সারা দেশে ৭৫টি কারাগারে বর্তমানে ৭৭ হাজার বন্দি রয়েছেন। তাদের জন্য ঈদুল ফিতরের দিন বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে তিন বেলা খাবারের জন্য প্রত্যেক বন্দির বিপরীতে মাত্র ২৫০ টাকা। অবশ্য এবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় বন্দিরা প্রিয়জনের হাতের রান্না করা খাবার খেতে পারবেন।
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত-উল ফরহাদ স্ট্রিমকে জানান, সারা দেশে বিভিন্ন কারাগারে ১৬ মার্চ পর্যন্ত বন্দি রয়েছেন ৭৭ হাজারের মতো। তাদের মধ্যে হাজতি ৫৩ থেকে ৫৫ হাজার; বাকিরা সাজাপ্রাপ্ত বন্দি।
বন্দির এই সংখ্যা আরও বেশি ছিল। তবে ঈদকে সামনে রেখে গত ১৫ মার্চ এক দিনেই জামিনে ২ হাজার ৩০৪ বন্দি কারাগার থেকে ছাড়া পান। এ বিষয়ে জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ঈদের কারণে জামিনযোগ্য আসামিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার আইনি ক্ষমতা কারা কর্তৃপক্ষের নেই। আদালতের নির্দেশেই তারা মুক্তি পান।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঈদের দিন সরকারিভাবে বন্দিদের জন্য তিন বেলা বিশেষ খাবার দেওয়া হয়। ফজরের পর সেমাই বা পায়েস ও মুড়ি; দুপুরে পোলাওয়ের সঙ্গে মাংস, ডিম, সালাদ, মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস ও পান-সুপারি। রাতে সাদা ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে মাছ ও আলুর দম দেওয়া হয়। বর্তমান বাজারমূল্যে এই টাকা কম। বাড়িয়ে ৪০০ টাকা করা উচিত। কারণ বর্তমানে পোলাও চাল ১৪০-১৫০ টাকা কেজি; গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি। সাধারণ দিনে একজন বন্দি ৫৫-৬০ গ্রাম মাংস পান। ঈদের দিন হয়তো ২০০ বা ১৫০ গ্রাম দিতে হবে। ৪০০ টাকা হলে তাদের ভরপুর খাওয়ানো যেত।
বাসা থেকে খাবার দেওয়ার সুযোগ ফিরল
নিরাপত্তার কারণে দীর্ঘদিন কারাগারে বাসার খাবার দেওয়ার সুযোগ বন্ধ ছিল। তবে এবারের ঈদে এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। ঈদে টানা তিন দিন সাক্ষাতের পাশাপাশি একদিন বাসায় রান্না করা খাবার প্রিয়জনকে দিতে পারবেন স্বজনরা।
খাবার বন্ধ থাকার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মাঝখানে এই নিয়মটি বন্ধ ছিল। কারণ, কিছু অসাধু ব্যক্তি মাংস বা হাড়ের ভেতর মাদকদ্রব্য ঢুকিয়ে দিত। তবে এবার আইজি প্রিজন্স স্যারের নির্দেশনায় বাসা থেকে খাবার দেওয়ার সুযোগ চালু করা হয়েছে।’
টানা তিনদিন সাক্ষাৎ ও ফোন কলে বাড়তি ৩ মিনিট
স্বাভাবিক সময়ে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনরা দেখা করতে পারেন ১৫ দিনে একবার। তবে ঈদে এই নিয়মে শিথিলতা আনা হয়। এই সময় টানা ৩ দিন স্বজনরা দেখা করতে পারেন। এটি বন্দিদের নিয়মিত ১৫ দিন পর পর সাধারণ সাক্ষাতের হিসাবেও ধরা হয় না বলে জানান কারা কর্মকর্তা ফরহাদ।
তবে এই সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা অনেক চ্যালেঞ্জের জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি কারাগারে হয়তো ৮ হাজার বন্দি আছে। একজনের জন্য ৫ স্বজন এলে ৪০ হাজার মানুষ হয়ে যায়। এই বিপুলসংখ্যক মানুষ সামলানো কঠিন। অনেক আবেগঘন পরিস্থিতিও তৈরি হয়।’
ঈদের দিন মোবাইল ফোনে কথা বলতেও বন্দিদের উপচে পড়া ভিড় থাকে বলে জানান সহকারী কারা মহাপরিদর্শক। তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ে ১০ টাকার টোকেনে ১০ মিনিট কথা বলা যায়। তবে ঈদে বন্দিরা অতিরিক্ত ৩ মিনিট কথা বলার সুযোগ পান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঈদের দিনও সরকারি নিয়মে কথা বলতে টাকা লাগে। তবে আইজি প্রিজন চাইলে বিশেষ নির্দেশনায় বিনামূল্যে কথা বলার সুযোগ দিতে পারেন। আর যেসব বন্দির একদমই টাকা থাকে না, জেল সুপার বা জেলার ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের কথা বলার ব্যবস্থা করে দেন।’
কারারক্ষীদের ছুটিহীন ঈদ
বন্দিদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা থাকলেও কারারক্ষীরা ঈদ কাটান ভিন্ন বাস্তবতায়। অধিকাংশ কারারক্ষীই ঈদে ছুটি পান না। কাজের চাপও বাড়ে কয়েক গুণ।
এ নিয়ে আক্ষেপ করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক রক্ষী স্ট্রিমকে বলেন, নতুন কাপড় কিনেও স্ত্রী, সন্তান বা বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করার সৌভাগ্য আমাদের অনেকের হয় না।
এ বিষয়ে জান্নাত-উল ফরহাদ জানান, লোকবল সংকটের কারণে ঈদের দিন ভেতরে-বাইরে সব জায়গায় কারারক্ষীদের ডিউটি করতে হয়। তবে ঈদের নামাজ আদায়ের সুবিধার জন্য তাদের শিফট সাধারণ সময়ের ৬ ঘণ্টার বদলে ৩ ঘণ্টা পরপর করা হয়।