Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ফাতিমা তাসনিম জুমা। গত দেড় বছরে তার যাত্রা অসাধারণ এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে তিনি আজ ইনকিলাব মঞ্চের শীর্ষ নেতৃত্বের অংশ। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির ঘনিষ্ঠতম সহযোদ্ধা হিসেবে তার ভূমিকা অনন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ।

 

আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি একটি উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছেন। একই সঙ্গে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও আলোচিত তিনি। ফাতিমা তাসনিম জুমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট, সংগ্রামের বাস্তবতা, প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং ব্যক্তিগত বেদনা নিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন এশিয়া পোস্টের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবিদ আজম

 

এশিয়া পোস্ট: আপনার জীবনযাত্রা হয়েছিল খুবই স্বাভাবিকভাবে। একজন সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে। জুলাই আপনার জীবনকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছে। সেই রূপান্তরের গল্প আমাদের বলুন। কীভাবে একজন নিরাপদ জীবনযাপনকারী শিক্ষার্থী থেকে আপনি আজ এই অবস্থানে এসেছেন?

 

ফাতিমা তাসনিম জুমা: আমার জীবনের আগে এবং পরে—এই দুটি অংশকে আলাদা করে দেখা যায় স্পষ্টভাবে। জুলাই আমার জীবনের একটি জলবিভাজক মুহূর্ত। জুলাইয়ের আগে আমি যখন কোনো অন্যায় দেখতাম, আমি প্রতিবাদ করতাম, আন্দোলনে অংশ নিতাম; এটা সত্য। কিন্তু আমার মনের মধ্যে কখনও এমন চিন্তাভাবনা ছিল না যে আমাকে একটি পাবলিক ফেইস হতে হবে, একটি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হবে বা সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করতে হবে। আমার লক্ষ্য ছিল শুধু সত্য কথা বলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।

 

 

কিন্তু জুলাই আমাদের সম্পূর্ণভাবে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। রাজপথে আমাদের ভাইবোনদের মৃত্যু দেখলাম, শুধু সংখ্যায় নয়; সরাসরি আমাদের সামনে। আমাদের বন্ধুরা গুম হয়েছে, প্রিয়জনরা গুম হয়েছে। রাস্তায় রক্ত বইতে দেখেছি, মানুষের চিৎকার শুনেছি। সরকারের নির্মম দমন-পীড়ন, মানুষের অসহায়তা—এই সব কিছু দেখে আমার ভেতর থেকে একটি নতুন সাহস জেগে উঠেছে। শুধু সাহস নয়, একটি দায়িত্ববোধ, একটি মিশন, একটি প্রতিশ্রুতি।

 

আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এই লড়াইটা আমার ব্যক্তিগত সুবিধা বা ক্যারিয়ারের জন্য নয়, এটা মৃত লাখ লাখ মানুষের জন্য, যাদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে, যাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়েছে। সেই সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আমাকে সামনে আসতে হবে। এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, এটা একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো যারা আমাকে থামাতে চেয়েছে, যারা আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, তাদের প্রতিটি প্রচেষ্টা আমাকে আরও শক্তিশালী করেছে। আমি জানি, যারাই সিগনিফিক্যান্ট হয়ে উঠবে, যারাই রিলেভেন্ট হয়ে উঠবে, যারাই ভোকালটা স্ট্রং রাখবে তাদেরকে টার্গেট করা হবে। যতবার আমাদেরকে টার্গেট করা হয় আমরা তত বেশি শক্তিশালী হই। আমাদেরকে টার্গেট করা হলে আমরা ১০ গুণ শক্তি নিয়ে ফিরি। আমরা শহীদ শরিফ উসমান বিন হাদির সহযোদ্ধা, আমাদেরকে তো এত সহজে টলানো যাবে না।

 

যখন আমি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হই—যখন আমার ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে অপ্রচার চালানো হয়, যখন আমাকে হুমকি দেওয়া হয়, প্রতিবার আমার মনোবল আরও দৃঢ় হয়। কারণ আমি জানি, আমি সঠিক পথে আছি। যে পথ যত বেশি প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়, তা তত বেশি জরুরি এবং প্রভাবশালী। এই সাহস এখনও আমার সঙ্গে আছে এবং আশা করি এটা কখনও কমবে না।

 

এশিয়া পোস্ট: শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সঙ্গে আপনার প্রথম পরিচয় কীভাবে হয়েছিল? তিনি আপনাকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করেছিলেন এবং তার ব্যক্তিত্বের কোন দিকটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছিল?

 

ফাতিমা তাসনিম জুমা: গণসিজদা এবং দ্রোহের গান, এটি ছিল আমার জীবন পরিবর্তনের শুরু। আমি যখন এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানলাম, তখন বুঝলাম এটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি বিপ্লবী পদক্ষেপ। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ব্যবহার করে একটি নতুন ন্যারেটিভ তৈরি করা, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি যখন এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম, তখন আমার মনে হয়েছিল যে এটি শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ।

 

শরিফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী এবং দূরদর্শী একজন নেতা। তার সঙ্গে কথোপকথন ছিল দারুণ শিক্ষামূলক। তিনি যখন বলতেন, প্রতিটি শব্দ সুচিন্তিত থাকত। তিনি বিভিন্ন দর্শন, ইতিহাস, সাহিত্য, রাজনীতি- সব বিষয়ে গভীর জ্ঞান রাখতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং অন্যান্য মহান চিন্তাবিদদের কাজ তিনি সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করতে পারতেন।

 

কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার হৃদয়। তিনি যে কথা বলতেন, তা তিনি গভীরভাবে অনুভব করতেন। আমার মনে আছে, যখন বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে আমরা যেতাম, তখন শরিফ ওসমান বিন হাদি অনেক সময় বাচ্চাদের মতো কাঁদতেন। সংবাদ সম্মেলনে যেভাবে তিনি জোরালো কণ্ঠে কথা বলতেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং মমতাময়। এই দ্বৈত ব্যক্তিত্বই তাকে অনন্য করে তুলেছিল।

 

এশিয়া পোস্ট: শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা করা হয়েছে কেন? এটি কি শুধু একটি ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড?

 

ফাতিমা তাসনিম জুমা: এটি নিশ্চিতভাবে শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন জুলাই জজবা এবং বিপ্লবের উত্থানের প্রাণপুরুষ, দ্রোহের মস্তিষ্ক। তিনি শুধু ঢাকা ৮-এর একজন প্রার্থী ছিলেন না। তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি কোণে আধিপত্যবাদকে চিহ্নিত করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত, বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন।

 

শহীদ ওসমান হাদির গ্রহণযোগ্যতা ছিল অভূতপূর্ব। একজন মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রিকশাওয়ালা, কুলি-মজদুর সবাই তার কথা নিজেদের কথা বলে মনে করত। এলিট পরিবার থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত—সব শ্রেণির মানুষ তার বক্তব্যে সাড়া দিত। এই সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা আধিপত্যবাদী শক্তির জন্য মরণঘাতী হুমকি ছিল।

 

আওয়ামী লীগের পরাজিত শক্তি এবং যারা দেশের শাসনতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে, তারা জানত যে শরিফ ওসমান বিন হাদি তাদের পরিকল্পনায় বাধা হবে। তাই তারা তাকে লক্ষ্য করেছে। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে এবং শেষে তাকে হত্যা করেছে। এটি শুধু একটি দলের অপরাধ নয়, এটি প্রতিষ্ঠিত শক্তির প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়া।

 

আমরা প্রমাণ রাখি যে ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই শরিফ ওসমান বিন হাদিকে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল যে তার জীবন ঝুঁকিতে আছে। কিন্তু তিনি হার মানেননি, তিনি থামেননি। তার এই অপরাজেয় মনোভাবই তাকে চূড়ান্ত লক্ষ্য করেছে।

 

এশিয়া পোস্ট: প্রশাসনিক দিক থেকে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত পরিচালনায় কী ধরনের সমস্যা এসেছে? কেন এত দেরি হচ্ছে ন্যায়বিচার পেতে?

 

ফাতিমা তাসনিম জুমা: এটি আমাদের সবচেয়ে বড় হতাশা এবং ক্ষোভের উৎস। ইন্টেরিম সরকারের সময় থেকে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সরবরাহ করেছি, সাক্ষীদের তথ্য দিয়েছি, প্রতিটি সম্ভাব্য প্রমাণ জমা দিয়েছি। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, যেই জায়গায় শরিফ ওসমান বিন হাদিকে আক্রান্ত করা হয়েছিল, সেই জায়গা প্রশাসনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন। তাদের কাছে তো স্বাভাবিকভাবেই সেখানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থাকা উচিত। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে, তারা আমাদের কাছ থেকে সেই ফুটেজ চেয়েছে।

 

এটি সম্পূর্ণভাবে অপেশাদারি এবং নিষ্ক্রিয়তা প্রকাশ করে। আমরা জানি না এখন তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। বাদী হিসেবে আমরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে আছি। কখন রিপোর্ট জমা হবে, কখন চার্জশিট আসবে, কত দ্রুত বিচার হবে - কোনো কিছুই জানি না। এই অনিশ্চয়তা এবং নিষ্ক্রিয়তা আমাদের মনে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে। আমাদের আসলে ভীষণ রকমের অবিশ্বাস জন্মেছে এই প্রশাসনের ওপর। সেই ইন্টেরিম সরকারের সময় থেকে সবার ওপর ভীষণ রকম অবিশ্বাস জমেছে।

 

গোয়েন্দা সংস্থার একজন অফিসার আমাদের বলেছেন যে তারা তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন, তবে এত কিছু করার পরেও সত্যের সম্পূর্ণ চিত্র তারা বের করতে পারছেন না। এটা আমাদের কাছে খুবই সন্দেহজনক এবং উদ্বেগজনক। আমরা মনে করি যে প্রশাসনের একটি অংশ হয়তো এই হত্যায় জড়িত অথবা তারা জানেও কীভাবে জড়িত কারা। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তারা সম্পূর্ণ সত্য বের করতে চাইছে না বা পারছে না।

 

এশিয়া পোস্ট: শুরু থেকেই শহীদ শরিফ ওসমান হাদির প্রকৃত খুনি এবং পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করার অভিযোগ আপনাদের পক্ষ থেকে বারবার এসেছে। বিচার চাইতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আপনাদের রক্তাক্ত হতে হলো কেন?

 

ফাতিমা তাসনিম জুমা: এই হত্যার তদন্তের বিষয়ে আমাদেরকে গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, তারা তাদের ক্যাপাসিটি শতভাগ ইউজ করেছে। সেই ইউজ করে তারা পুরো ঘটনার বিশ ভাগও কভার করতে পারল না। তখন তো স্বাভাবিকভাবেই আমরা বাদীপক্ষ আমাদের ভাই শহীদ হয়েছে। আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি ইমপোরট্যান্ট যেটা সেটা হচ্ছে বিচার। তো এই বিচারটা পাওয়ার জন্য যে সরকার আছে তাদের কাছে দাবি জানানো আমাদের কম শতভাগ রাইট আছে। তো সেই দাবি আমরা যখন জানাতে গেলাম, আমরা অনেকভাবে চেষ্টা করেছি প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে, আমরা সেটা পারিনি। পরে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করেছি। তো শান্তিপূর্ণ অবস্থানে আমাদের আমাদের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন কমিউনিকেশন হচ্ছিল। এই কমিউনিকেশনের মধ্যে আমাদের যারা ভাইয়েরা যারা ইন্টারকন্টিনেন্টের পাশে বসে আছে তাদেরকে অ্যাটাক করা হয় এবং যারা যমুনার সামনে বসে আছে তাদেরকে রেস্ট্রিকটেড করা হয়।

