অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের কার্ড উপকারভোগীদের দেওয়ার কথা থাকলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় বিএনপি নেতাদের দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব মোর্শেদ খোকন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ সরকারসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা ভিজিএফের কার্ড পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল নিয়ম-বহিভূর্তভাবে ওই বিএনপি নেতাদের এসব কার্ড সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিএনপির যুগ। তারা (বিএনপি নেতা) কমবেশি নেবেই।’
তবে ভিজিএফর কার্ড নেওয়া নেতাদের দাবি, তারা ওইসব কার্ড উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। কিন্তু ওই কার্ডগুলো উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছেছে কি না এবং চাল পেয়েছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আজ সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পাইকুরাটি ইউনিয়নের ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাইকুরাটি ইউনিয়নে ১ হাজার ২০০ ব্যক্তির মধ্যে ১০ কেজি করে বিতরণের জন্য মোট ১২ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী উপকারভোগীদের তালিকায় অতিদরিদ্র পরিবার, বিধবা/স্বামী পরিত্যক্ত নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, দিনমজুর/কর্মহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। এ ছাড়া উপকারভোগীদের চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদনের পর ইউনিয়ন পরিষদে টানানোর নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক উপকারভোগীদের ভিজিএফ কার্ডের মধ্যে শখানেক বিএনপি নেতা মাহবুব মোর্শেদ খোকন ও হারুন অর রশিদ সরকারসহ ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতাকে সরবরাহ করেন। যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক নেতা ভিজিএফের উপকারভোগী নির্বাচন বা উপকারভোগীদের কার্ড সংগ্রহ করতে পারেন না। উপকারভোগীদের কার্ড সরবরাহের দায়িত্ব রয়েছে চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তার ওপর।
এ বিষয়ে পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম বলেন, তারা (খোকন ও হারুন) ভিজিএফের কার্ড নিয়েছেন বলে শুনেছি। তারা কার্ড নিয়ে কী করেছেন, তা আমরা জানি না। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অসহায় কারও নাম সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু কার্ড নেওয়া উচিত নয়।
পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব মোর্শেদ খোকন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ সরকার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান স্বেচ্ছায় আমাদের কার্ড দিয়েছেন। আমরা চেয়ারম্যানকে কোনো চাপ দিইনি। চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছ থেকে যারা কার্ড পাননি, আমরা তাদের কার্ড দিয়েছি। আমরা কার্ডের কোনো চাল নিইনি।
এ বিষয়ে পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, ‘বর্তমান বিএনপির যুগ। তারা (বিএনপি নেতা) কমবেশি নেবেই। শুধু খোকন ও হারুন নয়, অনেক বিএনপি নেতাকেই কার্ড দিতে হয়েছে।’
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, উপকারভোগী ছাড়া অন্য কারও হাতে ভিজিএফের কার্ড সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। ওই উপকারভোগীরা চাল না পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।