মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এখনও সেই চাপ সরাসরি জনগণের ওপর পুরোপুরি পড়েনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নিয়েছি একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে। তার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে চাপ আরও বাড়বে।’
মন্ত্রী জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এখন পর্যন্ত জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে, ফলে শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করছি যাতে জ্বালানির অভাবে উৎপাদন বা বিদ্যুৎ খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, এখনও জ্বালানির দাম, পরিবহন ভাড়া বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি করা হয়নি। শ্রমিকদের বেতন-ভাতাও সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে।
তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব ভবিষ্যতে দেশের ওপর পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন মন্ত্রী। ‘বিশ্বব্যাপী যে চাপ তৈরি হচ্ছে, তা বাংলাদেশেও আসবে—বিশেষ করে জ্বালানির ক্ষেত্রে, কারণ আমাদের বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্য,’ বলেন তিনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ শুরু হয়েছে।
এ সময় তিনি জনগণের প্রতি সংযম, সহযোগিতা ও সহানুভূতির আহ্বান জানান। ‘এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সংযমের মাধ্যমেই আমাদের এগোতে হবে,’ বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুদ্ধ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু এর প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে আমাদেরই। সবাই মিলে কাজ করলেই আমরা এই চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে পারব।’