 

তাদেরকে বের হতে দেবে না, আমাদেরকে ঢুকতে দেবে না এখানে অলরেডি হামলা। তো আমি আমাদের ভাই-বোনদের কাছে যাওয়ার জন্য ওদিকে অগ্রসর হলাম ওই অবস্থায় তারা হচ্ছে আমাকে ফিজিক্যালি অ্যাসল্ট করে। আমি তো স্বাভাবিকভাবে বুঝতেই পারিনি যে আমার মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। আমি ওই অবস্থায় হেঁটে চলে আসলাম। আমি জাবের ভাইকে বলব যে, ওদেরকে যে কোনো মূল্যে ওখান থেকে বের করেন।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রিপারেশন নিয়ে ছিল। আমি যখন ফিরলাম, আমি জানি না আমার মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। খুব স্বাভাবিক না যে তাদের নেতৃস্থানীয় একজন তাদের বোন যদি আহত হয় এটা কোনো ভাইয়ের পক্ষেই স্বাভাবিক থাকা সম্ভব না। তখন উচ্চবাচ্য হচ্ছিল তখন পর্যন্ত আমরা কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। এর মধ্যে আমাদের উত্ত্যক্ত করার জন্য শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে নিয়ে বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য পুলিশের পক্ষ থেকে করা হচ্ছিল। ওখানে একটা ইন্টেন্স মোমেন্ট ক্রিয়েট হয়।

 

এটা আসলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্ল্যান ছিল কি না, জানি না। আমাদের পার্সোনালি মনে হয়েছে প্রশাসনের একটা অংশই আসলে নির্বাচন চাইত না। শুধু পুলিশ না আমলা থেকে শুরু করে অন্যান্য সব এস্টাবলিশের মধ্যে ফ্যাসিবাদীদের একটা পক্ষ থেকে গিয়েছে, তারাই খুব সম্ভবত চায়নি যে নির্বাচনটা হোক। স্বাভাবিকভাবে আমাদের ওপর আক্রমণ করলে সারা দেশে শরিফ ওসমান হাদি যে স্পিরিটটা আছে, হচ্ছে আবার স্পার্ক করবে। এটা হয়তো তাদের ইচ্ছা ছিল। আমরা সেটা সফল হতে দিইনি। আমরা আহত অবস্থাতেই নির্বাচন যে হতে হবে সবাইকে যে শান্ত থাকতে হবে সেই ঘোষণা দিয়েছিলাম, পরিস্থিতিটা আমরা কন্ট্রোল করতে পেরেছিলাম। আমাদের মনে হয় প্রশাসনের মধ্যেই কিছু শক্তি আছে যারা চায় নাই নির্বাচন হোক। তারা এখনও চায় না যে হাদি হত্যার বিচারটা ঠিকঠাক মতো হোক।

 

এশিয়া পোস্ট: শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে বা কারা আপনাদের নাম জড়িয়ে দিতে চাইছে?

 

ফাতিমা তাসনিম জুমা: এটা আওয়ামী লীগের পতিত শক্তি করার চেষ্টা করছে এবং সেটাতে তাল দিচ্ছে একটা অন্য একটা বড় রাজনৈতিক দল। এখন নাম ধরতে আসলে ভাবনা চিন্তা করা লাগে যে এটার কম্পেনসেশন কি দিতে হবে সোশ্যালি আবার কি চলবে, কি গালি দেওয়া হবে তো আপাতত গালি খাওয়ার ইচ্ছা নেই তাই নামটা ধরলাম না।
সরাসরি বলি, যদি হাদি বিজনেস বা হাদি ব্যবসার কথা বলা হয়, তাহলে হাদি বিজনেসটা শুরু করেছিল তারেক রহমান। তিনি যখন দেশে এলেন, সবার আগে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের পরই তিনি শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করলেন।

 

তো এই যে তার শুরু করা তার বিচার চাওয়া থেকে শুরু করে তার মাগফিরাত কামনা করা, এইগুলো যদি তারা ফ্রেম করতে চায়, যেটা হাদি বিজনেস তাহলে তো এই বিজনেস শুরু করেছেন তাদের দলের নেতা। আমরা যখন কথা বলি আমরা যখন বিচার চাই সেটা কীভাবে বিজনেস হয়ে যায়? আমাদেরকে যারা চিনে তারা জানে আমরা এক পয়সা ইনকিলাব মঞ্চ থেকে নিই না বরং ইনকিলাবের ভাই-বোনেরা তাদের পকেট খরচ, পার্ট টাইম জব ও টিউশনের অর্ধেক টাকা বরং তারা এখানে পারলে দিয়ে যায়।

 

ইনকিলাব মঞ্চ থেকে এক পয়সা কেউ পায় না, ইভেন আমাদের সেন্টার থেকে শুরু করে আমাদের যত প্রোডাক্ট আছে আমরা যে জিনিসগুলো আমরা সেল করি এগুলো পুরোটাই এখানেই আবার ইনভেস্টেড হয়। এখান থেকে যারা কাজ করে কমপ্লিটলি ভলান্টিয়ারি কেউ এখানে কিছু পায় না। কারও এক পয়সা এখান থেকে আর্নিং হয় না। ইনকিলাব মঞ্চের কাজ করতে গিয়ে সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ভাই একটা ভালো জব ছেড়ে দিয়েছেন।
আমার ভালো একটা ক্যারিয়ার হওয়ার সুযোগ ছিল। সেটা আমি ছেড়ে দিলাম। তো এতকিছু সেক্রিফাইস করার উদ্দেশ্য তো শুধুমাত্র এই জায়গাটাকে ধরে রাখা। তো এই সবকিছুর পরেও যখন আমার বা জাবের ভাইয়ের নাম কিংবা ইনকিলাব মঞ্চ জড়িত, এই টাইপের কথাগুলো যখন আসে তখন আসলে আমাদের সন্দেহ, এগুলো ছড়ায়, তারাই আসলে জড়িত কি না।

 

এশিয়া পোস্ট: এখন শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে নারীবিদ্বেষী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা চলছে। আপনি যিনি তাকে ঘনিষ্ঠভাবে জানতেন, আপনার সত্যিকারের মূল্যায়ন কী, এটি কি প্রকৃত সত্য নাকি একটি সংগঠিত অপপ্রচার?

 

ফাতিমা তাসনিম জুমা: এটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার। আমি এটি দায়িত্বের সঙ্গে বলছি, কারণ আমি শরিফ ওসমান বিন হাদির সঙ্গে প্রতিদিন কাজ করেছি, তার চিন্তাভাবনা বুঝেছি, তার মূল্যবোধ প্রত্যক্ষ করেছি। তার মূলনীতি ছিল যে প্রতিটি মানুষ-নারী বা পুরুষ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। যে নারী বোরকা পরতে চায়, সে পরবে। যে নারী টি-শার্ট বা স্লিভলেস পোশাক পরতে চায়, তার সেই অধিকারও আছে এবং কোনো অবস্থাতেই কেউ তার এই পছন্দের জন্য তাকে বিচার করতে পারে না, অপমান করতে পারে না।

 

আমি একটি স্পষ্ট ঘটনা বলি যা তার দর্শন এবং মানবিক মূল্যবোধকে সুন্দরভাবে তুলে ধরে। একটি সময় বোটানিক্যাল গার্ডেনে আমি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ছিলাম। আমি সেই সময় কোনো হিজাব পরিনি, আমার পোশাক ছিল আধুনিক এবং সাথের বন্ধুরা ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরে ছিল। সেখানে কিছু তথাকথিত ধর্মপ্রাণ যুবক আমাদের দিকে এসে অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে ‘শাহবাগী' বলে অপমান করেছিল। আমি তাদের প্রতিবাদ করেছিলাম এবং একটি ছোট বিতর্কও হয়েছিল। পরে যখন আমি এটি শরিফ ওসমান বিন হাদিকে বলেছিলাম, তখন তার প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

