রাম্প : অ্যাক্সিওস

এদিকে বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে জানানো হয়েছে, আগ্রাসনের মধ্যেই ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দেশটিতে ‘গণআন্দোলন’ শুরুর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এর জবাবে নেতানিয়াহুকে তিরস্কার করেন ট্রাম্প।

খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে ফোনালাপে নেতানিয়াহু এ প্রস্তাব দেন। তখন ট্রাম্প তাকে তিরস্কার করে বলেন, ‘আমরা কেন মানুষকে রাস্তায় নামতে বলব যখন তাদেরকে নিধন করা হচ্ছে।’

মার্কিন ও ইসরাইলি সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে জানানো হয়, ট্রাম্প মনে করছেন, এভাবে রাস্তায় নামলে হাজার হাজার ইরানি সরকারি বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন।

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পাবে বাংলাদেশসহ ৬ বন্ধু দেশ

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশের জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে।

গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, ‘অনেক জাহাজ মালিক বা দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, যাতে তারা নিরাপদে প্রণালি পার হতে পারে। যেসব দেশকে আমরা বন্ধু মনে করি বা বিশেষ কারণে অনুমতি দেই, তাদের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত। কয়েকদিন আগে ভারতের দুটি জাহাজ পার হয়েছে। আরো কিছু দেশ, এমনকি বাংলাদেশও, যারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। ভবিষ্যতেও যুদ্ধের পরেও এটি চলবে।’