কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন বাসটির চালক পিন্টু মিয়ার পরিবারের তিনজন। পথে ব্যক্তিগত কাজের জন্য নেমে গিয়ে বেঁচে যান তিনি। কিন্তু বাসে থাকা স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হারিয়ে এখন শোকে মুহ্যমান পিন্টু।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাসিন্দা পিন্টু মিয়া সপরিবারে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মানিকদী এলাকায় থাকতেন। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনেরই চালক হিসেবে কাজ করেন। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ঝিনাইদহে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
ঈদের দিন বিকালে স্ত্রী লাইজু আক্তার এবং ছয় বছর বয়সী মেয়ে খাদিজা আক্তার ও সাড়ে তিন বছর বয়সী মরিয়ম আক্তারকে লক্ষ্মীপুরের হাজিরহাটে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন পিন্টু। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে মামুন স্পেশাল বাসে ওঠেন। বাসিটির চালক ছিলেন পিন্টু মিয়া নিজেই।
তবে ঢাকা পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে আসার পর পিন্টু সেখানে চালক বদল করে ব্যক্তিগত কাজে নেমে যান। তবে তার স্ত্রী ও দুই শিশুকণ্যা বাসে থেকে যান। পথে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় পৌঁছালে বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও দুই শিশুসহ ঝিনাইদহের পাঁচ যাত্রী প্রাণ হারান।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান ঝিনাইদহের পাঁচ যাত্রীসহ মোট ১২ জন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী মামুন স্পেশাল নামে যাত্রীবাহী বাসটিকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রেন। ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়, এতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নিহতদের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং আহতদের সেখানে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ট্রেনযাত্রীরা অভিযোগ করেন, রেলগেটের দায়িত্বে থাকা সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তারা আরও জানান, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একাধিকবার ফোন করা হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।