মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার বা প্যাগোডা, গির্জা বা চার্চ এই চার ধরনের ধর্মীয় উপসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও উৎসব ভাতা দিচ্ছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের আওতায় উৎসব ভাতার অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ কর্মসূচীর আওতায় মাসিক সম্মানি বাবদ ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের প্রতিটিতে ১ জন করে ইমামকে ৫ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানি পাবেন।মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা ও খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন।
৯৯০টি মন্দিরের প্রতিটিতে ১ জন করে পুরোহিত ৫ হাজার টাকা করে পাবেন। সেবাইত ৩ হাজার টাকা এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার/প্যাগোডার প্রতিটিতে ১ জন করে অধ্যক্ষ ৫ হাজার টাকা ও উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানি পাবেন।
৩৯৬টি চার্চ/গির্জার প্রতিটিতে ১ জন করে যাজক ৫ হাজার ও সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানি পাবেন।
পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসব ভাতা/বোনাস বাবদ বাৎসরিক ২ হাজার টাকা প্রাপ্য হবেন।
জানা গেছে, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপসানালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্দের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠায় অর্থমন্ত্রণালয়ে।
প্রস্তাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে কতিপয় কার্যপরিধির উল্লেখসহ একটি সেল গঠিত হয়। ওই কার্যপরিধির আলোকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গঠিত সেলের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং পৌরসভা থেকে ১টি করে মসজিদ, প্রতিটি উপজেলা থেকে ২টি করে মন্দির, সারাদেশে ৭২টি উপজেলায় বৌদ্ধ বিহার অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে ২টি করে বৌদ্ধ বিহার ও ১৯৮টি উপজেলায় গির্জা অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে ২টি করে গির্জা নির্বাচন করে মাসিক সম্মানি এবং উৎসব ভাতা/বোনাস প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করেন।
ওই নির্দেশনার আলোকে মোট ৪৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩৯৬টি গির্জার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। সভায় একই সঙ্গে নিম্নোক্ত ছক অনুযায়ী ধর্মীয় উপসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানি নির্ধারন করা হয়।
এত বছর ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের জন্য মসজিদে কর্মরতদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার ক্ষেত্রে প্রতি ঈদে ১ হাজার টাকা হারে এবং দূর্গা পূজা/বৌদ্ধ পূর্ণিমা/বড়দিন এর ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা হারে উৎসব বোনাস প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে যে সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরকারি ও দেশী/বিদেশী সংস্থা কর্তৃক অনুদানপ্রাপ্ত সেসকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার বাইরে থাকবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য, সারাদেশে মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার/প্যাগোডার ও চার্জ/গির্জার সংখ্যা মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৩টি।
রাজস্ব বাজেটের উপর চাপ কমাতে আগামী ৪টি ধাপে এই টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।
সে প্রেক্ষিতে গঠিত সেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেশের ৪৯০৮টি মসজিদ, ১৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত মোট ১৬৭৮৪ জনকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মার্চ-জুন পর্যন্ত ৪ মাসের মাসিক সম্মানি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসব ভাতা/বোনাস বাবদ মোট ২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা দেয়া হবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ৫ম অধ্যায়ে সব ধর্মীয় প্রধানের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতা দেয়ার কথা উল্লেখ আছে।