গোয়ালন্দ উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে গোপালগঞ্জগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহণের একটি বাস হতে ৭ যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বাসের হেলপার ও সুপারভাইজার। এ নিয়ে চলছিল হট্টগোল। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে মৌখিক সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর ক্যামেরা অন করে প্রশ্ন করতেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেল!
ভুক্তভোগী যাত্রীরা যুগান্তরের এ প্রতিনিধিকে জানান, তারা দৌলতদিয়া ঘাট হতে গোপালগঞ্জগামী বাসের কাউন্টার হতে ৩৮০ টাকা করে টিকিট কেটে সিরিয়ালে থাকা গোল্ডেন লাইন পরিবহণে উঠে বসেন। বাসটি ঘাট হতে ছেড়ে গোয়ালন্দ উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে আসলে তাদেরকে সুপারভাইজার নেমে যেতে বলেন।
তিনি আমাদেরকে বলেন- আমরা নাকি সিরিয়ালে থাকা পরবর্তী বাসের টিকিট কেটেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কাউন্টারে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। আমাদেরকে কেউ নিষেধও করেনি। ৭ জন যাত্রীর মধ্যে মহিলা এবং শিশুও ছিল। তাদের সঙ্গে অনেক ব্যাগপত্র থাকায় মাঝপথে কোনোমতেই নেমে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তাছাড়া তারা নির্ধারিত ৩৮০ টাকা দিয়ে নির্ধারিত কাউন্টার হতে টিকিট নিয়ে বাসে ওঠেন। যদিও ঈদ ছাড়া সাধারণ সময়ে এ ভাড়া ২৫০ টাকা করে নেওয়া হয়।
এদিকে বাসের ভেতর ও বাইরে হট্টগোল দেখে এ প্রতিনিধি এগিয়ে গেলে ভুক্তভোগীরা তাদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন। এ সময় কয়েকজন বাসটি উপজেলা কমপ্লেক্সের মাঠে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করার কথা বলেন।
এ সময় যুগান্তরের এ প্রতিনিধি ক্যামেরা অন করে চালক ও হেলপারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে বলে দ্রুত গাড়ি টেনে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
বাসটির হেলপার মো. আরিফ জানান, তাদের বাসটি কাউন্টারের সিরিয়ালে দাঁড় করিয়ে তারা যাত্রী তুলছিলেন। এ সময় কাউন্টার হতে টিকিট বিক্রেতারা পরবর্তী সিরিয়ালে থাকা আরেকটি বাসসহ এক সঙ্গে দুইটি বাসের টিকিট বিক্রি করে। এতে করে পরবর্তী সিরিয়ালে থাকা বাসের ৭ জন যাত্রী বিষয়টি বুঝতে না পেরে তাদের বাসে উঠে পড়ে। কিন্তু তাদের টাকার হিসেব আমরা বুঝে পাইনি। এতে করে ৩৮০ টাকা করে তাদের ২ হাজার ৬৬০ টাকা লোকসান হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঈদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে নিয়মিত কাউন্টারের পাশাপাশি দৌলতদিয়া ঘাটে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাগামী বাসের বেশ কয়েকটি মৌসুমি কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। কাউন্টারগুলো হতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি যাত্রী তুলে দিয়ে শ্রমিক ভাতার নামে ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে কাউন্টারের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রভাবশালীরা। এ নিয়ে চলছে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা।
বুধবার গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস যাত্রী বেশে পরিদর্শনকালে দুইজন মাহেন্দ্র চালক তার কাছে বাড়তি ভাড়া দাবি করেন। পরে ইউএনও তাদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, ঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় প্রতিরোধে এবার প্রতিটি কাউন্টারের সামনে বড় করে ভাড়ার চার্ট টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের যেকোনো ধরনের হয়রানি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে।