ছুটির দ্বিতীয় দিনেও জ্বালানি তেল নিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রাজধানীর মানুষের। যেসব ফিলিং স্টেশনে তেল আছে, সেখানে লম্বা লাইন। আর কোথাও কোথাও তেল না থাকায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আজ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। ঈদের দিন ও ঈদের পরদিন ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তবে আগামী সপ্তাহে জ্বালানি তেল নিয়ে পাঁচটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রির কাজটি করে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ সংস্থার হয়ে ডিলার ও ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহের কাজটি করে তিন সরকারি তেল কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় তিন কোম্পানির ডিপো আছে। এসব ডিপো থেকে তেল নেয় প্রায় আড়াই হাজার ফিলিং স্টেশন। এসব স্টেশন থেকে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হয়।
গত রোববার একটি অফিস আদেশ জারি করেছে বিপিসি। এতে বলা হয়, ১৯ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত ন্যূনতম প্রয়োজনমাফিক জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে হবে। তবে ঈদের দিন ও পরদিন ডিপো বন্ধ থাকবে। ২৩ থেকে ২৫ মার্চ গত বছরের চাহিদার মতোই সরবরাহ করা যাবে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, এ মাসে মোট ১৮টি জাহাজ আসার কথা। এর মধ্যে ৭টি জাহাজ ইতিমধ্যে এসে তেল খালাস করেছে। আগামী সপ্তাহে আরও ৫টি জাহাজ আসার সময়সূচি নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে চারটিতে ডিজেল ও একটিতে ফার্নেস তেল থাকবে। তবে আরও পাঁচটি জাহাজের সময়সূচি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আর একটি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আসতে পারে। এগুলো পিছিয়ে গেলে মজুত নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে। বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি জ্বালানি তেল কিনতে আলোচনা করছে সরকার। সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাজাখস্তান থেকে ২ লাখ টন ডিজেল আনার প্রক্রিয়া চলছে।
জাহাজ আসার সময়সূচি চূড়ান্ত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। সোয়া তিন লাখ টন সরাসরি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
যানবাহনের দীর্ঘ সারি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চলমান ছুটির মধ্যে গতকাল বুধবারও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে চালকদের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ জানান, তাঁরা ভোর থেকে অপেক্ষা করছেন।
গতকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের চালকেরা। তখনো সেখানে তেল দেওয়া শুরু হয়নি। সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে তেলের অপেক্ষায় ছিলেন নুর উদ্দিন আহমেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল থেকে অপেক্ষা করছি। গাড়ি থেকে তেল পাম্পে দিচ্ছে। দেওয়া শুরু হলেই পাব মনে হচ্ছে।’
ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, তেল কেবল এসেছে। একটু পরেই দেওয়া শুরু হবে। এর কিছুক্ষণ পর ফিলিং স্টেশনটিতে তেল বিক্রি শুরু হয়।
ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে মহাখালীর আমতলী এলাকার ক্রিসেন্ট অটোমোবাইলস লিমিটেড ফিলিং স্টেশনে। সেখানে ডিজেল আছে, অন্য কোনো জ্বালানি তেল নেই। বেলা ১১টার দিকেও ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ক্যাশিয়ার আরিফ হোসেন বলেন, ‘এখন শুধু ডিজেল আছে। তিনটার দিকে অকটেন আসবে। তখন আমরা দেওয়া শুরু করব।’
আরেকটু এগিয়ে গেলে গুলশান সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশন। সেখানে তেলের জন্য মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেল। বারিধারা থেকে জ্বালানি তেল নিতে আসা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর পাঁচটা থেকে তেলের জন্য অপেক্ষা করছি। তিন দিন আগে একবার নিয়েছিলাম। এখন আবার নিতে হবে।’
মহাখালী রেলগেট–সংলগ্ন ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের শুধু সিএনজি দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি তেল কেন দেওয়া হচ্ছে না—জানতে চাইলে ফিলিং স্টেশনটির ক্যাশিয়ার ইয়াসিন হোসেন বলেন, ‘রাতেই তেল শেষ হয়ে গেছে। তেলের গাড়ি আসছে। দুপুরের পর আমরা তেল দেওয়া শুরু করতে পারব।’
জ্বালানি তেল কিনতে দীর্ঘ সারি দেখা গেল বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনেও। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানকার ব্যক্তিগত গাড়ির সারি জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়ে যেতে দেখা যায়। আর একই সময়ে মোটরসাইকেলের সারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান ফটক পর্যন্ত পৌঁছে যায়।