লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন পাঁচটি গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে নিজ নিজ এলাকায় পৃথক জামাতে তারা ঈদের নামাজ আদায় করেন। সকাল সাড়ে ৭টায় উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। ঈদের নামাজে অংশ নিতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা দলে দলে সমবেত হন। এছাড়াও উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্ব তালিমুল কুরআন নূরানি মাদ্রাসা ঈদগাহ, পূর্ব বিঘা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং পশ্চিম নোয়াগাঁও জামে মসজিদে পৃথক জামাতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
পাশের শাহরাস্তি উপজেলা থেকেও শতাধিক মুসল্লি নোয়াগাঁও ঈদগাহে এসে নামাজ আদায় করেন। দক্ষিণ পূর্ব তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা ঈদগাহের খতিব মাওলানা আমিনুল ইসলাম খান জানান, তারা হানাফি মাজহাবের অনুসারী হলেও বিশ্বব্যাপী একযোগে ঈদ উদযাপনের পক্ষে বিভিন্ন মাজহাবে ফতোয়া রয়েছে। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এখন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈদ উদযাপন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আগে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে সৌদি আরবের একদিন পর ঈদ পালন করা হতো। কিন্তু বর্তমান যুগে সেই সীমাবদ্ধতা আর নেই। তাই আমরা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে একযোগে ঈদ উদযাপন করছি।’
উল্লেখ্য, ইসলামি বুজুর্গ মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর অনুসারীরা গত ৪৭ বছর ধরে এই নিয়মে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। আগাম ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।