Image description

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান ইরান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধ বন্ধে মোটামুটি দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে অপ্রত্যাশিত মোড় নিয়ে হাজির হয়েছে পাকিস্তান। দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রতিবেশী দেশ ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে এখন প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে দেশটি।

 

নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে সোমবার (২৩ মার্চ) সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানের শক্তিশালী সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলেছেন। ঠিক তার পরদিনই সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন।

 

ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং তেহরানের ওপর প্রভাব—এই দুই অস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে চাইছে।

 

আশর্যের বিষয় হলো, শাহবাজ-পেজেশকিয়ান বৈঠকের পররই ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ৫ দিনের জন্য হামলা স্থগিত করছেন। যদিও হোয়াইট হাউস একে ‘সংবেদনশীল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া’ বলে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করেছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা পর্দার আড়ালে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

 

কেবল পাকিস্তানই নয়, তুরস্ক, মিশর এবং কাতারও এই অস্থিরতা কমাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তার তুর্কি প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কাতার ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সাধারণত ওমান ও কাতার এই ধরনের সংকটে মধ্যস্থতা করলেও এবার পাকিস্তান ফ্রন্টলাইনে চলে আসায় বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

 

চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক সানাম ওয়াকিলের মতে, এই আলোচনার মানে এই নয় যে, যুদ্ধ এখনই থেমে যাচ্ছে। তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রচণ্ড চাপ এবং তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে ট্রাম্প সাময়িকভাবে পিছু হটেছেন।

 

অন্যদিকে ইরানও সহজে হার মানার পাত্র নয়। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর স্থাপনা ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হবে।

 

এত আলোচনার গুঞ্জনের মাঝেও ইরানের বিপ্লবী গার্ডস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো ওয়াশিংটনের সঙ্গে যে কোনো ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করেছে। তারা ট্রাম্পের এই কৌশলকে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ফন্দি বলে অভিহিত করেছে।

 

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। একইসঙ্গে, এখন জানা যাচ্ছে, খুব শিগগির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হবে এবং এর ভেন্যু হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইরান ও আমেরিকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে হতে যাওয়া ওই সম্মেলনের আলোচনার অংশ হিসেবে একটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আমেরিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন।

 

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল জানত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসরায়েল বেশ অবাক হয়েছে; ট্রাম্প জানিয়েছেন যে এই যোগাযোগগুলো বেশ এগিয়েছে এবং সম্ভবত ১৫টি পয়েন্টে উভয়পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে।