Image description

ঈদের আনন্দ যেন মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের এক পরিবারে। ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন যুবক সোহেল ফকির। এ ঘটনায় তার বাবা মিরাজ ফকির এখনও নিখোঁজ, আর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে সদরঘাটে এ দুর্ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরখাককাটা গ্রামে। বৃহস্পতিবার সোহেলের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের বন্ধুদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের কথা ছিল সোহেলের। কিন্তু সে আর জীবিত অবস্থায় ফিরতে পারেননি। জোহরের নামাজের পর নুর মোহাম্মদ মৃধা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

 

নিহতের চাচা ফারুক ফকির জানান, প্রায় ২০ বছর আগে মিরাজ ফকির ঢাকায় পাড়ি জমান এবং সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি একমাত্র ছেলে সোহেলকে নিজের কাছে নিয়ে যান। সোহেলও একই পেশায় যুক্ত হন। দুই বছর আগে তার বিয়ে হয়। স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ঈদের বোনাস পাওয়ার পর সোহেল তার বাবা ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। কিন্তু পথেই ঘটে এই দুর্ঘটনা। সোহেলের মা ও তিন বোন গ্রামের বাড়িতে থাকেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম দুই সদস্যের এমন পরিণতিতে তারা এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য সহাব উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পুরো পরিবার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বাবা নিখোঁজ, ছেলের স্ত্রী হাসপাতালে, আর বাড়িতে মা ও তিন বোন—তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।’

 

এ বিষয়ে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা ও ৩০ কেজি চাল সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

 

বুধবার বিকেলে মিরাজ ফকির তার ছেলে সোহেল ও পুত্রবধূকে নিয়ে ট্রলারে করে সদরঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে ‘আসা-যাওয়া’ নামের একটি লঞ্চে ওঠার সময় ‘জাকির সম্রাট-৩’ নামের আরেকটি লঞ্চের ধাক্কায় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সোহেল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার বাবা বুড়িগঙ্গা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন এবং স্ত্রী গুরুতর আহত হন।