 

পরের দিন হাজারী মাদ্রাসায় একটি প্রোগ্রাম ছিল যেখানে হাজার হাজার দাড়ি এবং টুপি পরা মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আমরা সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম যখন শরিফ ওসমান বিন হাদি সেই বিশাল সমাবেশে সরাসরি এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছিলেন ‘এটা করা যাবে না’। এটি একটি অত্যন্ত সাহসী এবং দূরদর্শী বিবৃতি যা স্পষ্টভাবে দেখায় যে তার চিন্তাভাবনা কতটা সংবেদনশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল।

 

তার এই মূল্যবোধ শুধু কথায় নয়, কাজেও প্রতিফলিত হতো। যখন আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা ইসলামিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে যেতাম, তিনি কখনোই আমাকে নির্দিষ্ট পোশাক পরার নির্দেশ দিতেন না। তিনি মনে করতেন যে আমাদের পোশাক নয়, আমাদের কাজ এবং চরিত্র আমাদের সংজ্ঞায়িত করবে। প্রকৃত পরিবর্তন আসে আমাদের সততার মাধ্যমে, আমাদের চিন্তাভাবনার শক্তির মাধ্যমে; বাহ্যিক চেহারা বা পোশাকের মাধ্যমে নয়।

 

এশিয়া পোস্ট: আপনি সাইবার বুলিংয়ের ভয়ংকর শিকার হয়েছেন। আপনার ব্যক্তিগত ছবি এবং ভিডিও ব্যবহার করে নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। এই সময়ে আপনার মনোবল কীভাবে ধরে রেখেছেন? এটি কি আপনার পরিবারকেও প্রভাবিত করেছে?

 

ফাতিমা তাসনিম জুমা: এটি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন প্রাইভেট ব্যক্তি ছিলাম - কোনো অনলাইন উপস্থিতি ছিল না। কিন্তু যখন আমি ডাকসু নির্বাচনে আমার ফর্ম জমা দিয়েছিলাম, তখনই একটি সংগঠিত ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল আমার বিরুদ্ধে। তারা আমার বিভিন্ন সময়ের কিছু ভিডিও সংগ্রহ করেছিল- যেমন আমি বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পাসে মজা করছি, বা কোনো ইভেন্টে আছি। এই ভিডিওগুলোতে কোনো অপরাধ ছিল না, কোনো নৈতিক সমস্যা ছিল না - শুধু একটি তরুণ মেয়ের স্বাভাবিক জীবন।

 

কিন্তু তারা এই ভিডিওগুলোকে সম্পূর্ণভাবে প্রসঙ্গের বাইরে নিয়ে এসে প্রচার করেছিল। একটি ভিডিওতে আমি মজা করে 'জয় বাংলা' বলেছিলাম - এটি ছিল একটি হালকা মুহূর্ত, বন্ধুদের সঙ্গে একটি নিরীহ মজা। কিন্তু তারা এটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছিল যেন এটি একটি গুরুতর রাজনৈতিক বিবৃতি। যারা এটি ছড়াচ্ছিল তারা জানত যে এটি মিথ্যা প্রসঙ্গে রাখা ছবি, কিন্তু তারা জানাত যে এটি কাজ করবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের আবেগ উসকানো খুব সহজ এবং এটিই তাদের লক্ষ্য ছিল।

 

