Image description

অমর একুশে বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. হুমায়ুন কবীর হিমুর প্রথম বই ‘ছোটদের ফার্স্ট এইড’। ১১টি অধ্যায়ে ৫০টির মত জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে শিশুদের উপযোগী করে সাজানো হয়েছে গ্রন্থটি। লেখক বলছেন, বিজ্ঞানসম্মত জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি জানা থাকলে শিশুরাই চিকিৎসক হিসেবে অনেকের প্রাণ রক্ষা করতে পারবে।

বইটির লেখক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিন্স) হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। ছোটদের ফার্স্ট এইড বইটি সম্পাদনা করেছে টিম ফোরসি, প্রকাশক ঐতিহ্য প্রকাশনীর ছোটদের উইন্ডো ‘কাকাতুয়া’। প্রচ্ছদ করেছেন সেলিম হোসেন সাজু। অমর একুশে বইমেলার ১১০-১১১ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। এর মলাটের দাম ২৫০ টাকা।

ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, মাঝে মাঝে রাস্তায় চলাফেরার সময় আমরা দেখি পথচারীর খিঁচুনি হচ্ছে। আমরা সবাই মিলে গোল হয়ে দেখতে থাকি। কেউ কেউ চামড়ার জুতা তার নাকে ধরি। দাঁত লেগে গেলে মুখে আঙ্গুল দিয়ে দাঁত ছুটাতে যাই। এগুলো কোনটিই কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত নয়। আবহমানকাল ধরে এগুলো চলে আসছে। তাই আমরা করি। 

তিনি বলেন, খাবার খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে খাবার আটকে গিয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও বেশ কমন। সে সময় মাথা ঠাণ্ডা রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারলে মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। কেউ পানিতে ডুবে গেলে তাকে তুলে এনে মাথার চারপাশে ঘুরানো হয়। এতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জরুরি চিকিৎসা শেখা থাকলে ডুবন্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করা যায়।

লেখক বলেন, বইটিতে এমন প্রায় ৫০টির মত জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি সম্বন্ধে আলোচনা করে হয়েছে। শিশুদের জন্য উপযোগী করে লেখা হয়েছে। সহজপাঠ্য বলে সহজেই শিশুরা জটিল চিকিৎসা পদ্ধতি শিখে ফেলতে পারবে। আমাদের শিশুদের যদি জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা শেখানো যায়, তাহলে তারা জরুরি চিকিৎসার কুসংস্কারগুলো ভাঙতে পারবে। বিজ্ঞানসম্মত জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো জানা থাকলে শিশুরাই চিকিৎসক হিসেবে অনেকের প্রাণ রক্ষা করতে পারবে। ১১টি অধ্যায়ে বইটিতে তুলে ধরেছি ফার্স্ট এইড চিকিৎসার এটুজেড। এই বইটি সবার ঘরে রাখা উচিত, কিংবা থাকা উচিৎ ব্যাকপ্যাকে।

উল্লেখ্য, ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি থানার কিশামত কেঁওয়া বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাবেয়া বেগম-আব্দুস সালাম সরকার দম্পতির ছোট সন্তান। স্থানীয় স্কুলের পাঠ চুকিয়ে নটরডেম কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে নিউরোলজি বিষয়ে এমডি পাশ করে নিউরোলজিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। স্ট্রোক চিকিৎসা ও মাথা না কেটে মস্তিষ্কের অপারেশনে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। এ বিষয়ে ফ্রান্স, জার্মানি, তুরস্ক, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

সাংবাদিকতা ও লেখালেখিতে হাতেখড়ি ছোটবেলা থেকেই। স্বাস্থ্য বিষয়ক জটিল ব্যাপারগুলো পাঠকের উপযোগী করে লিখে চলেছেন দু’যুগের বেশি। দেশের প্রথম সারির সব পত্রিকায় তার অসংখ্য লেখা ছাপা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিষয়ক টকশোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ৩ ছেলের পিতা।