Image description

স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোয় দলীয় নিয়োগের মাধ্যমে বিএনপি নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিও জনরায়কে ভয় পায়। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোকজনকে চেয়ারে বসাচ্ছে। এর পরিণতি শুভ হবে না।

 

গেল জাতীয় নির্বাচনে এক্সট্রা অর্ডিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। আমরা আল্লাহর দরবারে মামলা করে দিয়েছি। ফায়সালা আল্লাহই করবেন।

 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার পাবলিক হলে শহর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

 

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ৫ বছর ভেজাল ধরার ইলম অর্জন করতে হবে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এই লড়াইয়ে আমাদের জিততে হবে।

 

 

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট থেকে শিক্ষা নিন। রাজনীতিতে আর নতুন সংকট যেন তৈরি না হয়। জনগণের অভিপ্রায় বাস্তবায়ন করুন। বিরোধী দল হিসেবে আপনাদের পাশে থাকব। জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। চার কোটি মানুষের রায়কে অবজ্ঞা করার ষড়যন্ত্র রুখতে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

বিএনপির কপাল খারাপ মন্তব্য করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের কপাল খারাপ না। জনগণের কপালও খারাপ না। যারা কথা দিয়ে কথা রাখে না তাদের কপাল খারাপ। তিনি বলেন, জনগণের অভিপ্রায় হচ্ছে সবচেয়ে বড় আইন। মানুষের জন্য আইন, আদালত ও সংবিধান। অবিলম্বে জনঅভিপ্রায় অনুসারে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

 

কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুকের সভাপতিত্বে ঈদ পুনর্মিলনীতে গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেমন ভোট হয়েছে জনগণের কাছে তা স্পষ্ট। জনরায়কে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপরও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে কষ্ট চাপা দিয়ে ফলাফল মেনে নিয়েছে জামায়াত। তার মানে অন্যায়, অসত্য, অনিয়মকে আমরা মেনে নিব না।

 

নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বিএনপি, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান অতিথি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জুলাই সনদকে কোনো আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না মর্মে বিএনপি স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু তারা বর্তমানে ১৮০ ডিগ্রি ব্যাক করেছে। জুলাই সনদ কি, বাড়ির কাজের মেয়েরাও বুঝে। শুধু বিএনপি বুঝে না!

 

শহর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি দরবেশ আলী মুহাম্মদ আরমানের সঞ্চালনায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন শহর জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

 

ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন—জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মুফতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ, সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি শামসুল আলম বাহাদুর, জেলা সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, কক্সবাজার-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, জেলা শিবিরের সভাপতি মীর মোহাম্মদ আবু তালহা, জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার উদ্দিন হেলালী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দীন বাহারী।

 

বক্তব্য দেন—সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সাবেক সভাপতি জিএএম আশেক উল্লাহ, শহর জামায়াতের নায়েবে আমির কফিল উদ্দিন চৌধুরী, শহর যুব বিভাগের পরিচালক জাহেদুল ইসলাম নোমান, ঝিলংজা ইউনিয়ন আমির শহীদুল্লাহ।

 

উপস্থিত ছিলেন—চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, সাবেক জেলা সেক্রেটারি ও কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, জেলা অফিস সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান, সদর উপজেলা আমির অধ্যাপক খুরশিদ আলম আনসারী, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সেলিম উল্লাহ বাহাদুর, রামু উপজেলা সেক্রেটারি আ ন ম হারুন, মাওলানা আব্দুর রশীদ প্রমুখ।