এটি আমার পরিবারকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। আমার পিতামাতা প্রতিদিন চিন্তা করছিলেন, চিন্তায় ভুগছিলেন। আমার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে মানুষ আমার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। আমার বন্ধুরা দূরে চলে গিয়েছিল, কারণ তারা বুঝেছিল যে আমার সঙ্গে থাকা তাদের জন্য সমস্যা তৈরি করবে। এটি অত্যন্ত নির্মল এবং মনোযন্ত্রণাদায়ক ছিল। কিন্তু প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আমার সংকল্প শক্তিশালী করেছে। আমি বুঝেছিলাম যে আমি সঠিক পথে আছি। সত্যিকারের কাজের জন্য এই ধরনের বাধা সাধারণ।

 

শহীদ ওসমান হাদির ছবি ব্যবহার করে একটা সেবোটেজ চলছে। তার ছবি ব্যবহার করে ডিপিতে ওসমান ভাইয়ের ছবি, কভারে হচ্ছে সাদিক কায়েম, এসএম ফরহাদ এবং মহিউদ্দিনের ছবি মানে ডাকসু ভিপি- জিএস-এজিএসের ছবি এবং সেই আইডি থেকে গালাগালি করছে লিটারালি আমাকে আর ওসমান ভাইকেই।

 

এশিয়া পোস্ট: শরিফ ওসমান বিন হাদির সঙ্গে আপনার শেষ দেখা এবং শেষ কথোপকথন—সেটি কীভাবে ছিল? আপনি তাকে কী বলেছিলেন এবং তিনি কী বলেছিলেন আপনাকে?

 

ফাতিমা তাসনিম জুমা: এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতি। আমি যখন তাকে শেষ দেখেছিলাম, তখন আমি ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলাম। ওসমান হাদি ভাইয়ের ঢাকা-৮ এর নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছিলাম। আমি ভাইকে বলেছিলাম, আমাদের ১৬ ডিসেম্বরে একটা প্রোগ্রাম করতে হবে। তিনি আমাকে বিভিন্ন প্রোগ্রাম পরিকল্পনা করতে বলেছিলেন এবং নিজেও অনেক বিস্তারিত পরিকল্পনা দিয়েছিলেন।

 

আমার তখন ইউনিভার্সিটি অফ। হলে কেউ ছিল না। আমি ভয় পাচ্ছিলাম। পরে ভাবি (শহীদ হাদির স্ত্রী) আমাকে কল দিয়ে বলেছিলেন, বাসায় যেতে। সবাই মিলে বারবিকিউ করবেন। এটা ছিল আরেকটি পরিকল্পনা যা কখনও বাস্তবায়িত হয়নি। মনে আছে পরের সপ্তাহে চাঁদপুরে যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু সেটাও শেষ হয়েছে সবচেয়ে ভয়ংকর উপায়ে। আমাদের অনেক পরিকল্পনা ছিল। ভাইকে বলছিলাম, ১৬ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠান শেষ করে আমরা মেয়েরা ঢাকা-৮ এ আপনার প্রচারণায় বিশেষভাবে নামব। আমরা মজা করে বলতাম, পুরো ফাটায়া ফেলব। যে পুরো ঢাকা-৮ এ কেবল ওসমান হাদি থাকবে। আল্লাহ চায়নি বলে হয় নাই।

 

সবচেয়ে কষ্টদায়ক তা হলো তার কোনো চূড়ান্ত বার্তা নেই, কোনো বিদায় নেই। আমরা জানতাম না যে এটি আমাদের শেষ কথোপকথন হবে। যদি জানতাম, আমি অন্যরকম কথা বলতাম, তাকে আরও কিছু প্রশ্ন করতাম, তার আরও বেশি পরামর্শ নিতাম। কিন্তু জীবন এভাবেই নির্মম, সময় কখনও হুঁশিয়ারি দেয় না।

 

এশিয়া পোস্ট: এ বছরের ঈদ আপনার জন্য কেমন হবে? এটি কি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নাকি গভীর ব্যক্তিগত বেদনার একটি সময়ে পরিণত হয়েছে?

