Image description

জাতিসংঘের সমুদ্র বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনকে (আইএমও) ইরানের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত কিন্তু ইরানের ‘শত্রুদের’ জন্য নয়। ইরানের আধা সরকারি গণমাধ্যম মেহের নিউজের বরাতে এ খবর জানায় গার্ডিয়ান।

 

এর আগে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘পুরোপুরি খুলে’ না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

 

শনিবার (২১ মার্চ) ট্রাম্প ওই হুমকি দেওয়ার পর রোববার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি আলি মুসাভি ওই কথা জানিয়েছেন।

 

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় (আইএমও) ইরানের প্রতিনিধি আলী মুসাভি বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পথটি কার্যত বন্ধ থাকার ‌মূল কারণ হলো মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন।’

 

মুসাভি আইএমওকে বলেন, ইরানের ‘শত্রুদের’ সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এমন সব জাহাজ তেহরানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুরক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে।

 

তিনি বলেন, ‘কূটনীতিই ইরানের অগ্রাধিকার। তবে আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধের পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস আরও গুরুত্বপূর্ণ।’

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ইরানি হুমকির মুখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ আছে। পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযোগকারী, ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ প্রণালিটি উভয় পাশে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বহু জাহাজ আটকা পড়ে আছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের এই জলপথটি বন্ধ হয়ে থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল ও তরলীকৃত প্রকৃতিক গ্যাসের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

এই পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ কিছু মিত্র দেশকে তাদের জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু জাহাজ আক্রমণ করে এবং জলপথে মাইন পেতে অন্যদের জন্য এটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির বাজারে একটি বড় সংকট তৈরি করেছে।

 

এদিকে ইরান তার শত্রু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তার মিত্রদের তালিকাভুক্ত করেছে।

 

তবে বিশ্ব জ্বালানির এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় চালু করতে তেহরানকে চাপ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা করছে। এটি করলে চলমান যুদ্ধে বিশাল উত্তেজনা সৃষ্টি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের কঠোর নীতিতে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালিটি খুলে না দেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করে দেবে।

 

সূত্র : গার্ডিয়ান