Image description

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ মামলা দায়ের করেনি। তবে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান।

মমিনুজ্জামান বলেন, “বারবার বলার পরও এখনও কোনো পক্ষ এজাহার জমা দেয়নি। জমা দিলেই মামলা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা এই বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত কি না যাচাই করা হচ্ছে।”

এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) ঈশ্বরদীর রেলগেট ও পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মেহেদী হাসান বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থক ঈশ্বরদী পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্দুল রউফকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে হাবিব সমর্থক উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে।

পরে ইমরুল কায়েস সুমনের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জাকারিয়া পিন্টুর ভাই ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের নামে থানায় মামলা করা হয়। তবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি মামলাটি মিথ্যা দাবি করেন।

একই দিন বিভিন্ন এলাকায় মারধর, হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে হাবিব গ্রুপের নেতাকর্মীরা। পরে উভয় পক্ষ মিছিল বের করলে সংঘর্ষ বাধে। এতে ঈশ্বরদী পৌর শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে হাবিবুর রহমান হাবিবের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ৬টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।