 

ফাতিমা তাসনিম জুমা: এ বছরের ঈদ আমাদের সবার জন্যই অত্যন্ত কঠিন এবং বেদনাদায়ক হতে চলেছে। গত বছর ঈদ ছিল আনন্দে পূর্ণ। শরিফ ওসমান বিন হাদি আমাকে বারবার বলেছিলেন যে চাঁদ রাতে ঈদের একটি বিশেষ মিছিল হবে, এটা শেষ করে বাড়িতে যেতে। তিনি এবং তার ভাবি মিলে আমার জন্য একটি অত্যন্ত সুন্দর এবং মূল্যবান উপহার- একটি পোশাক দিয়েছিলেন। কিন্তু বিধিবাম প্রথম যে দিন আমি সেই পোশাক পরেছিলাম, সেই দিনই ভাই গুলিবিদ্ধ হলেন। সেদিন ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার কথা ছিল। আর যাওয়া হয়নি।

 

আমার জন্য এ বছর ঈদ উদযাপন করা অত্যন্ত কঠিন হবে। আমি ১০ মাস বাড়ি যাইনি। আমার পরিবার, আমার আত্মীয়রা আমাকে ডাক দিচ্ছে কিন্তু আমি জানি যে বাড়িতে গিয়ে শরিফ ওসমান বিন হাদির অনুপস্থিতি অনুভব করা আরও কষ্টকর হবে। এবার ঈদটা আসলে কেমনে কাটবে জানি না।

 

সবচেয়ে বড় দুঃখ হলো তার ছোট সন্তান ফিরনাস কখনোই তার বাবাকে চিনল না, জানল না। একটি শিশু যার বাবা বেঁচে নেই, যে তার বাবার ভালোবাসা অনুভব করতে পারবে না- এটা একটি জীবনব্যাপী অপ্রাপ্তি। আমরা যত চেষ্টাই করি না কেন, সেই সম্পর্কের ফাঁক পূরণ করা সম্ভব নয়। এই ভেবে আমাদের হৃদয় ভেঙে যায়।

 

এশিয়া পোস্ট: আপনার এবং ইনকিলাব মঞ্চের বার্তা কী, দেশের মানুষের কাছে, বিশেষত যুবসমাজের কাছে?

 

ফাতিমা তাসনিম জুমা: আমাদের বার্তা স্পষ্ট এবং অটুট। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির জন্য আমরা ন্যায়বিচার চাই। এটি অবশ্যম্ভাবী, এটি অনিবার্য। যারা তাকে হত্যা করেছে, যারা এই পরিকল্পনায় জড়িত ছিল, তারা যত চেষ্টাই করুক না কেন তাদের অপরাধ লুকাতে, ইতিহাস তাদের কখনও ক্ষমা করবে না। আমরা থামব না, আমরা পিছিয়ে যাব না, আমরা আপস করব না। এটা আমাদের সংকল্প এবং প্রতিশ্রুতি।

 

যুবসমাজের প্রতি আমাদের অনুরোধ, সাহস হারিয়ে ফেলবেন না। জুলাইয়ের যে চেতনা জেগে উঠেছিল, সেটিকে আরও শক্তিশালী করুন। আপনাদের মধ্যে আছে শরিফ ওসমান বিন হাদির উত্তরাধিকার। প্রতিটি ইনসাফের কাজ, প্রতিটি সত্যের বিজয়, প্রতিটি অন্যায়ের প্রতিরোধ - এই সবকিছুই তার উত্তরাধিকারের অংশ। বাংলাদেশের প্রতিটি কোণে এই চেতনা ছড়িয়ে দিন।

 

যারা এই মুহূর্তে আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তাদের প্রতিও আমাদের বার্তা আছে; এখনও সময় আছে ফিরে আসার। বেগম জিয়া যেভাবে বলেছিলেন, যারা শাহবাগ এবং আধিপত্যবাদকে গ্রহণ করবে, বাংলাদেশ তাদের ছুড়ে ফেলে দেবে। আমরা সেই সতর্কবার্তা প্রতিটি পক্ষকে দিচ্ছি। এখনও ফিরে আসার সুযোগ আছে, এখনও শুধরানোর সময় আছে।