Image description

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত হচ্ছে ইতিহাসের সাক্ষী হতে। শতবর্ষের ধারাবাহিকতায় এবার এখানে হবে ১৯৯তম ঈদের জামাত। সাত একর আয়তনের এই বিশাল ঈদগাহ ময়দানে প্রস্তুত করা হয়েছে ২০৬টি কাতার। ঈদুল ফিতরের দিন সকাল ১০টায় শুরু হবে এই বৃহৎ জামাত; যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মুসল্লির সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে চালু করেছে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে ২টি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস। সকাল ৬ টায় ভৈরব থেকে ছেড়ে আসবে একটি এবং ময়মনসিংহ থেকে ৫টা ৪৫ মিনিটে একটি ট্রেন ছেড়ে আসবে। তিনটি খাবার পানির ভ্যান থাকবে যেখানে ৩ হাজার লিটার পানির ব্যবস্থা করা হবে। ৬টি নলকূপ, ৫টি অস্থায়ী অজুখানা, ১৫টি অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ঐতিহ্য অনুযায়ী, ঈদ জামাত শুরুর আগে বন্দুকের গুলির মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং ৫ মিনিট আগে একটি গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের সতর্ক করা হবে—যা শোলাকিয়ার দীর্ঘদিনের বিশেষ রেওয়াজ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে আছেন মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই। ঈদগাহ ময়দানে প্রস্তুত করা হয়েছে ২০৬টি কাতার। প্রতিটি কাতারে ৭০০ থেকে ৮০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মূল ময়দান ছাড়াও আশপাশের সড়ক, পুকুরপাড়, সেতু এবং বিভিন্ন ভবনের ছাদেও অতিরিক্ত মুসল্লিদের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সূর্যবালা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।

ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি। মাঠে দাগ কাটা, মেহরাব নির্মাণ, দেয়ালে চুনকাম, ওজুখানা স্থাপন এবং সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে এই প্রস্তুতি ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

নিরাপত্তা নিয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এস এম ফরহাদ বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাদা পোশাকে অনেকে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। র‌্যাব, অ্যান্টিটেরিজম ও বোম ডিস্পোজল ইউনিট কাজ করবে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম এবং কুইক রেসপন্স ইউনিট। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষায়িত নিরাপত্তা ইউনিটও অংশ নেবে নিরাপত্তা কার্যক্রমে।

তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষ যখন ঈদগাহ ময়দানে আসবেন পুলিশের চারটি স্থাপনা পেরিয়ে আসতে হবে। সেটি চেকপোস্ট হোক বা পিকেট হোক। আবার কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে ছয়টি স্থাপনা পেরিয়ে ময়দানে আসতে হবে। প্রযুক্তি নির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ঈদের জামাতে বহুস্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। এবারও মাঠে শুধু জায়নামাজ নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। মোবাইল, ব্যাগ নিয়ে প্রবেশে বিধি-নিষেধ রয়েছে। মাঠ ও আশপাশে বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা। ৬টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে পুলিশ ও র‌্যাব। মোতায়েন থাকবে ১১০০ পুলিশ, র‌্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন আনসার ও ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি থাকবে ড্রোন নজরদারি, মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ও একাধিক চেকপোস্ট। ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।